ঢাবি’র এফ রহমান হলের সামনে যৌন হয়রানির শিকার এক তরুণী, বখাটেকে খুঁজছে পুলিশ

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের ফটকের সামনে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক তরুণী। তিনি জানিয়েছেন, হয়রানির সময় মোটরসাইকেলে থাকা ওই বখাটে ব্যক্তির মাথায় হেলমেট ছিল। এ ঘটনায় ওই তরুণী রাজধানীর শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে এখন ওই হেলমেটধারীকে খুঁজছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী তরুণী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ধানমন্ডিতে ভাইয়ের বাসা থেকে রিকশায় করে আমি পুরান ঢাকায় নিজের বাসায় যাচ্ছিলাম। আমার হাতে মুঠোফোন ও কানে হেডফোন ছিল। আমার গলায় কোনো ধরনের গয়না ছিল না। এ এফ রহমান হলের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেল আসে।

আমার কানে হেডফোন এবং ব্যক্তিগত কিছু বিষয় নিয়ে বিষণ্ন থাকায় অন্য কোনো দিকে আমার মনোযোগ ছিল না। মোটরসাইকেলে থাকা হেলমেটধারী ওই ব্যক্তি হঠাৎ এক হাত মোটরসাইকেলে রেখে অন্য হাতে বাঁ পাশ থেকে আমার গায়ে হাত দেয়। জোরে টান দেওয়ার কারণে আমার জামাটা ছিঁড়ে যায়। তখন আশপাশে অনেক মানুষ ছিলেন। আমি চিৎকার করলেও কেউ সেভাবে খেয়াল করেননি।’

ভুক্তভোগী তরুণী একটি এফএম রেডিও স্টেশনের রেডিও জকি হিসেবে কর্মরত। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে তিনি যৌন হয়রানির শিকার হন। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগটি পুলিশ মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় ওই তরুণীর করা অভিযোগটি গতকালই মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার। আজ শুক্রবার তিনি বলেন, ওই তরুণীর অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আসামি হেলমেট পরা ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ওই তরুণীর ভাষ্যমতে, ‘যৌন হয়রানির পর চলে যাওয়ার সময় ওই বখাটে ব্যক্তি খুব রাগ নিয়ে আমাকে কিছু বলতে বলতে যাচ্ছিল। কানে হেডফোন থাকায় আমি কিছুই সেভাবে বুঝতে পারিনি। হেলমেট পরা থাকলেও আমি ওই বখাটে ব্যক্তির চেহারা দেখেছি। তাকে দেখলে আমি চিনতে পারব। মানসিকভাবে বিষণ্ন থাকায় তাঁর মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটটিও খেয়াল করিনি। তবে পুলিশ আমাকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করছে।’