বিকাশে ভুল নাম্বারে টাকা চলে যাওয়ার সমস্যা এড়ানোর উপায়

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ২ মাস আগে

বিকাশে ভুল নাম্বারে টাকা চলে যাওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। অসাবধানতার কারণে প্রায় সময় বিকাশে ভুল নাম্বারে টাকা চলে যায়। বেশিরভাগ সময় ভুল নাম্বারে টাকা চলে গেলে তা ফেরত পাওয়া যায়না। তবে একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে বিকাশে ভুল নাম্বারে টাকা চলে যাওয়ার মত সমস্যা এড়িয়ে চলা যায়। বিকাশে ভুল নাম্বারে টাকা চলে যাওয়া এড়িয়ে চলার উপায়।

এজেন্ট থেকে টাকা তোলার সময় কিংবা মার্চেন্ট পেমেন্ট করার সময় নাম্বার নিজ থেকে লেখা বোকামি বলা চলে। কেননা সকল এজেন্ট বা মার্চেন্ট পয়েন্টে কিউআর কোড থাকে, যা স্ক্যান করে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত লেনদেন এড়িয়ে চলা যায়।

আপনি যে এজেন্টের কাছ থেকে ক্যাশ আউট করবেন, সেখানে স্ক্যান করার মত কিউআর ইমেজ না থাকলে এজেন্টের কাছে কিউআর কোড চাইতে পারেন। এজেন্ট এর কাছ থেকে ক্যাশ আউট এর ক্ষেত্রে কিউআর কোড ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।

মজার ব্যাপার হলো শুধুমাত্র এজেন্ট নয়, বরং ব্যক্তিগত নাম্বারে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রেও কিউআর কোড ব্যবহার করা যায়। বিকাশ এর অন্যতম কম ব্যবহৃত ফিচার হলেও পার্সোনাল নাম্বারে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে কিউআর কোড স্ক্যান করে লেনদেন করা বেশ নিরাপদ। যাকে টাকা পাঠাবেন সে যদি আপনার সামনে থাকে, তাহলে কিউআর কোড ব্যবহার করে লেনদেন এর মাধ্যমে ভুল নাম্বারে টাকা পাঠানো এড়িয়ে চলতে পারেন।

বিকাশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে নাম্বার ম্যানুয়ালি টাইপ করা। টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে নাম্বার ম্যানুয়ালি টাইপ করার চেয়ে আগে থেকে কনটাক্ট লিস্টে নাম্বার সেভ করে রাখা শ্রেয়। কনটাক্ট লিস্টে নাম্বার সেভ করে তারপর লেনদেন করলে সেক্ষেত্রে ভুল নাম্বারে টাকা পাঠানোর কোনো সম্ভাবনাই বলতে গেলে থাকেনা।

কনটাক্ট লিস্টে নাম্বার একবার সঠিকভাবে সেভ করার পর বেশ সহজে উক্ত নাম্বারে লেনদেন করা যাবে নিশ্চিন্তে। নাম্বার আগে থেকে কনটাক্ট লিস্টে সেভ থাকলে ভুল নাম্বারে টাকা পাঠানো এড়িয়ে চলা বেশ সহজ হয়। অন্যদিকে নাম্বার নিজ থেকে টাইপ করলে সেক্ষেত্রে ভুল হওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা থাকে।

যেকোনো নাম্বারে টাকা পাঠানোর আগের অবশ্যই একাধিকবার চেক করা উচিত। কিন্তু তাড়াহুড়োর কারণে আমরা অনেক সময় কোনো নাম্বারে টাকা পাঠানোর আগে একবারের বেশি চেক করিনা। বিকাশে ভুল নাম্বারে টাকা চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই গাফিলতি বেশি হয়ে থাকে।

বিকাশে কাউকে টাকা পাঠানো হোক কিংবা এজেন্টের কাছ থেকে টাকা তোলা, অবশ্যই টাকা পাঠানোর আগে নাম্বার একাধিকবার চেক করে নিশ্চিত করা উচিত। নাম্বার একাধিকবার চেক করার মত সহজ একটি কাজের মাধ্যমে বিকাশ ভুল নাম্বারে টাকা চলে যাওয়া থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।তাই বিকাশ ভুল নাম্বারে টাকা পাঠানো এড়িয়ে চলতে হলে ম্যানুয়ালি নাম্বার টাইপ না করে কনটাক্ট লিস্ট ব্যবহার করে টাকা পাঠানো অধিক বুদ্ধিমানের কাজ।

কোনো নির্দিষ্ট নাম্বারে যদি প্রায় সবসময় টাকা পাঠানোর প্রয়োজন পড়ে, তবে উক্ত নাম্বার প্রিয় নাম্বার হিসেবে এড করা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। এতে বারবার কনটাক্ট লিস্ট থেকে উক্ত নাম্বার খুঁজে তবে টাকা পাঠাতে হচ্ছেনা। সেন্ড মানি অপশনে গেলে প্রিয় নাম্বার সবার উপরে দেখতে পাবেন যাতে এক ক্লিকেই টাকা পাঠানো যাবে।

প্রিয় নাম্বার এড করার মাধ্যমে ভুল নাম্বারে টাকা পাঠানো এড়িয়ে চলা যাবে, আবার প্রিয় নাম্বারে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু সুবিধাও পাওয়া যায়। তাই একই নাম্বারে সবসময় টাকা পাঠানোর প্রয়োজন হলে প্রিয় নাম্বারে হিসেবে উক্ত নাম্বারকে এড করতে পারেন।

নাম্বার নিশ্চিত করার সবচেয়ে সেরা মাধ্যম হলো কোনো নাম্বারে টাকা পাঠানোর আগে উক্ত নাম্বারে ফোন করে নাম্বার ঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত করা। এজেন্ট এর কাছ থেকে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে ফোন কলের মাধ্যমে নাম্বার নিশ্চিত করলেও ব্যক্তিগত লেনদেনের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি তেমন চোখে পড়েনা।

পার্সোনাল নাম্বারে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে নাম্বার ডাবল চেক না করার ফলে অধিকাংশ সময় পার্সোনাল নাম্বারে টাকা পাঠানোর সময় নাম্বার টাইপ করতে ভুল হয় ও ভুল নাম্বারে টাকা চলে যায়। তাই বিকাশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে টাকার অংক বড় হলে ফোন কলের মাধ্যমে নাম্বার নিশ্চিত করতে ভুলবেন না।

অধিকাংশ বিকাশ ব্যবহারকারী কোনো না কোনো এজেন্ট এর কাছ থেকে নিয়মিত ক্যাশ আউট করে থাকেন। ক্যাশ আউটের ক্ষেত্রে ভুল নাম্বারে টাকা চলে যাওয়া এড়িয়ে চলতে বিকাশ প্রিয় এজেন্ট নাম্বার এড করা একটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে।এতে প্রিয় এজেন্ট নাম্বারের সুবিধাসমূহের পাশাপাশি ভুল নাম্বারে টাকা পাঠানো এড়িয়ে চলা যাবে।