বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের বাধার পর নেতা-কর্মীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের বাধার পর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া দলীয় নেতা-কর্মীদের ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। একই সময় উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. কামাল হোসেনের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়।

সেখানে কিছু চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।সমাবেশ শেষে দলীয় নেতা-কর্মীরা ফিরে যাওয়ার সময় জিরো পয়েন্ট, পুরোনো থানার সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সদস্য বেলায়েত হোসেন, কবিরহাট পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান, বাটইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম হায়াত শাকের, ইসমাইল হোসেন, আবদুল বাকের ওরফে হিরণের নাম জানা গেছে। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার বিকেলে কবিরহাট জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি দেয় উপজেলা বিএনপি। সে অনুযায়ী বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কবিরহাট পূর্ব বাজার (বসুরহাট সড়ক) বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি জিরো পয়েন্টে যাওয়ার পথে কয়েক শ গজ সামনে আসার পরই পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় বিএনপির কর্মীরা পেছনে ফিরে এসে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জানান, দফায় দফায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার পর ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল নিয়ে কবিরহাট বাজারসংলগ্ন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামাল হোসেনের বাড়িতেও হামলা চালিয়েছেন।

সেখানে বাড়ির সামনে রাখা অন্তত ৬০টি প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। কামরুল হুদা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলায় বাড়ির নারী-পুরুষ ও শিশুরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু ঘটনার সময় পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে বলা হয়েছিল। তারা তা করেনি। পরে ছাত্রলীগও একটি মিছিল বের করে। তবে বিএনপির কারও ওপর হামলার ঘটনা ঘটেনি। আর বিএনপি নেতার বাড়িটি বাজারসংলগ্ন, সেখানে কীভাবে চেয়ার ভাঙচুর হয়েছে, ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ দেখেনি। হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচির নামে হট্টগোল করার চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এ সময় তাঁরা আমাদের দেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় দু-একজন সামান্য আহত হতে পারেন। তবে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়নি।’