কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ১৩ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ১৩ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগী শিশুটি ও তাঁর বাবা জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি। গ্রেপ্তার হায়দার আলী (৫০) পাঁচবিবি উপজেলার বিনশিরা গ্রামের বাসিন্দা।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির বাবা বলেন, ‘হায়দার আলীর সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের সম্পর্ক। সে আমার বাড়িতে এসে আমাকে ও মেয়েকে কোমল পানীয় খাওয়ায়। এরপর আমরা কখন ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতে পারিনি। হায়দার আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে।’

জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আশিক আহমেদ বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে হাসপাতালে ভর্তির বর্ণনায় উল্লেখ আছে। তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি জানা যাবে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার শিশুটির মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে যান। শিশুটি ও তাঁর বাবা বাড়িতে ছিলেন। রাত আটটার দিকে শিশুটির বাবার বন্ধু হায়দার আলী কোমল পানীয় ও দুই প্যাকেট খাবার স্যালাইন নিয়ে তাঁদের বাড়িতে আসেন। হায়দার আলী কোমল পানীয় তাঁর বন্ধু ও বন্ধুর মেয়েকে খাওয়ান। এরপর বাবা ও মেয়ের চোখে ঘুম ঘুম ভাব আসায় তাঁরা নিজ নিজ কক্ষে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকেও তাঁরা ঘুম থেকে ওঠেননি। তাঁদের সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা খোলা। হায়দার আলীকেও ওই বাড়ি থেকে বের হতে দেখেন প্রতিবেশীরা। ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখেন ওই শিশু ও তাঁর বাবা আলাদা কক্ষে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।

এরপর হায়দার আলীকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন গ্রামবাসী। শিশুটি ও তার বাবাকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁরা। আজ শুক্রবার শিশুটির বাবা থানায় একটি এজাহার পাঠান। পুলিশ এজাহারটি মামলা হিসেবে রের্কড করে আটক হায়দার আলীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব বলেন, বাবা-মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শিশুটির বাবা থানায় এজাহার পাঠিয়েছেন। পুলিশ এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করেছে। অভিযুক্ত হায়দার আলীকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।