টিপু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্যতম পরিকল্পনাকারী ওমর ফারুকসহ চারজন গ্রেপ্তার

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ২ মাস আগে

আওয়ামী লীগের নেতা জাহিদুল ইসলাম ওরফে টিপু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্যতম পরিকল্পনাকারী ওমর ফারুকসহ (৫২) চারজনকে  গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে র‍্যাব। আসামিদের চারজনই ২০১৩ সালে হত্যার শিকার  যুবলীগ নেতা মিল্কী অনুসারী বলছে র‍্যাব। র‍্যাব বলছে, টিপুকে গুলির পর আসামিরা একজন আরেকজনকে মেসেজ দেয় ‘ইট ইজ ডান’।

আজ শনিবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম পরিচালক খন্দকার আল মঈন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ঘটনার দিন জাহিদুল ইসলামকে অনুসরণ করেছিলেন এমন ব্যক্তিও রয়েছে। 

গত ২৪ মার্চ রাতে শাহজাহানপুর এলাকার ব্যস্ত সড়কে গাড়িতে থাকা জাহিদুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তখন এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন রিকশা আরোহী কলেজছাত্রী সামিয়া আফরান জামাল। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গত রোববার রাতে বগুড়া থেকে মাসুম মোহাম্মদ আকাশকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। মাসুমই ওই দিন গুলি চালিয়েছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য।

মাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত বুধবার রাতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আরফান উল্লাহকে (দামাল) গ্রেপ্তার এবং একটি রিভলবার উদ্ধার করে। এই ঘটনায় মতিঝিল থানায় করা মামলায় গতকাল শুক্রবার আদালত আরফানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশের সন্দেহ, জাহিদুল হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র আরফান সরবরাহ করেছিলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, আসামিরা র‍্যাবকে জানিয়েছে তাঁরা হত্যাকারী ও সহযোগীকে চেনেন না। হত্যাকারীকে ভাড়া করা থেকে শুরু করে হত্যার যাবতীয় পরিকল্পনার সমন্বয়কারী মূসা। হত্যাকাণ্ডের দিন নাসির ও পলাশ এজিবি কলোনি থেকে টিপুকে অনুসরণ করেছেন। আর ওমর ফারুকও শাহজাহানপুর এলাকায় ছিলেন। টিপুর গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে মুসাকে জানিয়েছেন তাঁরা। আর মুসা সে আপডেট জানিয়েছেন হত্যাকারীদের। টিপুকে গুলির পর মুসাকে মেসেজ দেয় নাসির-‘ইট ইজ ডান’।

হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে খন্দকার আল মঈন বলেন, বছরের পর বছর ধরে টিপুর সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিসহ মতিঝিলকেন্দ্রিক রাজনীতিবিদ ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের অপরাধীদের দ্বন্দ্ব ছিল। মতিঝিল এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, স্কুল-কলেজের ভর্তি বাণিজ্য ও কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব দ্বন্দ্ব ছিল।

হত্যাকাণ্ডের আরেকটি উদ্দেশ্য সম্পর্কে খন্দকার আল মঈন বলেন, গতকাল গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দলটি ২০১৬ সালে রিজভী হাসান ওরফে ‘বোঁচা বাবু’কে হত্যা করে। বাবু ছিলেন টিপুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বাবু হত্যা মামলায় পুলিশ গতকাল গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে তিনজন ওমর ফারুক, আবু সালেহ শিকদার ও নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে। সেই মামলাটি বর্তমানে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষায় আছে। সে মামলায় অভিযোগপত্রে থাকা ব্যক্তিরা মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্যা পলাশকে সুরতহাল সাক্ষী বানায় মামলার গতিপথ পাল্টানোর জন্য।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম পরিচালক খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, ২০১৩ সালে যুবলীগ নেতা মিল্কী হত্যাকাণ্ড হয়। আসামিদের চারজনই মিল্কীর অনুসারী। তাঁরা বিশ্বাস করেন, মিল্কী হত্যাকাণ্ডে জাহিদুল ইসলাম টিপু জড়িত। মিল্কী হত্যার পরে বিচারের দাবিতে টিপুর বিরুদ্ধে পোস্টারিং, মিছিল, মানববন্ধন, আলোচনাসভা করে গতকাল গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা। পরে আদালতে টিপু অব্যাহতি পাওয়ায়, তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

খন্দকার আল মঈনের বলেন, তিন থেকে চার মাস আগে টিপু হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিকাশ প্রকাশ গ্রুপের অন্যতম কিলার সুমন শিকদার মুসার সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করে ওমর ফারুক। এর মধ্যে প্রথমে মুসাকে ৯ লাখ টাকা দেয় ওমর ফারুক। মার্চের ১২ তারিখে টাকা নিয়ে দুবাই চলে যায় মুসা।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম পরিচালক আরও বলেন, বোঁচা বাবুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করেছিল তাঁর বাবা আবুল কালাম। কিন্তু মামলার যাবতীয় খরচসহ সবকিছু দেখভাল করছিল জাহিদুল ইসলাম টিপু। আসামিরা ৫০ লাখ টাকা দিয়ে মামলার দফারফার জন্য টিপুকে প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু টিপু রাজি হননি।

গতকাল গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের দাবি, টিপুর কারণেই মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে গেছে এবং বিচার দ্রুত হচ্ছে। আসামিদের আশঙ্কা ছিল, এ মামলায় তাঁদের কারও ফাঁসি হবে। তাই মামলার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে প্রথমে মামলার বাদী আবুল কালামকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরবর্তীতে আসামিরা ভেবে দেখলেন, বাদীর পরিবর্তে টিপুকে হত্যা করলে মামলার কার্যক্রম ব্যাহত করা যাবে।

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!