প্রচ্ছদ আইন-আদালত

প্র*ভাবশালী মহলের চা*পে আ*ইনজীবীরা মিন্নির পক্ষে দাঁড়াতে না চাওয়া ফৌ*জদারি অ*পরাধ

157
পড়া যাবে: 6 মিনিটে

বরগুনায় চা*ঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হ*ত্যা মা*মলার প্রধান সা*ক্ষী নি*হতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি পাঁচ দিনের রি*মান্ডে রয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে মিন্নিকে বরগুনার আ*দালতে হা*জির করে পুলিশ সাত দিনের রি*মান্ড আ*বেদন করলে আ*দালত পাঁচ দিন ম*ঞ্জুর করেন। ওই সময় মিন্নির পক্ষে কোনো আ*ইনজীবী আদালতে দাঁড়াননি। এ কারণে সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলেন বি*চারক।

আজ বৃহস্পতিকার সন্ধ্যায় এ বিষয় নিয়ে মুঠোফোনে কথা বলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। এই আইনজীবী বলেন, ‘একজন বা দুইজন আইনজীবী ব্যক্তিগত কারণে বা বিভিন্ন বিবেচনায় মা*মলা নাও নিতে পারেন।

কিন্তু সবাই মিলে যদি সিদ্ধান্ত নেন যে, মিন্নির পক্ষে দাঁড়াবেন না, তাহলে এটা আইনজীবীদের পেশাগত আচরণ বি*রোধী। এ ধরনের যদি কোনো দলগত সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে মিন্নির বাবা বা মিন্নি বার কাউন্সিলে অ*ভিযোগ করলে আইজীবীদের সনদ বাতিল হতে পারে।’

শাহদীন মালিক বলেন, ‘কোনো ফৌ*জদারি মা*মলায় অ*ভিযু*ক্তের সাথে পরামর্শ এবং আ*ইনি সহায়তা লাভ-এটা প্রত্যেক ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার। এটা সংবিধানে ৩৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে। অতএব মিন্নি যদি আ*ইনজীবীর কাছে আ*ইনি সহায়তা না পায়, তাহলে তার সাংবিধানিক অধিকার ল*ঙ্ঘিত হবে।’

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘আমি তিনজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তাদের দাঁড়ানোর কথা ছিল, আমার মনে হয় প্*রতিপ*ক্ষদের ভ*য়ে তারা আমার মেয়ের পক্ষে দাঁড়াননি।’

মোজাম্মেল হোসেন আরও বলেন, ‘আমার মেয়েকে বুধবার আ*দালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালতে আমার মেয়ের পক্ষে অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন, অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার নাসির ও অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদেরের দাঁড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু কী কারণে দাঁড়াননি আমি বলতে পারবো না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘মিন্নির বাবা মোজাম্মেল তার মেয়ের পক্ষে আমাকে দাঁড়ানোর কথা বলেছিল। কিন্তু আমি তার পক্ষে দাঁড়াইনি। তবে কী কারণে দাঁড়াইনি তা বলতে পারব না।’

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্র*ভাবশা*লী একটি ম*হলের চা*পে মিন্নির পক্ষে দাঁড়াতে চাচ্ছেন না কোনো আইনজীবী। এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘কারও চা*পে ভ*য় পেয়ে যদি আইনজীবীরা না দাঁড়ান, এটা তো বিরাট অ*পরা*ধ।

এরকম যদি কোনো অ*ভিযোগ আসে, তবে পুলিশের উচিত হবে এটা খতিয়ে দেখা, ত*দন্ত করা। যে কারও চা*পে বা বা*ধার কারণে যে আইনজীবীরা বি*রত থাকছেন, এটাতো ফৌ*জদারি অ*পরাধ। তখন মিন্নির বাবা গিয়ে পুলিশের কাছে এ*ফআ*ইআ*র করতে পারে যে, অমুকের চা*পের কারণে আমি কোনো আইনজীবী পাচ্ছি না। তখন এম*পি হোক, মি*নিস্টার হোক পুলিশের দায়িত্ব হবে ত*দন্ত করা।’

স্বামী রিফাত শরীফকে হ*ত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা রি*মান্ডে থাকা মিন্নি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি।

এ হ*ত্যার পরিকল্পনার সঙ্গে মিন্নি যুক্ত ছিলেন জানিয়ে এসপি মারুফ হোসেন বলেন, ‘যারা হ*ত্যাকা*রী ছিল তাদের সঙ্গে মিন্নি শুরু থেকেই যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তিনি এই হ*ত্যাকা*ণ্ডের প*রিকল্পনা*য় অংশ নেন। এই হ*ত্যাকা*ণ্ড সংগঠিত হওয়ার আগে এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যা যা করা দরকার, তার সবকিছুই তিনি করেছেন। হ*ত্যাকা*রীদের সঙ্গে হ*ত্যা পরিকল্পনার মি*টিংও করেছেন।’

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকা*শ্যে রা*মদা দিয়ে কু*পিয়ে গু*রুতর আ*হত করা হয় রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হা*মলাকা*রীদের সঙ্গে ল*ড়াই করেও তাদের দ*মাতে পারেননি। গু*রুতর আ*হত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চি*কিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মা*রা যান।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বা*দী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অ*জ্ঞাত আ*সামি করে বরগুনা থা*নায় একটি হ*ত্যা মা*মলা দা*য়ের করেন।

রিফাত হ*ত্যা মা*মলায় এ পর্যন্ত মিন্নিসহ ১৪ জনকে গ্রে*প্তার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোরে মা*মলার প্রধান আ*সামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ব*ন্দুকযু*দ্ধে নি*হত হয়। এখন পর্যন্ত ১০ আ*সামি আ*দালতে ফৌ*জদা*রি কার্যবিধির ১*৬*৪ ধা*রায় হ*ত্যাকা*ণ্ডের সঙ্গে সং*শ্লিষ্*টতার কথা স্বীকার করে স্বী*কারো*ক্তিমূলক জ*বানব*ন্দী দিয়েছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

Loading...

আপনার মতামত লিখুন :

Loading Facebook Comments ...