১৪ বছর ধরে ছদ্মবেশে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েও শেষ রক্ষা হয়নি

লেখক: বাংলা ম্যাগাজিন
প্রকাশ: ৪ দিন আগে

১৪ বছর ধরে ছদ্মবেশে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েও শেষ রক্ষা হয়নি নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামে বাবা-ছেলেকে গলা কেটে হত্যা মামলাসহ একাধিক হত্যা মামলার ফাঁসির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির।আজ সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পলাশ থানার ওসি মোহাম্মদ ইলিয়াছের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গাজীপুর সদর উপজেলার আমবাগ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

সোমবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান জানান, ২০০৯ সালের দিকে পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামের শামসুল হকের (৪৮) সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধে তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামের মৃত মইজ উদ্দিনের ছেলে আলেক মিয়া (৬৫), তার ছেলে শরীফ মিয়া (৩৮) ও আলেক মিয়ার স্ত্রী মোসা. রুপবান (৫৭)।এদিকে স্বামী ও শ্বশুর হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে নিহত জহিরুল হকের স্ত্রী রোজিনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী ও শ্বশুর হত্যার বিচার চাওয়ায় প্রতিনিয়ত আসামিদের ও আসামিপক্ষের হুমকি-ধমকির কারণে দুই শিশুসন্তান নিয়ে ভিটেবাড়ি ছেড়ে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ মানবেতর জীবন যাপন করছি। ‘

জমি নিয়ে বিরোধে ২০১৬ সালের দিকে শামসুল হক হত্যা মামলার বাদী তার ছেলে জহিরুল হককেও (২৮) প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা। ২০১৭ সালের ২২ মে তারিখে শামসুল হক হত্যা মামলায় মোট ১২ আসামি থেকে ছয়জনকে খালাস ও ছয়জনকে ফাঁসির আদেশ দেন নিম্ন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয়জনের মধ্যে একজন জেলহাজতে থাকলেও বাকিরা দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে পলাতক। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে ঘুরে ভিক্ষাবৃত্তি করে পুলিশকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এখনো শরাফত মিয়া ও আব্দুল গাফফার মিয়া পলাতক রয়েছেন বলেও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান।

এ ঘটনায় পলাশ থানায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো আটজনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন রোজিনা আক্তার। যা এখনো নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চলমান। এর পর থেকেই আসামিরা ফোনে ও আসামিপক্ষের স্বজনরা সরাসরি হুমকি দেওয়ার কারণেই তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে দীর্ঘ কয়েক বছর বাবার বাড়িতে ছিলেন।পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে রোজিনা বলেন, ‘ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ওই দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করাসহ গ্রেপ্তারকৃতদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই। ‘

রোজিনা জানান, ২০১৬ সালের পহেলা বৈশাখ রাতে মেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা দুই সন্তানের চোখের সামনে তার দিনমজুর স্বামী জহিরুল হককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। এর আগে ২০০৯ সালের তার শ্বশুরকেও একইভাবে হত্যা করে তারা। তখন তার শাশুড়ি নূরজাহান বাদী হয়ে ২০ জনের নামে মামলা করেন।

পরে তার শাশুড়ি মারা গেলে মামলার বাদী হন তার স্বামী জহিরুল।তিনি বলেন, ‘আসামিরা তার স্বামীকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে বলেছিল, তাকেও তার বাবা শামসুলের মতো হত্যা করা হবে। ঠিক একইভাবে আমার শ্বশুরের মতো করে আমার স্বামীকেও কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছিল আসামিরা। ‘