প্রচ্ছদ কৃষি, প্রাণী ও পরিবেশ

ধেয়ে আসছে বন্যা ডুবছে জনপদ,ভেঙে পড়ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা

26
পড়া যাবে: 5 মিনিটে

ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলকে অবলম্বন করে ধেয়ে আসতে বন্যা। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ জনপদ। ভেঙে পড়ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বন্যার্ত মানুষের আহাজারিও শুরু হয়েছে।

বান্দরবান : ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে শহরের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গতকাল ভোর থেকে শহরের আর্মিপাড়া, শেরেবাংলা নগর, হাফেজঘোনা, ইসলামপুর, লাঙ্গিপাড়া, ওয়াপদা ব্রিজ, মিসকি সেতু ও বাসস্টেশনসহ নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। অন্যদিকে লামা উপজেলার লাইন ঝিড়ি ও লামা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এদিকে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া এলাকায় সড়কে পানি আরও বেড়েছে। ফলে তৃতীয় দিনের মতো বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন আছে।

ফেনী : তিন দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার মুহুরী নদীর ১২টি স্থানে বাঁধ ভেঙে দুই উপজেলার ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জহির উদ্দিন জানান, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার মুহুরী নদীর ১২টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মুহুরী নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

রাঙামাটি : রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে উপজেলার ৬টি গ্রামের এক হাজারের অধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে। সবাই যাতে নিরাপদ স্থানে চলে যায় সে বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা বার্তা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ভোর থেকে পাহাড়ি ঢলে বৃদ্ধি পাচ্ছে কাচালং নদীর পানি। তাতে প্লাবিত হচ্ছে বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল। বর্ষণে উজান থেকে নামছে পাহাড়ি ঢলের স্রোত। পানিবন্দী হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুন:  যে নম্বরে ফোন করে জানা যাবে সারা দেশের বন্যার তথ্য

নেত্রকোনা : টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফুলে উঠছে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের পাহাড়ি নদী সোমেশ্বরী। দুই দিন ধরে বৃষ্টিতে দ্বিতীয়বারের মতো নদীটি ফেঁপে উঠেছে। বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। বুধবার রাতে বৃষ্টি না হওয়ায় গতকাল সকাল থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও দেখা দিয়েছে কুল্লাগড়া ইউনিয়নের দুটি গ্রামের সড়কের পাড় ভাঙন।

লালমনিরহাট : ৫ দিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ও ধরলা নদীর চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে লালমনিরহাটে প্রায় ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গতকাল তিস্তার পানি প্রবাহ দোয়ানি পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি কুলাঘাট পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বিকাল সাড়ে ৪টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার। স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত ৫ দিনের ভারি বৃষ্টি। এতে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে গেছে চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে নদীতীরবর্তী অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

নীলফামারী : উজানের ঢল আর ভারি বর্ষণে নীলফামারীতে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল বেলা ৩টার পর থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার (৫২.৬০) ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ডালিয়ার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সকাল থেকে বাড়তে থাকে তিস্তার পানি। সকাল ৬টায় বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার, ৯টায় কিছুটা কমে বিপদসীমা বরাবর, দুপুর ১২টায় বৃদ্ধি পেয়ে ৭ সেন্টিমিটার এবং বেলা ৩টায় ২০ সেন্টিমিটার ওপড় দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের সবকটি জলকপাট (৪৪টি) খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:  বন্যার পানি ধেয়ে আসছে ঢাকার দিকে

সুনামগঞ্জ : চার দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় জেলার সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও ধর্মপাশা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। বন্যার পানিতে ওইসব এলাকার অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। পানি উঠেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে। পানিতে ভেসে গেছে অনেকের চাষ করা মাছ। রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে কোনো কোনো এলাকা। গতকালও প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগর, কাজিরপয়েন্ট, উকিলপাড়া ও তেঘরিয়াঘাট এলাকা। পানি উঠতে শুরু করেছে শহরের প্রধান বিপণিকেন্দ্র মধ্যবাজারেও।

মানিকগঞ্জ : যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে দৌলতপুর ও শিবালয়ে নদীভাঙন। এরই মধ্যে ভাঙনের শিকার হয়েছে শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়ন ও দৌলতপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও বহু ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি। বাঁচামারা উত্তরখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি ভবনও ভাঙনের কবলে রয়েছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট