বগুড়ায় শ্বশুরালয়ে এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার

বগুড়ায় শ্বশুরালয়ে এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার

বগুড়ার আদমদীঘিতে সাদিয়া আক্তার মেহা (১৮) নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ জুন) রাত ৮টায় উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের পশ্চিম ছাতনী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। এদিকে গৃহবধূর বাবা এটিকে হত্যা দাবি করেন এবং স্বামীর পরিবার এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন।  

গৃহবধূর শ্বাশুড়ি শিরিন আক্তারের দাবি, গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে তার ছেলের স্ত্রী মেহা আত্মহত্যা করেছে। ছেলে কাজে ছিল এবং আমি নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে ছিলাম। আমরা বাড়িতে এসে ঘটনাটি দেখতে পাই। অপরদিকে নিহতের বাবা টিটু হোসেনের দাবি, তার মেয়েকে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। কৌশলে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা হত্যাকে ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার ঘটনা সাজিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ৩ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের ছাতনী গ্রামের মৃধাপাড়ার আলাউদ্দিনের ছেলে শ্যামল হোসেনের সঙ্গে একই গ্রামের পাঁচভাগা পাড়া মহল্লার টিটু হোসেনের মেয়ে সাদিয়া আক্তার মেহার বিয়ে হয়।

বিয়ের দুই মাস পর যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ তৈরি হয়। এরপর মেহার বাবা টিটু এনজিও (সমিতি) থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে যৌতুকের টাকা পরিশোধ করেন। এরপরও মেহার স্বামী শ্যামল আরো এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।

সেই যৌতুকের জেরে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মাঝে কলহ লেগেই থাকত। এমনকি মেহাকে তার বাবার বাড়ির কারো সঙ্গে ফোনে কথাও বলতে দেওয়া হত না। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে মেহাকে নির্যাতন করে তার স্বামী। এক পর্যায়ে শনিবার রাত ৮টায় অভিমান করে শয়ন ঘরে বাঁশের তীরের সঙ্গে গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

আদমদীঘি থানার ওসি জালাল উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। রবিবার দুপুরে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে সঠিক কারণ জানা যাবে।