প্রচ্ছদ প্রবাস

মরিশাসে বঙ্গমাতার জন্মদিন পালন করেছে দূতাবাস

21
মরিশাসে বঙ্গমাতার জন্মদিন পালন করেছে দূতাবাস
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন মরিশাস। এ উপলক্ষে পোর্ট লুইসে মিশন প্রাঙ্গনে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা এবং শিশু কিশোরদের নিয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা, কোভিড-১৯ এ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত, অসুস্থ্য সকল ব্যক্তির সুস্থতা কামনা এবং বাংলাদেশ ও মরিশাসের জনগণের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রবাসী বাংলাদেশী নাজমুল বাশার। আলোচনা সভার শুরুতে  রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কাউন্সেলর (শ্রম) ও দূতালয় প্রধান মো: অহিদুল ইসলাম।

হাইকমিশনার রেজিনা আহমেদ বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব পরস্পর অবিচ্ছেদ্য নাম।  জীবন চলার পথে একে অপরের অপরিহার্যতার প্রমাণ দিয়েছেন ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতেও। যেদিন সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্যের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিশংসভাবে খুন হন। ইতিহাসে শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব কেবল একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রনায়কের সহধর্মিণী নন, বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে অন্যতম এক নেপথ্য অনুপ্রেরণাদাত্রী। বাঙালি জাতির সুদীর্ঘ স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি বঙ্গবন্ধুকে সক্রিয় সহযোগিতা করেছেন। তিনি একজন শ্রেষ্ঠ মাতা। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময়ই জেলে কাটিয়েছেন। যার জন্য বঙ্গমাতাকে এক হাতেই সন্তান পালনের কাজটি করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন:  বঙ্গবন্ধু দেশের মাটি ও মানুষকে ভালবাসতে শিখিয়েছেন: মন্ত্রী ইমরান

হাইকমিশনার আরো বলেন, আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হলে বঙ্গবন্ধুসহ সব রাজবন্দির মুক্তি দাবিতে বাঙালি রাস্তায় নামে। পাকিস্তান সরকার এ সময় লাহোরে গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্যারোলে মুক্তির সিদ্ধান্তে বেঁকে বসেন শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব। তিনি কারাগারে শেখ মুজিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে লাহোর বৈঠকে যেতে নিষেধ করেন। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে প্যারোলে মুক্তি না নেওয়ার শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের এই সিদ্ধান্ত নি:সন্দেহে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার নিদর্শন বহন করে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের নেপথ্যেও ছিলেন তিনি, নীরবে নিভৃত্বে সেদিন তিনি বঙ্গবন্ধুকে সাহস যুগিয়েছিলেন আর সত্য এবং সঠিক পথের দিশারী হয়ে পাশে থেকেছেন।

আরও পড়ুন:  মালয়েশিয়ার রাজার সঙ্গে বসতে যাচ্ছেন আনোয়ার ইব্রাহীম

আলোচনা শেষে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের উপর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত শিশু কিশোরদের নিয়ে এক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সবশেষে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে উপস্থিত অতিথিদের নিয়ে কেক কাটা হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে সকলকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 5
    Shares