নোয়াখালীতে এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

নোয়াখালীতে এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর চাটখিল পৌর এলাকায় এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে (৩০) ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে পৌরসভার ভীমপুর মহল্লা থেকে আবু বকর ছিদ্দিক উল্যা (৩০) নামে অভিযুক্ত ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে চাটখিল থানা পুলিশ।

জানা যায়, চাটখিল পৌরসভার ভীমপুর মহল্লার বাসিন্দা আবু বক্কর ছিদ্দিক উল্যা ২০২০ সালে ওই গৃহবধূকে কৌশলে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ এবং ওই ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলফোনে ধারণ করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় ধর্ষক গৃহবধূকে ওই ভিডিও দেখিয়ে তার স্বামী-স্বজনদের এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

গ্রেপ্তার যুবক ওই মহল্লার মৃত আবুল হাসেমের ছেলে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে রোববার সন্ধ্যায় চাটখিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই লিখিত অভিযোগটি ধর্ষণ মামলা হিসাবে নথিভুক্ত করে অভিযান চালিয়ে ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে।

২০২১ সালে বিদেশ চলে যাবে এবং ওই ধর্ষণের ভিডিও নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করবে না বলে জানিয়ে গৃহবধূর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এর পর সে প্রবাসে চলে যায়। প্রবাসে যাওয়ার ৭ থেকে ৮ মাস পর এলাকায় এসে ধর্ষক ওই গৃহবধূর কাছে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করে বলে, ‘সে আমেরিকায় চলে যাবে। টাকা না দিলে সে ভিডিও ছড়িয়ে দেবে।’

সংসার টেকানোর জন্য এবং আত্মীস্বজনের কাছে মানসম্মান রক্ষার্থে গৃহবধূ প্রতারক ধর্ষককে নগদ ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালংকার বিক্রি করে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেন। অবশিষ্ট ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ওই গৃহবধূ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ধর্ষক তার সঙ্গে থাকা অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ইমোতে তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দিলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

একপর্যায়ে স্বামীর জিজ্ঞাসাবাদে গৃহবধূ ঘটনাটি খুলে বলেন। এরপর গৃহবধূর স্বামী বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করলে ধর্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। ওই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সকালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে গৃহবধূর স্বামীর ওপর হামলা করে আহত করে এবং তার সাথে থাকা স্বর্ণের চেইন ও মোবাইলফোন নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে রোববার রাতে আবু বক্কার ছিদ্দিক উল্যাকে আসামি করে চাটখিল থানায় মামলা দায়ের করেন।

চাটখিল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এএনএম সাইফুল আলম খান বলেন, ওই গৃহবধূর সঙ্গে গ্রেপ্তার যুবকের পূর্বের সম্পর্কের জের ধরে তাকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে। ধর্ষকের দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সে ইমোর মাধ্যমে গৃহবধূর অশ্লীল ভিডিও ও ছবি তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেয়।

পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গিয়াস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গৃহবধূর দায়ের করা মামলায় রোববার রাতে ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।