অপরাধএক্সক্লুসিভকুমিল্লাছাত্রলীগবাংলাদেশরাজনীতি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের সামনে দেশীয় অস্ত্র হাতে ছাত্রলীগ কর্মী

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির পর রামদা, হকিস্টিক, রড, ছেনি নিয়ে মহড়া দিয়েছেন বিদায়ী সভাপতি মো. ইলিয়াছ মিয়ার অনুসারীরা। গতকাল শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তাঁদের মহড়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এ খবর পেয়ে গতকাল শনিবার বেলা তিনটায় পদপ্রত্যাশী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-এলাহীর অনুসারী নেতা–কর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে আনন্দমিছিল ও মহড়া দেন। এ সময় গুলির আওয়াজ ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়। কেউ কেউ লাঠিসোঁটা হাতে অবস্থান নেন।

মহড়ায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন ফার্মেসি বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমাম হোসাইন ওরফে মাসুম ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাজল হোসাইন। বিদায়ী সভাপতি মো. ইলিয়াছ মিয়া নিশ্চিত করেছেন, তাঁরা দুজনই তাঁর কর্মী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝটিকা ওই কর্মসূচি শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পাশ দিয়ে চলে যান পদপ্রত্যাশী কিছু নেতা–কর্মী। তাঁরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করার পর শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ও বঙ্গবন্ধু হল থেকে বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মো. ইলিয়াছ মিয়ার অনুসারীরা দা, ছেনি, রামদা, রড ও হকিস্টিক নিয়ে বের হন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। প্রকাশ্যে দেশি অস্ত্র প্রদর্শন করেন। দুই পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের সামনে মহড়া দেয়।

দেশি অস্ত্র নিয়ে মহড়ার বিষয়ে বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মো. ইলিয়াছ মিয়া বলেন, ‘সাবেক কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগত ক্যাম্পাসে ফাঁকা গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। বহিরাগতরা চলে যাওয়ার পর আমার অনুসারী ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা ক্যাম্পাসে বহিরাগত কেন, তা জানতে প্রশাসনের কাছে যায়। তখন হয়তো কারও হাতে আত্মরক্ষার্থে কিছু ছিল। মাসুম (ইমাম হোসাইন) ও কাজল আমার কর্মী।’

ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্তের জেরে অস্থিরতা বিরাজ করায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে ছাত্রদের এবং আগামীকাল সোমবার সকাল নয়টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ছাড়তে বলা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-এলাহী বলেন, ‘আমি তো ক্যাম্পাসে যাইনি। শান্তিপূর্ণ আনন্দমিছিল করেছেন দীর্ঘদিনের পদবঞ্চিত নেতা–কর্মীরা। দা, ছেনি হাতে কারা, এটা বের করলে জানা যাবে কার লোক?’প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ও শান্ত রাখার জন্য চেষ্টা করেছেন।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরীর দাবি, পুলিশ যখন ক্যাম্পাসে পৌঁছে, তখন কারও হাতে কোনো ধরনের অস্ত্র দেখা যায়নি। একটি লাঠিও তিনি দেখেননি। এক পক্ষ মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে চলে যায়। আরেক পক্ষ পরে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়।ওসি বলেন, এরপরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো দেখে তাঁরা তদন্ত করবেন। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একসঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। এখানে কোনো ধরনের সংঘর্ষ হয়নি।

বাংলা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Flowers in Chaniaগুগল নিউজ-এ বাংলা ম্যাগাজিনের সর্বশেষ খবর পেতে ফলো করুন।ক্লিক করুন এখানে

Related Articles

Back to top button