প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

নিজের হাতে লাগানো লিচু গাছের নিচে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এরশাদের দা*ফন সম্পন্ন

45
পড়া যাবে: 4 মিনিটে

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজ বাসভবন রংপুরের পল্লী নিবাসে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে পল্লী নিবাসে এরশাদকে দা*ফন করা হয়েছে। এ সময় সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিল। কেউ কেউ কান্নায় ভে*ঙে পড়েন।

এর আগে চার কিলোমিটার হেঁটে জাতীয় পার্টির সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ম*রদেহ বহনকারী গাড়ি এরশাদের স্বপ্নের বাসভবন রংপুরের পল্লী নিবাসে নিয়ে যান দলীয় নেতাকর্মীরা।

রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ তার ম*রদেহ বহনকারী গাড়ি নিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় পল্লী নিবাসে পৌঁছান। সেখানে ম*রদেহ পৌঁছানোর পর সেনাবাহিনীর পক্ষে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ম*রদেহ দা*ফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দা*ফনের আগে এরশাদপুত্র স্বাদ তার বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

সবশেষে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে এরশাদকে দা*ফন করা হয়। এরশাদের ছোট ভাই ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, রংপুর সিটি মেয়র ও জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, এরশাদপুত্র স্বাদ ও এরিকসহ পার্টির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাসহ সর্বস্তরের মানুষ দা*ফনে অংশ নেন।

আরও পড়ুন:  আবরার হ*ত্যার প্রতিবাদে উত্তপ্ত রংপুর

মঙ্গলবার বাদ জোহর বেলা আড়াইটায় রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে জা*নাজা শেষে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে ম*রদেহ বহনকারী গাড়ি আটকে দেয়া হয়। এ সময় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে এরশাদকে রংপুরে দা*ফনের দাবি জানান।

এ অবস্থায় রংপুরের মানুষের ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পল্লী নিবাসেই সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদকে দা*ফন করার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় পার্টি। পরে কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দান থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে পল্লী নিবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন নেতাকর্মীরা। এ সময় এরশাদের ম*রদেহ বহনকারী গাড়ি ধীরে ধীরে চলতে দেখা যায়। ওই গাড়ির সঙ্গে পল্লী নিবাসের উদ্দেশ্যে যান হাজার হাজার মানুষ। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে পল্লী নিবাসে এরশাদকে দা*ফন করা হয়।

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন বলেন, স্যারের মরদেহ (এরশাদ) রংপুরে তার ইচ্ছা অনুযায়ী দা*ফন করা হয়েছে। আমরা স্যারের ইচ্ছা পূরণ করতে বদ্ধপরিকর ছিলাম। এখানে দা*ফন হওয়ায় সাধারণ মানুষসহ দলীয় লোকজন স্বাচ্ছন্দ্যে স্যারের কবর জিয়ারত করতে পারবেন। এটা আমাদের পরম পাওয়া।

এর আগে জা*নাজা শেষে নেতাকর্মীদের দাবির মুখে এইচ এম এরশাদের দা*ফন রংপুরেই হবে বলে ঘোষণা দেন এরশাদের ছোট ভাই ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃ*ত্যুর আগে পল্লী নিবাস সংস্কার করে তিনতলা নতুন ভবন গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এরশাদ, যা এতদিন বাউন্ডারির মধ্যে আলাদা আলাদা ভবন ছিল। এরশাদ থাকতেন দোতলা ভবনে। আর পিএসসহ অন্যান্য স্টাফদের ছিল একতলা ভবন। পুরনো ভবন ভেঙে তিনতলা কমপ্লেক্স করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  আড়াই লাখ টাকা হেলিকপ্টার ভাড়ায় ২ লাখ টাকার ত্রাণ!

দ্বিতীয় তলায় এরশাদ ও ছেলে এরিকের কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। ভবনটির দ্বিতীয় তলার কাজ শেষ। চলমান তৃতীয় তলার ফিনিশিংয়ের কাজ। এবার এলে সেখানেই থাকার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

জানা যায়, রংপুরে অসমাপ্ত বাড়ি পল্লী নিবাসকে উপমহাদেশের রাজনীতির একটি প্রশিক্ষণশালা করতে চেয়েছিলেন এরশাদ। যেখানে তৃণমূল এবং জাতীয় নেতাকর্মীদের সম্মিলন ঘটবে। মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায়ও এর নির্মাণকাজ তদারকি করতেন তিনি।

গত ২৮ জুন রংপুরে আসার কথা ছিল এরশাদের। তার সফরে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। বাড়ির নির্মাণকাজ দেখতেই তিনি রংপুরে আসতেন এবং নির্মাণাধীন পল্লী নিবাসে এবার ওঠার কথা ছিল তার। অবশেষে জীবিত নয়, লা*শ হয়েই পল্লী নিবাসে উঠলেন এরশাদ।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট