প্রচ্ছদ রাজনীতি বিএনপি

‘মিথ্যাচারে’ জিয়াউর রহমানকে খাটো করার অপচেষ্টায় সরকার: ফখরুল

20
‘মিথ্যাচারে’ জিয়াউর রহমানকে খাটো করার অপচেষ্টায় সরকার: ফখরুল
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

 

 
 

বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার মিথ্যাচার করে জিয়াউর রহমানকে খাটো করার অপচেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সরকারের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখবেন, এই দেশের স্বাধীনতা যিনি ঘোষণা দিলেন যিনি যুদ্ধ করলেন একইসঙ্গে যিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার পরে ক্রীড়াঙ্গনকে উদ্দীপ্ত করলেন, দেশকে জাগিয়ে তুললেন- তাঁর সম্পর্কে আজকে যেগুলো একেবারেই সত্য নয়, মিথ্যা সমস্ত কথা বলে তাকে খাটো করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আসলে আওয়ামী লীগের যে কেমেস্ট্রি এই কেমেস্ট্রিটা হচ্ছে দলীয়করণের কেমেস্ট্রি। ওখানে নিরপেক্ষতা অথবা দলের বাইরে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করা- এটা তাদের মধ্যে নেই। আজকে গোটা রাষ্ট্রকে দলীয়করণ করে ফেলেছে তারা। এটা তাদের আদর্শগত, নীতিগত বলবো। কারণ ১৯৭৫ সালে তারা একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলো। আমরা তো সেগুলো ভুলে যাইনি। আজকে যদিও সব কিছু ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতো সহজে সত্যকে তো ঢেকে দেয়া যায় না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খুব খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই সময়ে খেলাধুলা বলুন, গান-বাজনা বলুন আর রাজনীতি বলুন- কোনটাই দলীয়করণের বাইরে নয়। আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম- সেই চেতনাটি ছিলো গণতান্ত্রিক চেতনা, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করার চেতনা, গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ করবার চেতনা, সেই চেতনাকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘যারা আজকে জোর করে রাষ্ট্র শাসন করছেন, তারা একাত্তরের সেই চেতনাকে বিনষ্ট করে দিয়ে একদলীয় ফ্যাসিবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। এখানে খেলাধুলা আলাদা ব্যাপার নয়, ক্রীড়াঙ্গন আলাদা ব্যাপার নয়। পুরো রাষ্ট্রটাই এখন একটা দলের মধ্যে, চিন্তার মধ্যে চলে গেলো।’

আরও পড়ুন:  জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টি

তিনি আরও বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমেরিকান অ্যাম্বাসিতে এক অনুষ্ঠানে আমাদের এক প্রতিথযশা শিল্পী যিনি লালনগীতিকে সবচেয়ে বেশি জনগণের কাছে, বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করেছেন সেই কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীনের সাথে আমার দেখা হয়েছিলো। তার স্বামী যিনি সবচেয়ে ভালো বাঁশি বাজান হাকিম সাহেবের সাথেও আমার দেখা হয়েছিলো। উনারা খুব দুঃখ করে বললেন, এখন আর তাদেরকে সরকারি কোনও অনুষ্ঠানে অথবা সরকারের স্পন্সর যে সমস্ত টেলিভিশন চ্যানেলগুলো আছে তাদেরকে সেখানে এখন আর ঢাকা হয় না। কি নিদারুণ অবস্থা চিন্তা করেন। লালনসঙ্গীত-লোকসঙ্গীতে ফরিদা পারভীন সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পী। আর যিনি আন্তর্জাতিক বহু পুরস্কার পেয়েছেন সেই হাকিম সাহেবের মতো বংশীবাদকদেরও এখন কোথাও ডাকা হয় না।’

‘ঠিক একইভাবে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন কিন্তু তাদের (আওয়ামী লীগ) সমর্থক ছিলেন না, তারা মারা যাওয়ার পরে তাদের মরদেহ শহীদ মিনারে পর্যন্ত নিতে দেয়া হয় না এখন’- যোগ করেন ফখরুল।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম জোরদার করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি একজন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মানুষ হিসেবে বলতে পারি, কর্মী হিসেবে বলতে পারি যে, আমাদের বারবার করে মনে করতে হবে আমাদের এই রাষ্ট্রের ভিত্তি যারা তৈরি করেছেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য যিনি সংগ্রাম করছেন, এখনও বন্দি অবস্থায় যিনি দেশবাসীকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ফিরিয়ে দেয়ার জন্য লড়ছেন সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমাদের স্মরণ করতে হবে। আরেক লড়াকু সৈনিক যিনি নির্বাসিত থেকেও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্মরণ করতে হবে। তাদেরকে সামনে রেখেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটা উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করতে হবে। এটা খুবই জরুরি।’

আরও পড়ুন:  দলগতভাবে ‘ধর্ষণ’ করেছিল বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা দল-মত নির্বিশেষ আমাদের যে রাষ্ট্র, যেটা আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, বহু চিন্তার যে রাষ্ট্র, বহুমতের যে রাষ্ট্র, সেই রাষ্ট্রকে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এখানে কে বিএনপি করে, কে আওয়ামী লীগ করে, কে সিপিবি করে, কে অন্যান্য দল করে ওটা বেশি ব্যাপার নয়। ব্যাপারটা হচ্ছে সকলের কথায়, সকলের মতের চিন্তার স্বাধীনতা এবং জনগণের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই রাষ্ট্র পরিচালনা করা। তাহলেই ক্রিকেট, ক্রীড়াঙ্গন সবকিছুরই উন্নয়ন হবে।’

ক্রিকেটসহ বাংলাদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়নে আরাফাত রহমান কোকোর অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘কোকো রাজনীতির বাইরে থেকে খেলাকে পুরোপুরিভাবে খেলা হিসেবে দেখে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন। আজকে আমরা ক্রিকেটে যে ভিত্তি দেখতে পাই- এটাও তৈরি করেছিলেন আরাফাত রহমান কোকো।’

এসময় ‘আরাফাত রহমান কোকো ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলার প্রস্তাব করেন ফখরুল।

খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকোর ৫১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হকের পরিচালনায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিকনায়ক শফিকুল হক হীরা, ক্রিকের্ট বোর্ডের সাবেক সহ-সভাপতি শাহ নুরুল কবির শাহিন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু, জেলা বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের মহাসচিব কাজী মহিউদ্দিন বুলবুল, ক্রীড়া সংগঠক তাবিথ আউয়াল ও প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 45
    Shares