প্রচ্ছদ উদ্যোক্তা

নিজে পড়তে না পারলেও পড়ার ব্যবস্থা করেছেন সবার!

20
নিজে পড়তে না পারলেও পড়ার ব্যবস্থা করেছেন সবার!
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

নিজে পড়তে না পারলেও পড়ার ব্যবস্থা করেছেন সবার!

মানিকগঞ্জে সবার জন্য উন্মুক্ত ১০ হাজার বইয়ের এক পাঠাগার গড়ে তুলেছেন রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। নিজ উদ্যোগে এসব বই সংগ্রহ করে গড়ে তুলেছেন ‘রোহান পাঠাগার’। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে পাঠাগারটি। এলাকার বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ এখানে এসে বই পড়েন।

এই পাঠাগারের ১০ হাজার বইয়ের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের দলিল ১৫ খণ্ড, রবীন্দ্র রচনাবলী ১৮ খণ্ড, নজরুল রচনাবলী ১২ খণ্ড এবং লালন সমগ্র। এছাড়া আছে কুরআন, হাদিস, রামায়ণ, মহাভারত, বেদ, বাইবেল, ইঞ্জিলসহ ১ হাজার ধর্মীয় বই। শিশু-কিশোরদের জন্য কিশোর সমগ্র, নারীদের জন্য রান্না ও রূপচর্চার বই আছে। আইনজীবী ও সাংবাদিকদের জন্য আছে আইন ও সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতার বই। কবিতা, গান, বিজ্ঞানী, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও মনীষীদের জীবনী নিয়ে লেখা বইও আছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাটে ২০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ২০ ফুট প্রস্থের একটি দু’তলাবিশিষ্ট টিনের ঘরে এই পাঠাগার গড়ে তুলেছেন রফিকুল ইসলাম। ২০০৬ সালের জুন মাসে এই পাঠাগার গড়ে তুলেন তিনি। একমাত্র ছেলে রাইসুল ইসলাম রোহানের নামে পাঠাগারটির নাম রেখেছেন রফিকুল।

আরও পড়ুন:  খামার থেকে গৃহবধুর আয় ৬ লক্ষ টাকা!

রফিকুল ইসলাম বলেন, একটি আদর্শ সমাজ গড়তে হলে প্রয়োজন আদর্শ নাগরিক। আদর্শ নাগরিক হতে একজনকে অবশ্যই মনীষীদের জীবনী পড়তে হবে। সংগ্রামী ও বিপ্লবী মানুষের চলার পথ অনুসরণ করতে হবে। স্বপ্ন দেখতে হবে। এজন্য পাঠাগারের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, কিশোর ও যুবকরা যদি পাঠাভ্যাস করতে পারে, তবে তারা খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সমাজের সার্বিক কল্যাণে নিজেকে আত্মনিয়োগ করবে তারা। এতে সমাজের গুণগত পরিবর্তন হবে।

মানিকগঞ্জ জেলা পুস্তকবিক্রেতা সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, রোহান পাঠাগার থাকায় এলাকার মানুষ সহজে বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। সমাজে অনেক সম্পদশালী আছে। কিন্তু এমন উদ্যোগ নেননি তারা। অথচ রফিকের মতো দরিদ্র ব্যক্তি ১০ লাখ টাকার বই কিনেছে, যার নিজের সংসার চলে না। এটা এই সমাজের জন্য একটি উদাহরণ। জেলা প্রশাসক মো. নাজমুছ সাদাত সেলিম বলেন, রফিকুল ইসলামের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তার এই পাঠাগার করার মধ্য দিয়ে সমাজের কুসংস্কার দূরীভূত হবে। সমাজের মানুষ সুফল পাবে।

আরও পড়ুন:  ৫০ হাজার টাকায় শুরু করা গরু-ছাগলের খামারে চার যুবকের ভাগ্য বদল!

রফিকুল ইসলাম শিবালয় উপজেলার শিবালয় গ্রামের উকিল উদ্দিনের তিন ছেলের মধ্যে বড়। তার জন্ম ১৯৭৮ সালে। ১৯৯৩ সালে এসএসসি পাস করেন তিনি। টাকার অভাবে তিনি এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি। ছাত্রজীবনে নাট্যচর্চা ও স্কাউটের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। বেশ কয়েকটি নাটকেও অভিনয় করেছেন রোহান পাঠাগারের এই প্রতিষ্ঠাতা।

ছোটবেলা থেকে রফিকুল ইসলামের ইচ্ছা ছিল সমাজের জন্য কিছু করা। পাঠাগার গড়া ছাড়াও জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তার সেই ইচ্ছা অনেকাংশে পূরণ হয়েছে। শিবালয় মডেল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো মেম্বার নির্বাচিত হন রোহান পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র: আরটিভি অনলাইন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares