প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

বেরিয়ে আসছে শি’শু উন্নয়ন কেন্দ্রে নি’র্যা’তনের ভ’য়া’বহতা

14
বেরিয়ে আসছে শি’শু উন্নয়ন কেন্দ্রে নি’র্যা’তনের ভ’য়া’বহতা
পড়া যাবে: 4 মিনিটে

যশোর শি’শু উন্নয়ন কেন্দ্রে অমানুষিক নি’র্যাতন ও মা’রপিটে তিন কি’শোর নি’হত ও ১৪ জন আ’হ’তের ঘটনায় ক্ষো’ভে ফুঁ’সছেন স্বজন’রা।

তারা ওই কে’ন্দ্রের কর্মক’র্তাদের অ’ত্যা”চার-নি’র্যাত’নের নানান চিত্র তুলে ধরছেন। মুখ খুলেছে আ’হ’ত ব’ন্দি কি’শো’ররাও। হতাহতদের স্ব’জনদের কা’ন্নায় যশোর ২৫০ শয্যা ‘হাসপাতা’লের পরিবেশ ভা’রি হয়ে উঠেছে।

শি’শু উন্নয়ন কেন্দ্রে হতাহতের ঘটনায় ওই কেন্দ্রের ১০ কর্মক’র্তা, কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পু’লিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও সমাজসেবা অধিদফতর একটি ত’দন্ত কমিটি গঠন করেছে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) যশোর শি’শু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মক’র্তা ও আনসার সদস্যদের অমানুষিক নি’র্যাতন ও মা’রপিটে তিন কি’শোর নি’হত হয়। আ’হত হয় আরও অন্তত ১৪ জন। ওইদিন দুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও সন্ধ্যারাতে ম’রদেহ হাসপাতা’লে আনার পর ঘটনা জানাজানি হয়। প্রথমে শি’শু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মক’র্তারা এটিকে দুই পক্ষের সং’ঘর্ষের ঘটনা দাবি করলেও পরবর্তীতে নি’র্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পু’লিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মক’র্তাও প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, গত ৩ আগস্ট যশোর শি’শু উন্নয়ন কেন্দ্রে কি’শোরদের দুই গ্রুপের মধ্যে মা’রামা’রি হয়। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ওই ঘটনায় জ’ড়িতদের চিহ্নিত করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্মক’র্তাদের উপস্থিতিতে আনসার সদস্য ও তাদের নির্দেশে কয়েকজন কি’শোর অন্তত ১৮ জনকে বেধড়ক মা’রপিট করেন। মা’রপিট ও নি’র্যাতনে অ’সুস্থ হয়ে পড়লে তাদের ফেলে রাখা হয়। কয়েকজন অচেতন থাকায় তারা অ’জ্ঞান হয়ে গেছে মনে করেন। তবে পরে বুঝতে পারেন তিনজন মা’রা গেছে। এরপর সন্ধ্যারাতে এক এক করে তাদের ম’রদেহ হাসপাতা’লে এনে রাখা হয়।

নি’হতরা হচ্ছে- বগুড়ার শি’বগঞ্জের তালিবপুর পূর্বপাড়ার নান্নু প্রামাণিকের ছে’লে নাঈম হোসেন (১৭), একই জে’লার শেরপুর উপজে’লার মহিপুর গ্রামের আলহাজ নুরুল ইস’লাম নুরুর ছে’লে রাসেল ওরফে সুজন (১৮) এবং খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছে’লে পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮)।নি’হত রাব্বির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১১৮৫৩। আর রাসেল ও নাঈমের রেজিস্ট্রেশন নম্বর যথাক্রমে ৭৫২৪ ও ১১৯০৭। নাঈম হোসেন ধ’র্ষণ এবং রাব্বি হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি ছিল।

এদিকে ঘটনার পর রাতে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতা’লে ভর্তি ব’ন্দি কি’শোররা তুলে ধরেন তাদের ওপর নি’র্যাতনের বর্ণনা। তারা জানান, ঘটনার সূত্রপাত ৩ আগস্ট। ঈদের দুদিন পর। শি’শু উন্নয়ন কেন্দ্রের আনসার সদস্য নূর ইস’লাম কয়েকজন কি’শোরের চুল কে’টে দিতে চান। কিন্তু কি’শোররা চুল কাটতে রাজি না হওয়ায় তিনি কর্মক’র্তাদের কাছে অ’ভিযোগ করেন- ওই কি’শোররা নে’শা করে। এর প্রতিবাদে ওই দিন কয়েকজন কি’শোর তাকে মা’রপিট করে।

আরও পড়ুন:  বন্ধ হওয়া জুট মিলের পাঁচ শতাধিক শ্রমিকের পাশে তথ্যমন্ত্রী

আ’হত কি’শোরদের দাবি, ওই ঘটনার সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে যশোর শি’শু উন্নয়ন কেন্দ্রের ১৮ জন ব’ন্দিকে রুম থেকে বাইরে বের করে আনা হয়। এরপর বিকেল ৩টা পর্যন্ত পালাক্রমে তাদেরকে লা’ঠিসোটা, রড ইত্যাদি দিয়ে বেধড়ক মা’রপিট করা হয়। এভাবে মা’রপিটের পর অ’সুস্থ হয়ে পড়লে তাদের ফেলে রাখা হয়। পরে তিনজন মা’রা গেলে সন্ধ্যারাতে তাদের ম’রদেহ যশোর হাসপাতা’লে নিয়ে যাওয়া হয়।

যশোর জেনারেল হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন ব’ন্দি চুয়াডাঙ্গার পাভেল বলে, ৩ আগস্টের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে আমাদের অফিসে ডা’কা হয় এবং এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। আম’রা ঘটনার সবকিছু জানানোর এক পর্যায়ে শি’শু উন্নয়ন কেন্দ্রের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, প্রবেশন অফিসার মুশফিকসহ অন্যান্য স্যাররা মা’রপিটে অংশ নেন।

আ’হত আরেক ব’ন্দি কি’শোর নোয়াখালীর জাবেদ হোসেন বলে, স্যাররা ও অন্য ব’ন্দি কি’শোররা আমাদের লোহার পাইপ, বাটাম দিয়ে কুকুরের মতো মে’রেছে। তারা জানালার গ্রিলের ভেতর আমাদের হাত ঢুকিয়ে বেঁধে মুখের ভেতর কাপড় দিয়ে এবং পা বেঁধে মা’রধর করেন। অচেতন হয়ে গেলে আমাদের কাউকে রুমের ভেতর আবার কাউকে বাইরে গাছ তলায় ফেলে আসেন। জ্ঞান ফিরলে ফের একই কায়দায় মা’রপিট করেছেন।

যশোরের বসুন্দিয়া এলাকার ব’ন্দি মা’রুফ হোসেন ঈষান বলে, নি’হত রাসেল আর আমি একই রুমে থাকতাম। আগামী মাসেই তার জামিনে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। স্যারদের বেদম মা’রপিট আর চিকিৎসা না পেয়ে সে মা’রা গেছে।তার অ’ভিযোগ- প্রবেশন অফিসার মা’রধরের সময় বলেন, তোদের বেশি বাড় বেড়েছে। জে’ল পলাতক হিসেবে তোদের বি’রুদ্ধে মা’মলা করে ক্রসফায়ারে দেয়া হবে।

ঈষানের মামা রমজান আলী জানান, ইতোপূর্বেও শি’শু উন্নয়ন কেন্দ্রে নি’র্যাতন-মা’রপিটের ঘটনা ঘটেছে। জানালার বাইরে হাত বের করে ধরে রেখে পেছনে বেধড়ক পে’টানো হয়েছে।নি’হত পারভেজের চাচা সেলিম রেজা জানান, তারা পারভেজ হ’ত্যার বিচার চান। বৃহস্পতিবার সকালেও পারভেজ ফোন করে তার মাকে বলেছে, ঈদের সময় পাঠানো জামাকাপড়, মাংস সে পায়নি। সেখানে ঠিকমত খাবার দেয়া হয় না। কথায় কথায় মা’রপিট করা হয়। এজন্য বাড়ি ফিরতে সে মায়ের কাছে আকুতিও জানিয়েছিল। এখন লা’শ হয়ে বাড়ি ফিরছে পারভেজ।

শুধু পারভেজ নন অন্য নি’হতদের স্বজনরাও শুক্রবার ভিড় করেছিলেন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল প্রাঙ্গনে। সেখানে তাদের আহাজারিতে এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয়।যশোরের পু’লিশ সুপার মোহাম্ম’দ আশরাফ হোসেন বলেন, দুইপক্ষের বক্তব্যে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে সং’ঘর্ষে নয়, মা’রপিটেই তিনজন নি’হত ও ১৪ জন আ’হত হয়েছে। কেন্দ্রের মধ্যে কেউ অ’প’রাধ করলে সেখানে অভ্যন্তরীণ শা’স্তির রেওয়াজ আছে। সেটি করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি আম’রা যাচাই-বাছাই করছি।

আরও পড়ুন:  ভুল অ'পারেশনে গৃহবধূর মৃ'ত্যু, সমঝোতার চেষ্টা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের

তিনি বলেন, এ ঘটনায় কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, সাইকো সোস্যাল কাউন্সিলর মুশফিকুর রহমানসহ ১০ জন কর্মক’র্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পু’লিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মা’মলার প্রক্রিয়া চলছে।এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে যশোর শি’শু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে বের হয়ে পু’লিশের খুলনা রেঞ্জের অ’তিরিক্ত ডিআইজি একেএম নাহিদুল ইস’লাম বলেন, সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে ম’র্মা’ন্তিক ও অনাকাঙিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। আম’রা যারা অ’প’রাধ নিয়ে কাজ করি, তারা ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পরে বিষয়টি অবহিত হয়েছি। যে কারণে মূল ঘটনা জানা জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, যারা আ’হত হয়ে হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন, তারাই এই ঘটনার মূল সাক্ষী। মৃ’ত্যুপথযাত্রী কেউই মিথ্যা কথা বলে না। তাদের কথার সত্যতা ও যৌক্তিকতা রয়েছে। আমাদের অনুসন্ধানে তাদের বিষয় গুরুত্ব পাবে।একেএম নাহিদুল ইস’লাম বলেন, এখানে আসলে সং’ঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। আজকের ঘটনাটি এক পক্ষীয়।যশোরের জে’লা প্রশাসক তমিজুল ইস’লাম খান বলেন, কী’’ভাবে এই কি’শোররা হতাহত হলো তা ত’দন্ত করে দেখা হচ্ছে। ত’দন্তের পরই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

এদিকে যশোর শি’শু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন ব’ন্দি নি’হত ও অন্তত ১৪ জন আ’হতের ঘটনায় দুই সদস্যের ত’দন্ত কমিটি গঠন করেছে সমাজসেবা অধিদফতর। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইস’লাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই কমিটি গঠন করা হয়। তিন কর্ম’দিবসের মধ্যে সরেজমিনে ত’দন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।ত’দন্ত কমিটির দুই সদস্য হলেন- সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) যুগ্ম সচিব সৈয়দ মো. নূরুল বাসির ও সমাজসেবা অধিদফতরের উপরিচালক (প্রতিষ্ঠান-২) এমএম মাহমুদুল্লাহ।

সূত্রঃজাগো নিউজ

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 6
    Shares