প্রচ্ছদ আইন-আদালত

১৬ বছরেও শেষ হলো না হুমায়ুন আজাদ হত্যার বিচার

14
১৬ বছরেও শেষ হলো না হুমায়ুন আজাদ হত্যার বিচার
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক  :     দেখতে দেখতে পেরিয়ে যাচ্ছে ১৬টি বছর। এখনও শেষ হলো না বহুমাত্রিক লেখক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও ভাষাবিজ্ঞানী ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার বিচার। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য হলো, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ মামলার বিচার শেষপর্যায়ে পৌঁছেছে। দ্রুতই এর কার্যক্রম শেষ হবে।

‘এ হত্যা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। খুব শিগগিরই রায়ের জন্য দিন ধার্য হবে। একই সঙ্গে রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত হবে‘— এমন আশা রাষ্ট্রপক্ষের।

ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে হুমায়ুন আজাদ হত্যার দুই মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষী এবং বিস্ফোরক মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ অবস্থায় রয়েছে। আসামিপক্ষ সাফাই সাক্ষী না দিলে যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হবে।

হত্যা মামলায় ৫৮ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ৪১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ১০ জন।

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সামনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন হুমায়ুন আজাদ। তাকে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনার পরদিন হুমায়ুন আজাদের ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন:  ইডেনের অধ্যক্ষ হত্যা : ২ গৃহপরিচারিকার মৃত্যুদণ্ড

ওই হামলার পর হুমায়ুন আজাদ ২২ দিন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এবং পরবর্তীতে ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসা নেন। পরে জার্মানির মিউনিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১২ আগস্ট তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম আটকে ছিল। এখন আদালতের বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে। ওই হত্যার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। একটি হত্যা ও অপরটি বিস্ফোরক আইনে মামলা। হত্যা মামলাটি আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য দেয়ার জন্য দিন ধার্য রয়েছে। পরবর্তী তারিখে আসামিরা সাফাই সাক্ষী না দিলে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করা হবে। এরপরই মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হবে। সাক্ষ্যগ্রহণে আসামিদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলাটি সাক্ষীর জন্য অপেক্ষমাণ। সাক্ষীদের আদালতে আনার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, ‘হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলাটি আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্যের জন্য রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে সাফাই সাক্ষ্য হয়নি। এখন আদালত চালু হয়েছে। আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্যের পর যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য হবে। অপরদিকে, বিস্ফোরক আইনের মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এ মামলার সাক্ষীরা আদালতে হাজির হন না। রাষ্ট্রপক্ষের উচিত, বিস্ফোরক মামলায় সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে মামলাটি শেষ করা।’

আরও পড়ুন:  পাপিয়া দম্পতির অস্ত্র মামলার প্রথম সাক্ষ্য আজ

২০০৪ সালের ১২ আগস্ট হুমায়ুন আজাদের মৃত্যুর পর ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে হত্যা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- জেএমবির শুরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার আলম ওরফে ভাগ্নে শহিদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন, হাফিজ মাহমুদ ও নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু। আসামিদের মধ্যে মিনহাজ ও আনোয়ার কারাগারে আছেন। সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ পলাতক রয়েছেন। হাফিজ মারা গেছেন।

মামলায় জেএমবির শুরা সদস্য মিজানুর রহমান ও ভাগ্নে শহিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares