খালেদা জিয়ার হার্টে ব্লক, তাৎক্ষনিক রিং পড়ানো হয়েছে

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হার্টে কয়েকটি ব্লক ধরা পড়েছে। অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর আজ দুপুরে তার এনজিওগ্রাম করা হয়। তাতে কয়েকটি ব্লক ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে রিং পরানো হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়েছে। তার হার্টে বেশ কয়েকটি ব্লক ধরা পড়ে। তার মধ্যে একটি ব্লক ছিল ৯৫ শতাংশ। সেটিতে রিং পরানো হয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ৭৭ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাকে সিসিইউতে (ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট) রাখা হয়।বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। 

গুলশানের বাসা ফিরোজায় শুক্রবার মধ্যরাতে খালেদা জিয়া হঠাৎ অসুস্থবোধ করেন। রাত ২টা ৫৫ মিনিটে গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে তাঁকে নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। রাত সোয়া ৩টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে অধ্যাপক ডাঃ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয়। ওই সময় তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, হার্ট, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিল রোগে ভুগছেন। গতবছর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে বেশ ক’দফা এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

সর্বশেষ ৬ এপ্রিল এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা, ইমেজিং, ব্লাড ও ইউরিন টেস্ট, লিভার ফাংশন টেস্ট, কিডনি ফাংশন টেস্ট, হার্টের টেস্টসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করান। এরপর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা চিকিৎসা ব্যবস্থায় সামান্য পরিবর্তন আনেন। তবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন নতুন করে কোন সমস্যা হয় কি না। এতদিন তেমন কোন সমস্যা না হলেও শুক্রবার রাতে খালেদা জিয়ার হার্টে সমস্যা দেখা দেয়।

প্রায় ৭৭ বছর বয়সী খালেদা জিয়া এর আগে গতবছর ১৩ নবেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ৮১দিন চিকিৎসা নেন। তখন হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তিনি সিসিইউতে ছিলেন। এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের অধীনে তাঁর চিকিৎসা হয়।

শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ৯ জানুয়ারি তাঁকে সিসিইউ থেকে ক্যাবিনে নেয়া হয়। ৮১ দিন হাসপাতালে থাকার পর এ বছর ১ ফেব্রুয়ারি গুলশানের বাসায় যান খালেদা জিয়া। এভারকেয়ারের চিকিৎসকরা আরও কিছুদিন হাসপাতালে রাখতে চাইলেও খালেদা জিয়ার ইচ্ছায় তাঁকে বাসায় ফেরার অনুমতি দেয়া হয়।