বাংলাদেশবিএনপিরাজধানীরাজনীতি

আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেঃ ফখরুল

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, বিএনপির ‘হাঁটু ভাঙেনি’, বরং আওয়ামী লীগের ‘কোমর ভেঙে’ গেছে। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে। কারণ, আওয়ামী লীগ এখন শান্তিপূর্ণ সমাবেশে, শান্তিপূর্ণ মিছিলে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাঠি, বন্দুক ও টিয়ার গ্যাস দিয়ে আক্রমণ শুরু করেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন—বিএনপির নাকি হাঁটু ভাঙা। বিএনপি যে হাঁটু ভাঙা নয়, সেটা তো টের পাচ্ছেন। লাঠিও আমরা নিইনি। কিন্তু আপনাদের ইতিমধ্যে কোমর ভেঙে গেছে। শুধু লাঠি নয়, রামদা, তলোয়ার এবং পুলিশের বন্দুকের ওপর আপনারা এখন আছেন। আপনারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন।’

সমাবেশে ‘আওয়ামী লীগ পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে’–এমন মন্তব্য করে সময় থাকতে সরকারকে নিরাপদে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে পদত্যাগ করুন, সেফ এক্সিট নেন এবং একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।’

জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবারের আন্দোলনের শুরু থেকেই সরকার দমননীতি নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, গত ২২ আগস্ট থেকে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করেছি। সেই আন্দোলনের শুরুতেই তারা ভোলায় ছাত্রদলের নুরে আলম, আবদুর রহিমকে হত্যা করেছে, নারায়ণগঞ্জে শাওন, মুন্সিগঞ্জের শহিদুল ইসলাম শাওনকে হত্যা করেছে। যখন মানুষ জেগে উঠতে শুরু করেছে, তখন তারা এটাকে দমন করার জন্য সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছে।’

দেশে গণতন্ত্র ও নিরাপত্তা নেই অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার জন্য যখন দেশের জনগণ জেগে উঠেছে, তখন তা দমন করতে সরকার সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছে। তারা আজকে গুলি করে, গুম করে, মিথ্যা মামলা দিয়ে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ১৫ বছর ধরে হত্যা, নির্যাতন চালানো হচ্ছে, অনেককে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আজকে জনগণের উত্তাল তরঙ্গ তৈরি হয়েছে।’

একই সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘এখনো সময় আছে, দেয়ালের লিখন পড়ুন, উল্টাপাল্টা কথা না বলে পদত্যাগ করুন। সেফ এক্সিট নিন এবং নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন, সংসদ বিলুপ্ত করুন। নতুন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা জনগণের সরকার গঠন করব। এটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেতাদের ওপর হামলা নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ছাত্ররা ফুল ও মিষ্টি নিয়ে গেছে ভিসির সঙ্গে দেখা করতে। আর সেখানে তাদের আপ্যায়ন করা হয়েছে লাঠির মাধ্যমে। এমনভাবে ছেলেদের পিটাইছে, সাপকেও মানুষ এভাবে পিটায় না। আমি নিন্দা জানাচ্ছি ওই ভিসির প্রতি। তিনি সান্ত্বনা দিতে পারতেন, কিন্তু তা করলেন না।’

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই দেশে যত কিছু পরিবর্তন হয়েছে, ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই হয়েছে। আমার বিশ্বাস এবারও ছাত্রদলের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে, দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন আসবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে একটা গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘এদের (সরকার) অত্যাচার-নির্যাতনের জবাব একটাই—এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে।’

সমাবেশে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সামনে বহু বাধা আসবে। যদি কোনো বাধা প্রবলভাবে আসে, সেই বাধা কীভাবে অতিক্রম করতে হয়, বিএনপি তা জানে। জনগণ প্রতিরোধ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে।’

পুলিশের বিদায়ী মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের প্রজ্ঞাপন জারির সমালোচনা করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আজকে একজন বিদায়ী আইজিপিকে নিয়ে একটা সার্কুলার দেওয়া হয়েছে। তাঁর রিটায়ারমেন্ট হয়ে গেছে, তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

রিজভী বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, এই আইজিপিকে কেন নিরাপত্তা দেবেন? কিসের জন্য নিরাপত্তা দেবেন? আপনি তাঁকে দিয়ে কী অন্যায় করিয়েছেন, কী অবিচার করিয়েছেন যে রিটায়ার করার পরেও তাঁর নিরাপত্তা দেবেন। এর আগের কোনো আইজিপিকে তো নিরাপত্তা দেননি, প্রটোকল দেননি—তাহলে রিটায়ার করার পরে তাঁকে কেন দিচ্ছেন? এগুলোর অর্থ, এগুলোর বিশদ জানা যাবে। কারণ, গুমের শিকার অনেক পরিবারের কান্না, অনেক ক্রসফায়ারের কান্না এর মধ্যে নিহিত আছে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘এই সরকারের ওপর আইয়ুব খানের প্রেতাত্মা ভর করেছে। তাদের সময়ও শেষ হয়েছে। ছাত্রদলের ওপর আক্রমণের মধ্য দিয়ে সেটা তারা প্রমাণ দিয়েছে। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নাই, আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন, ‘কান্নাকাটি করার কোনো সুযোগ নাই। মারের বদলে মার দিতে হবে। যেখানে যাবেন, প্রস্তুত হয়ে যাবেন। আওয়ামী লীগকে লাঠি দিয়েই সোজা রাখতে হবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘বিএনপি লাঠির ওপর ভর করে না। আঘাত করার চেষ্টা করলে পাল্টা আঘাত আসবে। এবার আরেকটি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে বিদায় নিতে হবে।’

ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ফজলুল হক, নাজিম উদ্দিন আলম, খায়রুল কবির, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী, সুলতান সালাহউদ্দিন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ প্রমুখ।

বাংলা ম্যাগাজিন /এমএ

বাংলা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Flowers in Chaniaগুগল নিউজ-এ বাংলা ম্যাগাজিনের সর্বশেষ খবর পেতে ফলো করুন।ক্লিক করুন এখানে

Related Articles

Back to top button