প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

বাড়িতে বসে কাজ করার সুযোগ প্রত্যাহার, অফিসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক

23
বাড়িতে বসে কাজ করার সুযোগ প্রত্যাহার, অফিসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারীর তাণ্ডব অব্যাহত থাকলেও সকল সরকারি আধাসরকারি অফিস,স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে সব কর্মকর্তা কর্মচারিকে সকাল ৯ টা থেকে ৫টা অফিস করতে হবে। লকডাউন তুলে ৭৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাড়িতে  বসে কাজ করার সুযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সব মন্ত্রণালয়গুলোকে ওইরূপ নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

গত ৬ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে। সব কর্মকর্তা কর্মচারির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক সম্পর্কিত নির্দেশনা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আপতত বলবৎ থাকবে। সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অবশ্য ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত ছুটি কার্যকরের আদেশ জারি রয়েছে।

ওই নির্দেশনার পর অনেক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তা মৌখিকভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানিয়ে দিলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বেশীরভাগ মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা কর্মচারির উপস্থিতির হার নগণ্য। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো, ইউসুফ হারুন ইত্তেফাককে বলেন, করোনা আতঙ্কের পাশাপাশি ঈদ ছুটি জনিত কারণে মূলত এখনো সবাই অফিসে কাজ যোগ দেননি। তবে সকল সচিব তার নিজ নিজ মন্ত্রণালয় এবং তার অধীনের সব প্রতিষ্ঠানকে সব কর্মচারির উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করতে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে। তার মতে আগামী রবিবার থেকে সকল কর্মকর্তা কর্মচারি নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত থাকবেন। তবে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিস করতে বলা হলেও বয়স্ক, অসুস্থ ও সন্তান সম্ভবাদের আগের মতই অফিসে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  রক্তাক্ত ইউএনও ওয়াহিদা: এবার উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক গ্রেফতার

প্রসঙ্গত করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে চলা টানা ৬৬ দিনের লকডাউন ওঠার পর ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে অফিস খোলার পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার। এরপর অফিস আর বন্ধ করা হয়নি।

জনপ্রশাসন সচিব হারুন বলেন, লকডাউন পত্যাহার শেষে অফিস খোলার সময় ২৫ শতাংশের বেশি কর্মকর্তার অফিসে উপস্থিতিতে নিষেধ ছিল। যার যেভাবে কাজ করতে সুবিধা হয় মন্ত্রণালয়গুলোতে সেভাবে করতে বলা হয়েছিল। তখন অনেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুসরন করেছিল। সে সময়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো, ফরহাদ হোসেন তখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ২৫ শতাংশের বেশি যেন একসঙ্গে অফিসে উপস্থিত না থাকেন সেই নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেভাবেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি দপ্তরে এতদিন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। মন্ত্রিপরিষদের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যত সেই নিয়ম এখন অকার্যকর।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ হেলালুদ্দীন ইত্তেফাককে বলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার আমাদের মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস করছেন। কাজ থাকলে কেউ কেউ বিকাল ৫টার পরেও কাজ করছেন। অসুস্থ বা অন্য সমস্যা রয়েছে এমন কয়েকজনকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন আগামী রবিবার থেকে আশা করা যায় সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারি উপস্থিত থাকবেন। তিনি বলেন যেসব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি দপ্তর এখনও সার্বক্ষণিক অফিস শুরু করেনি তারা এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। শিগগিরই সব সরকারি অফিসে শতভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করতে শুরু করবেন।

আরও পড়ুন:  ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে প্রতিদিন শাহবাগে বিকেল থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচি

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে এখন থেকে সবাই স্বাভাবিক অফিস কার্যক্রম চলবে। গত ১৬ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক অফিস আদেশে বলা হয়েছিল, এই বিভাগের সব অনুবিভাগ প্রধানরা প্রতিদিন দপ্তরে উপস্থিত থাকবেন।

অনুবিভাগ প্রধানরা তাদের অনুবিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে যেদিন যাদের অফিসে আসার প্রয়োজন মনে করবেন তাদেরকে অফিসে আসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। সেই আদেশ বাতিল করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এখন নিয়মিতভাবে কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নতুন আদেশ জারি করেছে।

আদেশে স্বাস্থ্য বিধি সংক্রান্ত ১২ দফা নির্দেশনা অনুসরণ করে এ বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও এক অফিস আদেশে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares