যুক্তরাষ্ট্রে শতাধিক শিশুর শরীরে রহস্যজনক ও গুরুতর যকৃতের সমস্যা শনাক্ত

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

যুক্তরাষ্ট্রে শতাধিক শিশুর শরীরে রহস্যজনক ও গুরুতর যকৃতের সমস্যা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোসহ বিশ্বের ২০টি দেশে প্রায় ৩০০ শিশুর শরীরে সম্ভাব্য গুরুতর হেপাটাইটিস শনাক্ত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে যকৃতের টিস্যুর প্রদাহকে হেপাটাইটিস বলা হয়। করোনা মহামারির পর অ্যাডেনোভাইরাস নামক একটি সাধারণ ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েছে। ওই ভাইরাসটি থেকে রহস্যময় ধরনের হেপাটাইটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

রোগ-ব্যাধি বিষয়ক শীর্ষ মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) রহস্যজনক এই হেপাটাইটিস সম্পর্কে সতর্ক করার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪টি রাজ্যে এই হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য মিলেছে।মার্কিন চিকিৎসাবিদরা এই রোগ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন।

গত শুক্রবার সিডিসির গবেষক জে বাটলার বলেন, ‘কী কারণে এই অসুস্থতা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। অসুস্থ শিশুদের অর্ধেকের শরীরে অ্যাডেনোভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। কিন্তু আমরা নিশ্চিত না, এটাই অসুস্থতার কারণ কি না। ’অ্যাডেনোভাইরাসের বেশ কয়েকটি ধরন রয়েছে। এর মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে সর্দি, জ্বর, গলা ব্যথা ও চোখ গোলাপি হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

আবার কয়েকটি ধরনে পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহসহ অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো ভাইরাস এ, বি, সি, ডি এবং ই নামে পরিচিত। এসব ভাইরাসের কোনোটিই নতুন এই হেপাটাইটিসে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে শনাক্ত করা যায়নি।

সাধারণত ভাইরাসের বিস্তার না ঘটা পর্যন্ত হেপাটাইটিসের কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না। তবে বিস্তার ঘটলে যকৃতের প্রদাহ, জ্বর, ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, পেটের ব্যথা, গাঢ় মূত্র, ফ্যাকাশে রঙের মল, গাঁটে ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হওয়া শিশুদের বেশিরভাগের বয়স তিন বছরের কম। এদের মধ্যে প্রায় সব শিশুকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আটজনের যকৃৎ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।  গত নভেম্বরে অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা প্রথমবারের মতো গুরুতর হেপাটাইটিস পরীক্ষার জন্য ৯টি শিশুর নমুনা সংগ্রহ করেন। তখন থেকেই রহস্যের সূত্রপাত।

যে ভাইরাসের কারণে সাধারণত হেপাটাইটিস হয়, পরীক্ষায় শিশুদের শরীরে সেই ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। বরং শনাক্ত হয় অ্যাডেনোভাইরাস।সিডিসির জে বাটলার বলেন, ‘ওই শিশুদের কাউকেই কভিড টিকা দেওয়া হয়নি। তাই কভিড টিকার কারণে এই রোগের বিস্তার ঘটার বিষয়ে অনলাইনে যেসব জল্পনা-কল্পনা চলছে, তা ভুল। ’