ঢাকা-বরিশাল নৌপথে ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে মোট ১০ দিন বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ১ মাস আগে

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে মোট ১০ দিন বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ করেছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। যে চ্যানেল ধরে যাত্রীবাহী নৌযানগুলো চলাচল করে ওই চ্যানেলে জেলেরা জাল ফেলতে পারবেন না এই সময়ে।অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কোনো নৌযানকে নদীবন্দর ত্যাগ করতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দার।

তিনি বলেন, টিকিট কালোবাজারিসহ মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি ও পকেট মারদের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধে নৌবন্দরে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম।গতকাল মঙ্গলবার বরিশাল জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ঈদুল ফিতরে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল নিরাপদ করতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

নৌযান চলাচলকে নিরাপদ করার জন্য সভায় ঈদের আগের ৫ দিন এবং পরের ৫ দিন মিলিয়ে মোট ১০ দিন ঢাকা-বরিশাল নৌপথে বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সময়ের জন্য ঢাকা-বরিশাল নৌপথের কোথাও জাল ফেলা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দুই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন এবং নৌপুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দীন হায়দারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়াও জেলা প্রশাসন, জেলা-মহানগর ও নৌপুলিশ, নৌযাত্রী পরিবহন সংস্থা এবং নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

সভায় জানানো হয়, করোনার প্রকোপ কমে আসায় এ বছর ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহর থেকে দক্ষিণাঞ্চলে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামবে। নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর বাড়তি নিরাপত্তা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তবে বিশেষ সার্ভিস চালুর বিষয়ে সুন্দরবন নেভিগেশনের পরিচালক ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, গার্মেন্টস ছুটি না হলে বিশেষ সার্ভিস চালু করা সম্ভব নয়।বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঈদের সময় যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সেজন্য বরিশাল নৌবন্দরের গ্যাংওয়েগুলো মেরামত করা হচ্ছে। টার্মিনালের অভ্যন্তরে যাত্রীদের নিরাপত্তার নিশ্চিত করা হবে। 

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চ মালিকদের প্রতি সভা থেকে ২৭ এপ্রিল থেকে বিশেষ সার্ভিস চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ এ বছর ঈদে কর্মজীবী মানুষ স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঘরে ফিরবেন। গত দুই বছর করোনার কারণে তা সম্ভব হয়নি।