যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হলো পবিত্র জুমাতুল বিদা

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার পবিত্র জুমাতুল বিদা পালন করেছেন দেশের মুসলিম সম্প্রদায়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং শান্তি কামনা করে দোয়া ও মৃত ব্যক্তিদের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমাতুল বিদা উপলক্ষে নামাজের পর বিশেষ মোনাজাত হয়। নামাজের আগে জুমাতুল বিদার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে দেশ-জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের মুসলমানদের রক্ষায় দোয়া করা হয় এবং ঈদে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

প্রতি শুক্রবার বা জুমার দিন সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে ধর্মীয় বিবেচনায় বিশেষ দিন। তবে পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার ‘জুমাতুল বিদা’ তাঁদের জন্য অতি মূল্যবান। এই দিন আল-কুদস দিবস হিসেবেও পালন করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।‘জুমাতুল বিদা’য় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মহান আল্লাহর কাছে মাগফিরাত কামনা করেন।

এদিন মসজিদে মসজিদে আজানের আগে থেকেই মসজিদে ভিড় করতে শুরু করেন মুসল্লিরা। মসজিদের ভেতরে জায়গা না পেয়ে মসজিদ চত্বরে ও রোদের দাবদাহ উপেক্ষা করে সড়কে জায়নামাজ পেতে নামাজ আদায় করেন অনেকে।রমজান মাসের শেষ জুমার দিন মুসলিম বিশ্বে ‘জুমাতুল বিদা’ হিসেবে পালন করা হয়। প্রতিবারের মতো এবারো বাংলাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এটি পালিত হলো।

জুমাতুল বিদা উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের মসজিদগুলোতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি নামাজে অংশ নেন। শত শত মুসল্লি মসজিদে জায়গা না পেয়ে রাস্তায় জায়নামাজ, খবরের কাগজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করেন।বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব মাওলানা রুহুল আমিন বিশেষ মোনাজাত করেন। তিনি দেশের কল্যাণ এবং বিশ্ব মুসলিমের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন।জুমাতুল বিদা মূলত রমজান মাস শেষ হয়ে যাওয়ার সতর্কতামূলক একটি দিবস।

শবে কদর উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম মসজিদে গতকাল এশার নামাজের পর শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা হয়। পরে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ হিল বাকী।এ ছাড়া গতকাল তারাবিহর নামাজের পর মসজিদে মসজিদে হয় ওয়াজ মাহফিল। প্রায় সব মসজিদে তারাবিহর নামাজে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের খতম সম্পন্ন হওয়ায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।

মুসলমানদের কাছে দিনটির তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য অনেক বেশি। রমজান মাসের সর্বোত্তম দিবস হলো জুমাতুল বিদা; যা মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার পালিত হয়। আগের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার পবিত্র শবে কদরে মুসল্লিরা মসজিদে, বাসায়, ইবাদতখানায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির–আজকার করেন। অনেকে রাতে মা–বাবা, আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত করে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।