অপরাধঢাকাবাংলাদেশরাজধানী

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি ৮ বছর পর ধরা পড়লেন

নাম–পরিচয় পাল্টে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ঘন ঘন পেশা বদল করছিলেন ইকবাল হোসেন তারেক। এমনকি মাদক–সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পরও পরিচয় গোপন করেন তিনি।কিছুদিন পর জামিনেও বেরিয়ে যান। অথচ কেউ জানতেও পারেনি তিনি হত্যা মামলার আসামি। আট বছর আগে ঢাকার মগবাজারে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রানা হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে তাঁর নাম এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে।

র‌্যাব জানায়, ঘটনার পরই আত্মগোপনে চলে যান ইকবাল। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে গিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। এই কাজ ভালো না লাগায় তিনি যশোরে গিয়ে কিছুদিন পরিবহনশ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।তারপর তিনি মাদক ব্যবসা শুরু করেন। ২০১৯ সালে ঢাকায় এসে বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে পরিত্যক্ত কার্টন সংগ্রহ করে বিক্রি করছিলেন। ঢাকায়ও তিনি মাদক ব্যবসা শুরু করেন। মাদকসহ তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারও হন। এ সময় নিজেকে তাহের পরিচয় দেন।

তবে ইকবাল হোসেনের শেষ রক্ষা হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে র‌্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা।এ নিয়ে আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকার কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, ৮ বছর আগে ইকবাল মগবাজারের সুইফ কেব্‌ল লিমিটেড নামে ডিশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।

ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন কামরুল ইসলাম এবং তানভিরুজ্জামান রনি নামের দুই ব্যক্তি।  তাঁদের সঙ্গে মাহবুবুর রহমান রানার ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন সময় মারামারিও হয়েছে। এই বিরোধ থেকেই মাহবুবুর রহমানকে ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি মগবাজারে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।র‌্যাব-৩–এর অধিনায়ক বলেন, মাহবুবুর রহমান হত্যার ঘটনা তদন্ত শেষে ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১০ জন। পলাতক চারজনের একজন ছিলেন ইকবাল।

একাধিকবার গ্রপ্তার হলেও হত্যা মামলার বিষয়টি গোপন করতে সক্ষম হন। তাঁর নামে হত্যা, মাদকসহ চারটি মামলা রয়েছে। র‌্যাব-৩–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রেপ্তার এড়াতে ইকবাল হোসেন ঘন ঘন তাঁর বাসস্থান পরিবর্তন করতেন।সর্বশেষ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তাঁর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর র‌্যাবের গোয়েন্দা দলের জালে তিনি ধরা পড়েন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসকে

বাংলা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Flowers in Chaniaগুগল নিউজ-এ বাংলা ম্যাগাজিনের সর্বশেষ খবর পেতে ফলো করুন।ক্লিক করুন এখানে

Related Articles

Back to top button