প্রচ্ছদ অর্থ ও বাণিজ্য

রিজার্ভ থেকে ঋণ নিতে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ

14
রিজার্ভ থেকে ঋণ নিতে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ব্যাংকে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে তার একটি অংশ সরকারি খাতে গৃহীত লাভজনক প্রকল্পে ঋণ হিসেবে অর্থায়ন করা সম্ভব কি-না, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি নীতিমালা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।  সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় ,বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি লিখে এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলেছে । অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গভর্নরকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি অংশ সরকারি খাতে গৃহীত লাভজনক প্রকল্পে ঋণ হিসেবে অর্থায়ন সম্ভব কি-না, এ বিষয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি রূপরেখা বা নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ কতে হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হলো।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।তিনি বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রার যে রিজার্ভ থাকে সেটা সাধারণত ৩ মাসের বৈদেশিক মুদ্রার দায় মেটানোর জন্য মজুত থাকতে হয়। করোনার প্রভাবে আপাতত আমদানি-রফতানি উভয়ই কম। এজন্য রিজার্ভের ফিগারটা বেশ বড় দেখা যাচ্ছে । কিন্তু এ মহামারিটা কমে গেলে তখন কী হবে সে বিষয়েও যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।’তিনি আরও বলেন, ‘করোনার কারণে অনেক প্রবাসী দেশে চলে এসেছেন। এর ফলে আমাদের বৈদেশি মুদ্রায় কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সেসব বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ বিশ্ব ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রিজার্ভকে সামনে রেখেই বিভিন্ন ধরনের ঋণ দিয়ে থাকে। 

আরও পড়ুন:  মাথাপিছু আয় বেড়ে এখন ২০৬৪ ডলার

রফতানি, রেমিট্যান্স, বিদেশি বিনিয়োগে কোনো দেশে যে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত তৈরি হয়, তাই রিজার্ভ। এই ভান্ডার থেকে আমদানি ব্যয় মেটানো হয়। আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী, সাধারণত কোনো দেশের ৩ মাসের বৈদেশিক মুদ্রার দায় মেটানোর মতো মজুত থাকতে হয়। এর কম থাকলে ঝুঁকি হিসেবে গণ্য করা হয়।

বাংলাদেশে গত এক দশকে রিজার্ভ বাড়তে বাড়তে গত ৩ আগস্ট ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের প্রায় এক বছরের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

নানা টানাপোড়েনে পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন না আসার পর এর বিশাল নির্মাণ ব্যয় মেটাতে ২০১৫ সালে রিজার্ভ থেকে ঋণ নেয়ার কথা ভেবেছিল সরকার। তখন কিছু প্রক্রিয়া শুরু হলেও ২০১৬ সালের মার্চে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার চুরি হওয়ার পর রিজার্ভ থেকে আর ঋণ নেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের যে রিজার্ভ আছে, তা এক অর্থে অলসই পড়ে থাকছে। এখান থেকে সরকার যদি কিছু অর্থ ঋণ হিসেবে ব্যবহার করে তাহলে ক্ষতির কিছু নেই। তবে, সুদের হার ও পরিশোধের মেয়াদ কী হবে, কোন ধরনের প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে, তা আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে।’

আরও পড়ুন:  ঢাকা থেকে সৌদি আরবে ফ্লাইট শুরু এ মাসেই

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই একনেকের সভায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ঋণ নেয়া কিংবা এই অর্থ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহার করা যায় কি-না, সে বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা বিদেশিদের কাছ থেকে ডলারে ঋণ নিই। আমাদের রিজার্ভ এখন ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এখান থেকে আমরা ঋণ নিতে পারি কি-না? বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণের পক্ষে এই টাকা সংরক্ষণ করে। ওখান থেকে আমরা প্রকল্পের জন্য ঋণ নিতে পারি। বিদেশ থেকে আমরা যে সুদে ঋণ আনি তা একটু কম হলেও দেশের টাকা ব্যবহার করলে লাভটা দেশেই থাকবে।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।