এডিস মশা নির্মূলে ঝুঁকিপূর্ণ চিরুনি অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ডিএসসিসি

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা নির্মূলে ঝুঁকিপূর্ণ সাতটি ওয়ার্ডে চিরুনি অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থার মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এই ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সাতটি ওয়ার্ডকে উচ্চ ও মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জোরালো কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেসব ওয়ার্ডে ১০ থেকে ১২ মে পর্যন্ত বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে।

রোববার বিকেলে দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়, সংস্থার প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে নিয়মিত পাক্ষিক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় মেয়র স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছেন।  

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বর্ষাপূর্ব জরিপ (প্রি-মনসুন সার্ভে) অনুযায়ী দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৮, ৪০ ও ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড উচ্চ এবং ১৩, ১৫, ২১ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডকে মধ্যম মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।এ সময় দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ তাপস বলেন, ‘বর্ষাকালে এডিস মশার বংশবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর সংক্রমণও বৃদ্ধি পায়।

সে জন্য বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে যে সাতটি ওয়ার্ডকে উচ্চ ও মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেসব ওয়ার্ডে মশা নিয়ন্ত্রণ ও নিধন কার্যক্রমে আরও বেশি জোর দিতে হবে। তদারকি বাড়াতে হবে।’

মেয়র শেখ তাপস বলেন, অভিযানের সময় একটি ওয়ার্ডে সকালে ১৩ জন মশকনিধনকর্মী লার্ভিসাইডিং ও বিকেলে ১৩ জন কর্মী অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। অন্যান্য সময়ে সকালে ৭ জন মশকনিধনকর্মী লার্ভিসাইডিং ও ৬ জন কর্মী অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বিশেষ এই অভিযান করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদারকি করবেন বলেও জানান তিনি।

জনসচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত দুরূহ উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। এ ছাড়া এডিস মশার প্রজননস্থল শুধু বাড়ির চারপাশ ও আঙিনায় নয়, বাড়ির অভ্যন্তরেও সৃষ্টি হতে পারে। সে জন্য জনসচেতনতার বিকল্প নেই। তাই এডিস মশার সংক্রমণ রোধ করতে হলে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে, তাদের সচেতন করতে হবে।’

পাক্ষিক পর্যালোচনা সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, সচিব আকরামুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফজলে শামসুল কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।