প্রচ্ছদ জাতীয় পার্টি রংপুরবাসীর ভালবাসার কাছে আমরা হেরে গেছি

রংপুরবাসীর ভালবাসার কাছে আমরা হেরে গেছি

116
রংপুরবাসীর ভালবাসার কাছে আমরা হেরে গেছি
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

রংপুরবাসীর ভালবাসার কাছে হেরে গিয়ে এরশাদের ম*রদেহ তাদের হাতেই তুলে দেওযার কথা জানালেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেন, রংপুরবাসীর ভালবাসার কাছে আমরা হেরে গেছি। তাই তাদের হাতে ম*রদেহ ‍তুলে দিয়ে আমরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে এসেছি।’

তিনি বলেন, রংপুরের মানুষের ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রংপুরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দাফন করার অনুমতি দিয়েছেন বেগম রওশন এরশাদ। পাশে তার জন্য কবরের জায়গা রাখার অনুরোধও করেন রওশন এরশাদ।

মঙ্গলবার বাদ জোহর বেলা আড়াইটায় রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে এরশাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরশাদের জা*নাজা মাঠ জনস্রোতে পরিণত হয়। কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে ঢল নামে নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনতার। লক্ষাধিক মানুষ এরশাদের জানাজায় অংশ নেয়।

জানাজা শেষে এরশাদের ম*রদেহ নিয়ে যাওয়ার পথে ম*রদেহ বহনকারী গাড়ি আ*টকে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে এরশাদকে রংপুরে দা*ফনের দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এরশাদের দা*ফন রংপুরে করার দাবিতে জা*নাজা শেষে হ*ট্টোগাল শুরু হয়। জা*নাজা শেষে রংপুরে এরশাদের ম*রদেহ দা*ফনের জন্য উপস্থিত নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়ে ম*রদেহ বহনকারী গাড়ি। এ সময় ১৫ মিনিট আটকে রাখা হয় ম*রদেহ বহনকারী গাড়ি। পরে জনস্রোত উপেক্ষা করে জা*নাজা মাঠ ত্যাগ করে গাড়ি। সেখান থেকে পল্লী নিবাসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় গাড়িটি। গাড়িটিতে আছেন রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান।

আরও পড়ুন:  রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ

এর আগে জা*নাজা-পূর্ব বক্তৃতায় এরশাদকে রংপুরে দা*ফনের দাবি তোলেন রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। পরে জি এম কাদের বক্তব্য দেন। এ সময় এরশাদের দা*ফনের বিষয়টি উল্লেখ করে স্লোগান শুরু হয়। বেলা ২টা ২৫ মিনিটে এরশাদের জা*নাজা শুরু হয়। জা*নাজার পর এরশাদের ম*রদেহ বহনকারী গাড়িটি ঘিরে রাখেন শত শত কর্মী। রংপুরে তার কবর দেয়ার দাবি করেন তারা।

এর আগে দুপুরে এরশাদের ম*রদেহ কালেক্টরেট মাঠে আসার পরপরই পুলিশি বেষ্টনী ভেঙে ম*রদেহের কাছে ছুটতে থাকেন দলীয় নেতাকর্মীরা। উপচেপড়া ভিড়ের মাঝে শুরু হয় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো। নিজ দলের নেতাকর্মী ছাড়াও আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনসহ বিভিন্ন ব‍্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৪ জুলাই সাবেক সামরিক শাসক এরশাদের মৃ*ত্যু হয়। ওইদিন বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার প্রথম জা*নাজা হয়।

আরও পড়ুন:  ৯ বছরের শাসনামলে জনগণের পছন্দনীয় যে কাজগুলো করেছিল এরশাদ যা মানুষের মনে থাকবে চিরকাল

সোমবার (১৫ জুলাই) বিরোধী দলীয় নেতা এরশাদের দ্বিতীয় জা*নাজা হয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। এরপর বাদ আসর বায়তুল মোকররম জাতীয় মসজিদে তৃতীয় দফায় জা*নাজা হয়।

এরশাদের মৃ*ত্যুর দিন জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়াত এই নেতার দা*ফন হবে বনানীতে সামরিক কবরস্থানে। তবে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জাতীয় পার্টির নেতা মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ স্থানীয় নেতারা রংপুরে এরশাদকে ক*বর দেওয়ার দাবি করেন। সোমবারও এই দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ঢাকা তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে এরশাদের কফিন নিয়ে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। ক*ফিনের সঙ্গে রংপুর যান জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদের, এরশাদের ছেলে রাহগির আল মাহি শাদ এরশাদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। বেলা ১২টার পর রংপুর ঈদগাহ ময়দানে এরশাদের ম*রদেহ নেওয়া হয়। এরপর থেকেই সেখানে রাখা মাইকে এরশাদকে রংপুরে দা*ফনের দাবি ওঠে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট: