আমেরিকাকূটনীতিবাংলাদেশরাজধানী

যুক্তরাষ্ট্রের কাজই হল যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করাঃপররাষ্ট্রমন্ত্রী

আজ বুধবার প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘জাতিসংঘের আঙিনায় শেখ হাসিনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলাম ফোরাম আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশকে বিপদে ফেলছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মধ্যে জাতিসংঘের সঙ্গে কোনো আলাপ না করেই স্যাংশন বসানো হলো। জাতিসংঘকে উপেক্ষা করে কোনো কোনো দেশ নিজেরাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর কারণে যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘের দুর্বলতা রয়েছে। যুদ্ধ থামাতে জাতিসংঘ ব্যর্থ। জাতিসংঘকে শক্তিশালী করতে নিরাপত্তা পরিষদের পুনর্গঠন দরকার।এমনকি সিকিউরিটি কাউন্সিলেও কোনো ডেমোক্রেসি নেই। সিকিউরিটি কাউন্সিলের ৫ স্থায়ী সদস্যের কাছেই সবকিছু। সিকিউরিটি কাউন্সিলেরও সংস্কার প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকেই তারা তাদের মতো সাজিয়ে রেখেছেন। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিষদের সমান সুযোগ থাকা দরকার।

গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১২ সালে আমরা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমরা তথ্য ও নথিগুলো এখনও পাঠাতে পারিনি। আমাদের এটা দেখে সেই একই সময়ে আলবেনিয়াসহ আরও অনেক রাষ্ট্র তাদের দেশের গণহত্যার বিষয়ে স্বীকৃতি পেতে প্রস্তাব দিয়েছিল। জাতিসংঘ সেখানে থেকে একটি দিবসকে (৯ ডিসেম্বর) গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। আরো আগে পাঠাতে পারলে স্বীকৃতি পেয়ে যেতাম। এটা নিয়ে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে অনেক সুবিধা হারাবে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের কাছে অঙ্গীকার করেছে যে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত তারা চলমান সুবিধাগুলো আমাদের দেবে। প্রযুক্তি বিষয়ে সুবিধা দেবে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতাদের কাছে সন্ত্রাসীদের অর্থায়নকারী ও অস্ত্র দাতাদের চিহ্নিত করার কথা বলেছেন। কিন্তু সেটি করা হয়নি। কারো সাথে শত্রুতা না করে সবার সাথে  বন্ধুত্ব ’,  বঙ্গবন্ধুর এই নীতির আলোকেই আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। যখন ইস্টার্ন ও সোভিয়েত ব্লক আমাদের চাইছিল বঙ্গবন্ধু কারো পক্ষ না নিয়ে সবার সাথে সুসম্পর্ক করেন। এটা ছিল অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য।

গত তিন বছরে বাংলাদেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ বন্দুকধারীদের গুলিতে মারা যায়।

গুম নিয়ে যে তথ্য দেওয়া হয় তা সঠিক নয় দাবি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৬৮ জনের গুমের তথ্য আমরা জানি। এদের মধ্যে দুজন আবার ভারতীয় নাগরিক। তাদের বাদ দিলে সংখ্যা ৬৬ জনে দাঁড়ায়। কিন্তু গত ৩ বছরে বাংলাদেশে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং হয়েছে- তা আমার জানা নেই। যারা মারা গেছেন তারা অপরাধী।

ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. মিল্টন বিশ্বাস।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম, কলামিস্ট ফোরামের সহসভাপতি ড. রাশিদ আসকারী, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দৈনিক বাংলা ও নিউজ বাংলা ২৪-এর মিডিয়া ডিরেক্টর মো. আফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস প্রমুখ।

বাংলা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Flowers in Chaniaগুগল নিউজ-এ বাংলা ম্যাগাজিনের সর্বশেষ খবর পেতে ফলো করুন।ক্লিক করুন এখানে

Related Articles

Back to top button