প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত

মিন্নির পাশে কেউ নেই! পুলিশ সুপারের ভূমিকা প্রশ্নবি*দ্ধ

84
মিন্নির পাশে কেউ নেই! পুলিশ সুপারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
পড়া যাবে: 7 মিনিটে

বরগুনায় প্র*কাশ্য দিবালোকে ম*ধ্যযুগীয় কা*য়দায় রিফাত শরীফকে দা* দিয়ে কু*পিয়ে কু*পিয়ে নৃ*শংসভাবে হ*ত্যা করেছে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী। ‘০০৭’ নামের এই স*ন্ত্রাসী বাহিনীর কারা কারা এ হ*ত্যাকা*ণ্ডে জ*ড়িত ছিল, গোটা দেশ ভিডিও ফুটেজেরে মাধ্যমে দেখেছে।

গা শি*উরে উঠেছে মানুষের। ক*লজে কেঁপে উঠেছে বরগুনা কলেজের সামনে জনবহুল এলাকায় এমন বর্বর হ*ত্যাকা*ন্ডে র ভ*য়াবহতা দেখে। খু*নিদের হাতে নি*হত রিফাতের নববিবাহিতা স্ত্রী মিন্নি স্বামীকে বাঁচাতে প্রা*ণপণ চেষ্টা করেছেন। আর কেউ রিফাতকে খুনিদের র*ক্তাক্ত উল্লাসমুখর রাজপথে রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। পথচারীরা নীরব দর্শক ছিল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খবরই রাখেনি শহরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় দা*নবের মতো নয়ন বন্ড বাহিনী কীভাবে সব অ*পকর্ম থেকে মানুষ খু*নের উন্মত্ততায় বে*পরোয়া হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা এ ধরনের খু*নিদের বে*পরোয়া হতে শক্তি ও সাহস জোগায়। বরগুনায় তা-ই ঘটেছে। গোটা দেশ তোলপাড় হয়েছে।

শুরুতেই খু*নি চক্রের পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীরা আসল ঘটনা আড়াল করতে প্রথমে মিন্নির সঙ্গে খু*নি নয়ন বন্ডের প্রেমের গল্প সামনে নিয়ে আসে। জাল কাবিন ছড়িয়ে দেয় পোষ্য অনলাইনের মাধ্যমে। তারপর খু*নের সহযোগিতায় তাকে জড়িয়ে চালানো হয় নানা প্রচার। গোটা দেশ যখন এই রো*মহ*র্ষক হ*ত্যাকা*ন্ডে প্রবল ঝাঁকুনি খেয়েছে তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই নন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অ*পরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা তাদের পোষ্য খু*নি চক্রকে রক্ষার তৎপরতা থামায়নি। রিফাত হ*ত্যার প্রধান আ*সামি ও চিহ্নিত খু*নি নয়ন বন্ডকে ব*ন্দুকযু*দ্ধে প্রাণ হারাতে হয়। দ্বিতীয় আ*সামি রিফাত ফরাজীসহ ১২ জনকে আ*সামি করে নি*হত রিফাতের বাবা যে মা*মলা করেছিলেন সেখান থেকে ছয় আ*সামিসহ ১৩ জনকে পু*লিশ গ্রেফতার করে। এদের ১০ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জ*বানব*ন্দি দিয়েছেন।

রিফাত ফরাজীসহ তিন আ*সামি এখনো রি*মান্ডে রয়েছেন। মা*মলার এজাহারভুক্ত পাঁচ আ*সামি এখনো গ্রে*ফতার হননি। তাদের গ্রে*ফতারের চেষ্টা চলছে। গোটা দেশ যখন খু*নিদের কঠোর শাস্তি ও তাদের গ*ডফা*দারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশায় আকুল ঠিক এমনি সময়ে নাটকীয়ভাবে নি*হত রিফাতের পিতা সংবাদ সম্মেলন করে তার পুত্রবধূ মিন্নি যিনি মা*মলার এক নম্বর সাক্ষী তার বি*রুদ্ধে অভিযোগের তীর ছোড়েন এবং খু*নে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনে গ্রে*ফতার দাবি করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মিন্নি তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকে বলেছেন, যারা বরগুনায় ‘বন্ড ০০৭’ নামে স*ন্ত্রাসী বাহিনী সৃষ্টি করেছিলেন তারা খুবই ক্ষমতাবান ও অর্থবিত্তশালী। নেপথ্যের এই ক্ষমতাবানরা বিচারের আওতা থেকে দূরে থাকার জন্য হ*ত্যা মা*মলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তার শ্বশুরের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে সংবাদ সম্মেলন করিয়েছেন।

এর আগে নয়ন বন্ডের মা হঠাৎ করে মুখ খুলে বলেন, মিন্নির ব্যবহারের অনেক কিছু তার ঘরে রয়েছে এবং দুটি ঘটনা উল্লেখ করে মিন্নিকে দা*য়ী করে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন। সবচেয়ে রহস্যের জায়গা হচ্ছে গণমাধ্যমে যে অভিযোগ উঠে এসেছিল, ‘০০৭’ নামের স*ন্ত্রাসী বাহিনী নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে সৃষ্টি হয়েছিল তার পৃ*ষ্ঠপোষক স্থানীয় রাজনৈতিক প্র*ভাবশালী মহল।

রিফাতের বাবার সংবাদ সম্মেলনের পরদিন বরগুনা প্রেস ক্লাবের সামনে বরগুনার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে মিন্নির গ্রে*ফতারের দাবিতে যে মানববন্ধন হয় সেখানে স্থানীয় সরকারি দলের এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সুনাম দেবনাথ বক্তব্য দেন। সেখানে তারা রিফাত হ*ত্যায় মিন্নি জড়িত বলে অভিযোগই আনেননি, গ্রে*ফতারেরও দাবি জানান ।

এই আয়োজনের পর নি*হত রিফাত শরীফের অকালবিধবা স্ত্রী ও মা*মলার প্রধান সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে সকাল ১০টায় পুলিশ লাইনসে নিয়ে টানা ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে জি*জ্ঞাসাবা*দ শেষে গ্রে*ফতার করা হয়। পুলিশ লাইনসে যখন নেওয়া হয়, তখন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর সঙ্গে ছিলেন। রাত ৯টার দিকে বরগুনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মারুফ হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, দিনব্যাপী জি*জ্ঞাসাবা*দ এবং তার আগে দীর্ঘ সময় ধরে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে এ হ*ত্যাকা*ন্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

তাই মা*মলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে গ্রে*ফতার করা হয়। মিন্নির পরিবার বলেছে, মা*মলা ভিন্ন খাতে নিতেই পুলিশ তাকে গ্রে*ফতার করেছে। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন বলেছেন, রিফাত হ*ত্যা মা*মলার আরেক আ*সামিকে শনাক্ত করার কথা বলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিন্নিকে পুলিশ লাইনসে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনিও সঙ্গে যান। কিন্তু তাকে একটি কক্ষে ১২ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে মিন্নিকে ভিতরে নিয়ে জি*জ্ঞাসাবা*দের নামে মানসিক নি*র্যাতন করা হয়।

পুলিশ প্রভাবশালীদের বাঁচাতেই তার মেয়েকে গ্রে*ফতার করেছে বলে অভিযোগ করেন। মিন্নিকে নিয়ে আলোচনা ও গ্রে*ফতারের পর এখন গোটা দেশের দৃষ্টি মিন্নির দিকে। খু*নিরা এখন দেশবাসীর চোখের সামনে নন। রিফাত ফরাজীসহ যে তিনজনকে রি*মান্ডে নেওয়া হয়েছে তারাও মিন্নির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেননি।

অন্য আটক আসামিরাও নন। এমনকি হঠাৎ করে নাটকীয়ভাবে নি*হত রিফাতের পিতা সংবাদ সম্মেলনের আগেও কখনো মিন্নির বিরুদ্ধে সন্দেহের তী*র ছোড়েননি। বরং তিনি মা*মলা দা*য়ের করতে গিয়ে তার পুত্রবধূকে এক নম্বর সাক্ষী করেছিলেন। গোটা বিষয়টাই এখন রহস্যময় হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক প্র*ভাবশালী মহল দৃশ্যমান হতে না হতেই পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাও নতুনভাবে আবির্ভূত হয়েছে।

মানুষের মনে ‘ডাল মে কুচ কালা হায়’ সন্দেহ তীব্র হচ্ছে। এ সন্দেহের ঊর্ধ্বে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনও নন। স্থানীয় প্র*ভাবশালী রাজনৈতিক নেতারাও নন। যে খু*নের ঘটনা ভিডিও ফুটেজে গোটা দেশ দেখেছে সেখানে খু*নিদের রক্ষা, তাদের পৃষ্ঠপোষকদের আড়াল ও সহযোগীদের যেন রক্ষা করার নাটক দেখতে না হয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই আজকে দেশের মানুষের শেষ আশ্রয়। বিশ্বাস ও ভরসার স্থল। বরগুনায় কী ঘটছে প্রধানমন্ত্রীসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার তীক্ষè নজর রাখার এখনই সময়। মানুষ চায় খু*নি ও তাদের সহযোগীদের প্রাপ্য শা*স্তি। চায় ন্যায়বি*চার। আইন তার নিজ গতিতে চলবে, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ইচ্ছায় নয়।

স্থানীয় পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের হয়ে কাজ করবে না। এই গ্যারান্টি সরকারের কাছে এখন সবার চাওয়া। অসহায় মিন্নির পাশে যেন কেউ নেই। খু*নিদের পাশে রাজনৈতিক প্র*ভাবশালী মহল। এটা আমাদের রাজনৈতিক দীনতার করুণ চিত্র।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

Loading...

আপনার মতামত লিখুন :

Loading Facebook Comments ...