প্রচ্ছদ বিশ্ব সংবাদ ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেয়া হবে না

ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেয়া হবে না

76
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। ইসরাইলপন্থী খ্রিষ্টানদের এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এমন সময়ে তিনি এ মন্তব্য করলেন যখন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ক্রিস্টিয়ানস ইউনাইটেড ফর ইসরাইলের (সিইউএফআই) সম্মেলনে দেয়া ভাষণে মাইক পেন্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষতিকর প্রভাবের বিরোধিতা চালিয়ে যাবে। আমেরিকা কখনো তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না।

এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিরোধের জেরে পশ্চিমা দুনিয়ার সাথে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে ইরানের আংশিক সরে আসায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ ঘটনায় অবিলম্বে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য পরাশক্তিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রোববার ইসরাইলের মন্ত্রিসভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

ঐতিহাসিক পরমাণু সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় তেহরান। ৭ জুলাই থেকে এটি কার্যকরের কথা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, তেহরানের এভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের একটাই উদ্দেশ্য। আর তা হচ্ছে পারমাণবিক বোমা তৈরি করা। অথচ পশ্চিমা নেতারা এই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের হার বাড়ানো মাত্রই দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের অঙ্গীকার করেছিলেন।

আরও পড়ুন:  হরমুজ প্রণালীতে ব্রিটিশ তেল ট্যাংকার আ*টকের দুঃসাহসিক অভিযানের ভিডিও প্রকাশ ইরানের

অন্য দিকে তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ার পর দেশটির গতিবিধি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। জাতিসঙ্ঘের সহযোগী সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের চুক্তি থেকে সরে এসে তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আইএইএ সজাগ রয়েছে। ইরানে থাকা সংস্থাটির পরিদর্শকরা শিগগিরই তাদের পর্যালোচনা প্রতিবেদন পাঠাবেন। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় সংস্থার সদর দফতরে এ রিপোর্ট পাঠানো হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিরোধের জেরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৫ শতাংশে উন্নীতের ঘোষণা দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পরমাণু চুক্তির প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে ইরান। ছয় বিশ্বশক্তির সাথে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে এই মাত্রা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি ছিল তেহরানের। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ইউরোপকে ৬০ দিনের বেঁধে দেয়া সময় শেষ হওয়ার পর এই ঘোষণা এলো।

ক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স
ক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স

চুক্তি রক্ষায় তেহরানের অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে ইরানি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি অভিযোগ করেছেন, ইউরোপ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে ইরানকে রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে প্রতি ৬০ দিন পর পর নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে কিছুটা সরে আসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এমন ঘোষণা এলো।

আরও পড়ুন:  সামরিক শক্তিতে শক্তিশালী ৭ মুসলিম দেশ

২০১৫ সালের জুনে ভিয়েনায় ইরানের সাথে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্যরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানির স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তেহরান। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৮ সালের নভেম্বরে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয়। এ দিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এ সমঝোতা বাস্তবায়নের কথা মুখে বললেও কার্যত তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালনে ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে এ বছরের মে মাসে তেহরান চুক্তি থেকে আংশিক সরে আসার ঘোষণা দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। সেই সময়সীমা শেষে নতুন করে চুক্তির প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার ঘোষণা এলো।

সূত্র : আনাদোলু ও এপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট: