৯৯৯–এ ফোন করে সহায়তার পরিবর্তে উল্টো নির্যাতনের অভিযোগ

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ১ মাস আগে

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চেয়েছিল পরিবারটি। কিন্তু সহায়তার পরিবর্তে উল্টো ওই পরিবারের তিন সদস্য পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁরা যাঁদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছিলেন, তাঁদের করা ‘মিথ্যা’ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এক সপ্তাহ ধরে কারাবন্দি পরিবারটির একজন সদস্য।

পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শাহ ইফতেখার আহমেদ আজ শনিবার বলেন, মামলার আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে যাত্রাবাড়ী থানার তিন পুলিশ সদস্য অপেশাদার আচরণ করেছেন। তাঁদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার বিবির বাগিচা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় অপেশাদার আচরণের দায়ে যাত্রাবাড়ী থানার তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি এক আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে পুলিশ। ঘটনা তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) কামরুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সাময়িকভাবে বরখাস্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিশ্বজিৎ সরকার, কনস্টেবল মো. শওকত আলী ও নবনীতা বনসেন। এ ছাড়া তাঁদের সঙ্গে দায়িত্বরত আনসার সদস্য সুমন দেবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে তাঁকে বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য শিল্পী আক্তার বলেন, প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বাসা থেকে বের হওয়ার রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। গত ৮ এপ্রিল দেয়াল বানিয়ে রাস্তা বন্ধ করার চেষ্টা করা হলে তাঁরা বাধা দেন। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে নুরুল ইসলামের লোকজন সেখানে দেয়াল তৈরি করছিলেন। বাধা দিলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।

এ সময় ৯৯৯–এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চেয়েছিলেন জানিয়ে শিল্পী আক্তার বলেন, ‘পর পর তিন দফা জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করেছিলাম। কিন্তু পুলিশ সহায়তা না করে নুরুল ইসলামের পক্ষ নিয়ে আমার বাবা আবুল খায়ের, বড় ভাই ইউসুফ হোসেন ও বোন হালিমা আক্তারের নামে হত্যাচেষ্টার মামলা করে। সাজানো মামলায় পুলিশ আমার বাবা,ভাই ও বোনকে ধরতে এসে মারধর করেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে নুরুল ইসলামের লোকজন তাঁদের মারধর করে। মিথ্যে মামলায় আমার ভাই এক সপ্তাহ ধরে জেল খাটছেন।’

রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণ ও মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই জায়গায় আগেই দেয়াল ছিল। আট থেকে নয় বছর আগে আবুল খায়ের দেয়ালটি ভেঙে রাস্তা তৈরি করে। ঘটনার দিন আমরা সেখানে পুনরায় দেয়াল তৈরি করতে গেলে তাঁরা (আবুল খায়ের ও তাঁর লোকজন) আমাদের ওপর হামলা করে। পরে আমি থানায় মামলা করেছি।’

আবুল খায়েরের বাসায় পুলিশের নির্যাতনের ঘটনা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা গেছে, যাত্রাবাড়ী থানার কনস্টেবল নবনীতা বনসেন লাঠি দিয়ে এক নারীর হাতে একের পর এক বাড়ি দিচ্ছিলেন। ওই নারীর গলা টিপে ও চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে নির্যাতন করতে থাকেন তিনি। চুল ধরে হেঁচকা টানও দিতে দেখা যায় তাঁকে। আর পুলিশের অভিযুক্ত এসআই বিশ্বজিৎ সরকার ও কনস্টেবল শওকত মিলে ওই বাসার দুই পুরুষ সদস্যকে মারধর করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে নিয়ে যান।

শিল্পী আক্তার অভিযোগ করেন, ওই দিন তাঁদের বাসার পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন হামলাকারীরা। এতে তাঁরাসহ ১৬টি ভাড়াটে পরিবার চরম দুরবস্থার মধ্যে পড়েন। আজ সকালে পানির সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আর দেয়াল আংশিক ভেঙে চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছে পুলিশ।ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এই রাস্তা নিয়ে ২০০৪ সাল থেকে নুরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁদের দ্বন্দ্ব চলছে। রাস্তা বন্ধ করে তাঁদের বাড়িছাড়া করতে চান নুরুল ইসলাম। তাঁর লক্ষ্য বাড়িটি দখল করা।

রাস্তা নিয়ে বিরোধ থেকে আবুল খায়ের ২০১৯ সালে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন। সেই মামলায় কিছুদিন জেল খেটেছিলেন নুরুল ইসলাম।মিথ্যা মামলার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপকমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ বলেন, আবুল খায়েরের পরিবার ঘটনার দিন সকাল ১০টার দিকে ৯৯৯–এ ফোন করে সহায়তা চায়।পুলিশ গিয়ে তাঁদের সহায়তা করে। পুলিশ চলে আসার পর দুই পক্ষের মারামারি হয়। এ ঘটনায় বেলা ১২টার দিকে মামলা করা হয়। ওই মামলায় পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে গিয়ে অপেশাদার আচরণ করে।