প্রচ্ছদ বাংলাদেশ শিক্ষাঙ্গন

জাবিতে উন্নয়নের ভারে বিধ্বস্ত সড়ক

13
জাবিতে উন্নয়নের ভারে বিধ্বস্ত সড়ক
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি  :   দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো গত মার্চে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধের চার মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সম্প্রতি অনলাইন ক্লাস নিয়ে বেশ তোড়জোড় শুরু হলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় তা খুব একটা ফলপ্রসু হচ্ছে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বেশ জোরেসোরেই চলছে।

অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপে তিনটি ছাত্রী হলের কাজ আগেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু স্থান নিয়ে জটিলতার প্রেক্ষিতে আন্দোলন চলমান থাকায় তিনটি ছাত্র হলের কাজ স্থগিত ছিল। পরে করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হল সংলগ্ন মাঠে স্থগিত থাকা ছাত্রদের তিনটি হলের কাজ পুরোদমে শুরু করা হয়। এই কাজ করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের প্রধান কয়েকটি সড়ক চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদি তাই হয় সেক্ষেত্রে বেশ চাপে পড়বে প্রশাসন। কারণ এত অল্প সময়ে এই সড়ক মেরামত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিস। একই কথা জানিয়েছেন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক নাসির উদ্দিনও। আর সড়ক মেরামত না করতে পারলে শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট কেউই চলাচল করতে পারবে না।

মূলত প্রশাসনের গাফিলতি এবং দূরদর্শিতার অভাবেই এমনটা হয়েছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের। আর প্রকল্প পরিচালক নাসির উদ্দিনের কথায়ও উঠে এসেছে এমন আভাস।

তিনি বলেন, কাজ করতে গেলে সড়ক কিছুটা নষ্ট হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এতটা যে নষ্ট হবে এটা আমাদের ধারণা ছিল না।

আর প্রশাসনের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন একজন শিক্ষক এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের কোনো বিষয়ই আমাকে জানানো হয় না। ফলে এ বিষয়েও আমি কিছুই জানি না।’

আরও পড়ুন:  দেশে বেড়েই চলেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

এদিকে ভাঙা অংশগুলো কারা, কীভাবে মেরামত করবে তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেরামত করবে নাকি যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের জন্য সড়ক নষ্ট হয়েছে তারা মেরামত করবে তা এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এমনকি কাজ শুরুর সময় এসব বিষয়ে কোনো কথাও হয়নি।

জানতে চাইলে প্রথমে প্রকল্প পরিচালকও বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। পরে তিনি জানান, ‘যেহেতু আমরা কাজ করাচ্ছি এবং তাদের গাড়ি চলার কারণে সড়ক নষ্ট হয়েছে। সেহেতু দুইপক্ষ মিলেই ঠিক করতে হবে। কারও একার উপরতো বিষয়টা চাপানো যাবে না। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে নতুন ভাবে সড়ক তৈরির জন্য আলাদা বাজেট আছে। কিন্তু এখন ওই বাজেট থেকে অর্থ শেষ করলে পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কের কাজ করা যাবে না। তাই আলোচনা করে দু’পক্ষের জন্য যেটা ভালো হয় সেভাবেই কাজ করতে হবে।’

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই ভাঙা অংশগুলো মেরামত করবে বলে জানান প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন শিক্ষক। পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তাদের কাজের কারণে সড়ক নষ্ট হয়েছে। এখন তাদের কাজের স্বার্থেই ঠিক করতে হবে। সাময়িকভাবে হলেও খুব দ্রুতই তারা মেরামতের কাজ শুরু করবে।

সরেজমিনে ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছাত্রী হলগুলোর ঢালাইয়ের কাজের জন্য উপকরণ মিক্স করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল এলাকায়। কিন্তু ছাত্র হলগুলোর কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢালাইয়ের কাজের জন্য উপকরণ ক্যাম্পাসে মিক্স করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। বর্তমানে হলগুলোর বেজমেন্টের কাজ চলছে। এ কাজের জন্য ঢাকা থেকে গাড়িতে করে ঢালাই মিক্স ক্যাম্পাসে নিয়ে এসে কাজ করা হচ্ছে।

তবে এ নিয়ে তাদের এমন মনোভাবের কারণ হিসেবে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এই হলগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। সেজন্য হয়ত তাদের যেখানে কাজ করতে সুবিধা হচ্ছে তারা সেখানে কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:  করোনায় প্রাথমিকের আরও এক শিক্ষকের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৪২

প্রতিটি হল মিলিয়ে প্রায় সাতশ যানবাহন প্রতিদিন ক্যাম্পাসের ভেতর চলাচল করছে। এতে প্রধান ফটক (ডেইরি গেট) থেকে নতুন কলা ভবন, নতুন রেজিস্ট্রার এবং বটতলার বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং উঠে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নতুন কলা ভবনের সামনে এবং নতুন রেজিস্ট্রার থেকে বটতলা পর্যন্ত সড়কের পুরো অংশ বড় বড় গর্তে দেবে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের দুপাশের মাটিও সরে গেছে। দেখে কোনোভাবেই বোঝার উপায় নেই কিছুদিন আগেও এটা মসৃণ সড়ক ছিল। ফলে ক্যাম্পাসের বাসিন্দাদের জন্য হাঁটাচলা করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর এসব সড়ক দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত যাতায়াত করবেন। সেক্ষেত্রে ভারী যান চলাচল করলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার জন্য কোনো বিকল্প সড়কের পরিকল্পনা রাখা হয়নি। তবে প্রকল্প পরিচালক একটি সড়কের ধারণা দেন। বলেন, ‘সেটি হবে একটি নির্জন সড়ক। যেখান দিয়ে মানুষের চলাচল খুব একটা থাকবে না।’

কিন্তু তিনি যেভাবে সড়কের ছক দেখালেন তার কোনোটিই নির্জন নয়; আর কিছু অংশে আদতে কোনো সড়কই নেই। তার মতে, ক্যাম্পাস খোলার পর গাড়িগুলো বিশমাইল গেট দিয়ে প্রবেশ করবে। সেখান থেকে জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের সড়ক হয়ে চৌরঙ্গী হয়ে মেডিকেলের সামনে দিয়ে আল বেরুনী হলের খেলার মাঠের ওপর দিয়ে গাড়িগুলো নির্মাণ কাজের জায়গায় চলে যাবে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 13
    Shares