প্রচ্ছদ আইন-আদালত

সুজন হত্যা : ৯ বছর পর গ্রেফতার আসামির রিমান্ড আবেদন

15
সুজন হত্যা : ৯ বছর পর গ্রেফতার আসামির রিমান্ড আবেদন
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক  :     রাজধানীর সবুজবাগের মাটির ঠিকাদারি ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মান্নানের ছেলে সুজন (২৬) হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মো. ফজলুকে (কুটি) সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এ রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত সূত্র থেকে এ তথ্য জানা যায়। আদালতের সূত্র মতে, সোমবার (১০ আগস্ট) ফজলুকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই। মামলার মূল নথি না থাকায় ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।

হত্যাকাণ্ডের ৯ বছর পর সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে রাজধানীর মুগদা থানার জান্নাতবাগ এলাকা থেকে ফজলুকে গ্রেফতার করে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) একটি বিশেষ টিম।

২০১১ সালের ১৪ মার্চ বন্ধু ফজলু কুটির সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন সুজন। এর ছয়দিন পর ১৮ মার্চ দুপুরে সবুজবাগ থানার দক্ষিণ রাজারবাগ বাগপাড়া শেষমাথা খালের ময়লা পানিতে কচুরিপানার সাথে ভাসমান অবস্থায় সুজনের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় ওই দিনই একটি মামলা করেন।

আরও পড়ুন:  নিজেদের নির্দোষ দাবি পাপিয়া দম্পতির

পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ইউনিট ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওসমান গণি জানান, মামলাটি প্রথমে সবুজবাগ থানা পুলিশ ও পরবর্তীতে ডিবি কর্তৃক দীর্ঘ প্রায় সাত বছর তদন্তের পর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য ও অভিযুক্ত পলাতক আসামি আছমা আক্তার ইভা, আরিফুল হক আরিফ ও মো. রানা (বাবু) গ্রেফতার না হওয়ায় এবং পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়। অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে ভিকটিমের বাবা নারাজির আবেদন করেন। আদালত পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে পলাতক আসামি ইভা, আরিফ ও রানাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে আরিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিজেকে জড়িয়ে সহযোগীদের নাম উল্লেখ করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

আটক ফজলু জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআইকে জানান, ২০০৮ সালে সুজনের সঙ্গে ইভার বিয়ে হয় এবং ২০০৯ সালে ইভা সুজনকে তালাক দেন। এরপরও সুজন প্রায়ই ইভাকে দেখতে তাদের এলাকায় আসা যাওয়া করতেন। ইভার সঙ্গে সুজনের বিয়ের আগে থেকেই স্থানীয় ফাইজুল ইভাকে পছন্দ করতেন। এ ঘটনায় ফাইজুল, ইভার বড় ভাই আরিফের সঙ্গে সুজনের বিভিন্ন সময় তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়।

২০১১ সালের ১৩ মার্চ সন্ধ্যার পর আরিফ, ফাইজুল তাদের বন্ধু ফজলু ও কালা বাবু ইভাদের বাসার সামনের মাঠে বসে সুজনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় আরিফ তাদের বাসার পাশের চায়ের দোকান থেকে একটি সাদা পলিথিন ব্যাগ নেন। ফাইজুল ও আরিফ লাঠি নিয়ে স্থানীয় খালপাড় বালুর মাঠের দিকে যেতে থাকেন। এরই মধ্যে ফজলু চলে আসেন।

আরও পড়ুন:  সাবরিনা-আরিফসহ আট জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে ডিবি

রাত ৮টার সময় ফজলুর সঙ্গে যোগাযোগ করে সুজন খালপাড় বালুর মাঠে আসেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে ফাইজুল সুজনকে পেছন থেকে আটকে ধরেন। আরিফ পকেট থেকে পলিথিন বের করে ফজলুকে দেন। ফজলু পলিথিন নিয়ে সুজনের মাথার উপর থেকে গলায় ঢুকিয়ে প্যাঁচ দিয়ে গিঁট দিয়ে ফেলেন। লাঠি দিয়ে সুজনকে পেটাতে থাকেন আরিফ।

পরে কালা বাবু আরিফের হাত থেকে লাঠি নিয়ে সুজনকে পেটাতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর সুজন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সুজন মারা গেছে নিশ্চিত হয়ে তারা মরদেহ পাশের খালেই ফেলে দেন। ফজলু ও কালা বাবু খালের নিচে নেমে সুজনের মরদেহ পানিতে ভাসিয়ে দেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 6
    Shares