এশিয়াবিশ্ব সংবাদ

রাজনৈতিক কারণে ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশ চীন থেকে সরতে চাইছে

রাজনৈতিক কারণে বিশ্বের অনেক দেশের কোম্পানি এখন চীন থেকে সরতে চাইছে। কিন্তু এছাড়া চীনের বিকল্প হয়ে উঠতে হলে একটি দেশকে অবশ্যই প্রকল্পের ব্যয় ও সময় কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আর গতি শক্তি প্রকল্প সেটিকে সহজ করতে চলেছে।

ভারত এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং সেখানে শ্রমের দামও বেশ কম। ভারতে ইংরেজি জানা মানুষের সংখ্যাও বেশি। কিন্তু এতদিন দুর্বল অবকাঠামোর কারণে বিনিয়োগকারীরা ভারত থেকে দূরে থেকেছে।  এর অধীনে দেশের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক, বন্দর এবং বিমানবন্দরগুলোকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

ভারতের অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অর্ধেকই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয় না। প্রতি চারটির মধ্যে একটি নির্ধারিত বাজেটে কাজ শেষ করতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বাধাগুলো দূর করতে এখন প্রযুক্তির উপরেই ভরসা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এ জন্য ‘পিএম গতি শক্তি’ নামের ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার বা ১০০ ট্রিলিয়ন রূপির মেগা প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। ১৬টি মন্ত্রণালয়কে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এই প্রকল্পে, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। বিনিয়োগকারীরা এর মাধ্যমে প্রকল্পের নকশা, দ্রুত অনুমোদন এবং সহজে ব্যয় নির্ধারণ করার সুবিধা পাবেন।

রাজধানী নয়া দিল্লিতে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সেক্রেটারি অমৃত লাল মিনা বলেন, সময় ও ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নতুন এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে করে বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো ভারতকে তাদের উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করবে। এটি ভারতকে সুবিধা দেবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ কোম্পানিগুলো এখন চীনের বাইরেও বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠছে। তারা সম্ভাব্য নতুন দেশ খুঁজে বেড়াচ্ছে যেখানে তারা তাদের পন্য উৎপাদন করতে পারবে।

প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত তার থেমে থাকা অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর পথকে সুগম করতে চায়। ‘গতি শক্তি’র অধীনে থাকা ১৩০০ প্রকল্পের প্রায় ৪০ শতাংশই ভূমি অধিগ্রহণ এবং পরিবেশ নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেতে গিয়ে দেরি করে ফেলেছে। এতে প্রকল্পের ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৪২২টি প্রকল্পের ক্ষেত্রে এ ধরণের সমস্যা দেখা গেছে। ‘গতি শক্তি’র মাধ্যমে এর ২০০টির সমস্যা সমাধান করা গেছে। এই প্রকল্প নিশ্চিত করছে যে, নতুন তৈরি একটি রাস্তা যাতে পুনরায় ফোন ক্যাবল কিংবা গ্যাস লাইন স্থাপন করতে গিয়ে খুঁড়তে না হয়। এই মডেলটি ইউরোপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই গ্রহণ করেছিল। চীনে এটি কার্যকর হয় ১৯৮০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে।

ভারতের পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবান মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এখন দেখানো হচ্ছে যে, কতগুলো প্রকল্প বিলম্বিত হচ্ছে এবং কতগুলোর ব্যয় বেড়েছে। এসব প্রকল্প দেশটির অর্থনীতিকে আহত করছে। গত মে মাস পর্যন্ত ভারতের মোট ১ হাজার ৫৬৮ টি প্রকল্প ছিল। এরমধ্যে ৭২১টিই বিলম্বিত হচ্ছে। ৪২৩টির প্রকল্প ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, আজকের ভারত আধুনিক অবকাঠামোর উন্নয়নের জন্য আরও বেশি বিনিয়োগ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো প্রকল্প যাতে আটকে না থাকে কিংবা বিলম্বিত না হয় সে জন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। মানসম্মত অবকাঠামো হচ্ছে বড় পর্যায়ের অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরুর প্রথম পদক্ষেপ। এটি দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য চাকরির সুবিধা নিশ্চিত করবে। আধুনিক অবকাঠামো ছাড়া ভারতের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

২০১৪ সালে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই মোদি অবকাঠামোর উন্নয়নে নজর দেন। তার উদ্দেশ্য ছিল দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে তিনি কিছু সফলতাও পেয়েছেন। বিশ্বসেরা প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল এখন তার আইফোন ১৪ ভারতে উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে। স্যামসাং এরইমধ্যে বিশ্বের সবথেকে বড় মোবাইল ফোন ফ্যাক্টরি নির্মান করেছে ভারতে। ভারতীয় কোম্পানি ওলা এখন বিশ্বের সবথেকে বড় ইলেক্ট্রিক স্কুটার ফ্যাক্টরি নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এসব প্রকল্পে অবকাঠামোর সমস্যা যাতে বাধা হতে না পারে সে জন্য কাজ করছে ‘গতি শক্তি’।

অগ্রাধিকার দিয়ে ১৯৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ভারত সরকার। এগুলো ভারতের বিভিন্ন বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে। কয়লা, স্টিল এবং খাদ্যের মতো পণ্যের চলাচল সহজ হবে। এরফলে বিনিয়োগকারীরা এরপর থেকে বিনিয়োগের জন্য ভারতের নামটিও ভাবতে শুরু করবে বলে আশা করে দেশটির সরকার।

বাংলা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Flowers in Chaniaগুগল নিউজ-এ বাংলা ম্যাগাজিনের সর্বশেষ খবর পেতে ফলো করুন।ক্লিক করুন এখানে

Related Articles

Back to top button