প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিভাগ

ওসি প্রদীপের ড্রয়ারে ইয়াবা ও মাসোহারার তালিকা

18
ওসি প্রদীপের ড্রয়ারে ইয়াবা ও মাসোহারার তালিকা
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাসের টেকনাফ থানার অফিসকক্ষে গত শুক্রবার অভিযান পরিচালনা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ আভিযানিক দল।

এ সময় তার সাবেক কর্মস্থলের অফিসকক্ষের টেবিলের ড্রয়ার থেকে ইয়াবা বড়ি এবং মাসোহারা গ্রহণ ও প্রদানের একটি তালিকা উদ্ধার করে। ওই তালিকা জব্দ করা হয়েছে। তালিকাটি এখন যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের টেকনাফ থানার শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় সিনহার বড় বোন ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় গত বৃহস্পতিবার ওসি প্রদীপসহ ৭ পুলিশ সদস্যের ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন কক্সবাজারের আদালত। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মরদেহের ময়নাতদন্তেও চারটির বেশি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর আগে সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহে ছয়টি গুলির চিহ্ন পায় পুলিশ। তবে প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি বলেছেন, সেই রাতে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী চারটি গুলি ছোড়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ মৃত্যু নিশ্চিত করতে সিনহার শরীরে আরো দুটি গুলি করেন।

আরও পড়ুন:  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. শিরীণ আখতার করোনায় আক্রান্ত

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে চারটি গুলির হিসাবই মামলার মাধ্যমে দিয়েছেন ওসি প্রদীপ। ফলে তিনিসহ আর কেউ বেশি গুলি করে থাকলে সেটিও এখন বড় অপরাধ হয়ে যাবে। কারণ সরকারি প্রতিটি গুলিরই হিসাব দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে—তাহলে বেশি গুলি কোথা থেকে এলো? সেই গুলি কি অবৈধ ছিল?

এসব বিসয়ে জানতে রবিবার তাদের রিমান্ডে নেবে মামলাটির তদন্ত সংস্থা র‌্যাব।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মূলত তদন্তের অংশ হিসেবে প্রদীপের অফিসকক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানেই পাওয়া যায় ইয়াবা ও মাসোহারার একটি তালিকা। কথিত ক্রসফায়ার বাণিজ্যসহ নানাভাবে আয় করা অর্থের একটি অংশ মাসোহারা হিসেবেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দিতেন ওসি প্রদীপ। কিছু অপরাধী চক্রের কাছ থেকে তিনি নিজেও নিয়মিত মাসোহারা নিতেন। তালিকাটি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের ধারণা, নিরপরাধ ব্যক্তিদের মাদক মামলায় ফাঁসাতে এসব ইয়াবা ব্যবহার করা হতো। চাহিদানুযায়ী টাকা না মিললেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দেখানো হতো।

আরও পড়ুন:  মা-বোনকে পুলিশ আটক করেছে শুনে কিশোরের আত্মহত্যা

জানা যায়, মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশের চাকরিজীবনের সিংহভাগ সময় কেটেছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। দুই যুগের চাকরিজীবনের প্রায় সব সময় কেটেছে তার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায়। যে থানায় দায়িত্বরত ছিলেন সেখানে বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন।

দীর্ঘ এ চাকরিজীবনে দুবার বরখাস্ত এবং কমপক্ষে পাঁচবার বিভিন্ন থানা থেকে প্রত্যাহার হয়েছেন। প্রতিবারই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে স্বপদে ফিরেছেন দ্রুত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের কীভাবে ম্যানেজ করতে হয় তা জানতেন প্রদীপ কুমার। অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে তার যাবতীয় অনিয়ম-দুর্নীতিতে সমর্থন করতেন। ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সমর্থন পেয়ে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন প্রদীপ কুমার।

টেকনাফে থাকাকালীন সময়ে প্রদীপের কন্ট্রাক্ট কিলিং, গ্রেফতার বাণিজ্য, অভিযানের নামে লুটপাট, মানুষ ধরে এনে নির্যাতন- কোনো কিছুই অজানা ছিল না কারও। তার অনিয়ম-দুর্নীতির কথা জেনেও নীরবে সমর্থন দিয়ে গেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 6
    Shares