৯ বছরের শিশুকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি খালুর

৯ বছরের শিশুকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি খালুর

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় মোকারম মিয়া নামে ৯ বছরের শিশুকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে পাঁচ দিন ধরে আত্মগোপনে আছেন তার খালু। এখন ওই ব্যক্তি শিশুটির পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ৬০ হাজার টাকা দাবি করছেন। টাকা না দিলে খুন করে লাশ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

শিশুটির পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিন মাস আগে মোকারম মিয়ার খালা ভাইগন্তি বেগমকে বিয়ে করেন বাবু মিয়া। বিয়ের পর মোকারমের পরিবারের সঙ্গে বাবুর পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত শনিবার প্রথম বারের মতো ভৈরবে মোকারমদের বাড়িতে আসেন বাবু।

মোকারমকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর আর ফিরে আসেননি। ওই দিন সন্ধ্যায় বাবু মিয়া নিজেই মোকারমের পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে জানান, মোকারমকে তিনি অপহরণ করেছেন। জীবিত পেতে হলে ৬০ হাজার টাকা দিতে হবে।

ওই দিন বিকেলে মোকারমের পরিবারের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পাঠিয়ে অনুরোধ করা হয় শিশুটির ক্ষতি না করার। সর্বশেষ বাবু ফোন দেন আজ বুধবার সকালে। ফোন দিয়ে টাকা চান তিনি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা দিতে না পারলে মোকারমের লাশ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ফোন কেটে দেন বাবু মিয়া। মোকারমের খালার ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং তাঁর অবস্থানও শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

আজ বুধবার সকালে ভৈরব থানায় এই অভিযোগ করেছেন শিশু মোকারমের বড় ভাই রুবেল মিয়া। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বাবু মিয়া। তিনি মুন্সিগঞ্জ শহরের বাসিন্দা। স্ত্রীকে নিয়ে বাবু বসবাস করেন ঢাকায়।মোকারমের বাবার নাম রহমত উল্লাহ। পেশায় তিনি কৃষক। বাড়ি ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের কামারকান্দা গ্রামে।

শিশুটির বড় ভাই বলেন, অপহরণকারী ব্যক্তি তাঁদের পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। সেই কারণে প্রথমে চেয়েছিলেন নিজেদের মধ্যে কথা বলে সমস্যার সমাধান করার। সেই অপেক্ষার কারণে থানায় দেরিতে অভিযোগ করেছেন।অভিযোগটি তদন্ত করছেন ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহ আলম।

তিনি বলেন, নানা প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের কাছে ধরা পড়বেন এবং পরিবারের সদস্যরা অপহৃত শিশুটিকে ফিরে পাবেন বলে আশা করছেন তাঁরা।মুঠোফোন বন্ধ থাকায় অভিযুক্ত বাবু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।