প্রচ্ছদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে

প্রিয়া সাহার ভ*য়ানক মি*থ্যাচা*রকে সমর্থন করে যা বললেন তসলিমা নাসরিন

95
তসলিমা নাসরিন
পড়া যাবে: 4 মিনিটে

প্রিয়া সাহা এখন এক বিতর্কের নাম। গত বুধবার (১৭ জুলাই) মার্কিন মুলুকে গিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সাধারণ সম্পাদকের দেওয়া বক্তব্যে তীব্র নিদা জানিয়েছে দেশবাসী।

সমালোচনার ঝড় বইছে দেশজুড়ে। নিজের বক্তব্যে বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু- বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ‘নি*খোঁজ’ হয়েছেন বলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেছেন প্রিয়া সাহা।

এমতাবস্থায় এ বিতর্কে যোগ দিয়েছেন খ্যাতিমান নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি দুটি দুটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

বাংলা ম্যাগাজিন পাঠকদের জন্য তসলিমা নাসরিনের স্ট্যাটাস দুটো হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘ট্রাম্পকে প্রিয়া সাহা যা বলেছেন, কমই বলেছেন। খুব মাপা সময়। ভয়াবহতা বর্ণনা করার সময় তাই পাননি। লাখকে মিলিয়ন বলেছেন নাকি মিসিংকে ডিস্যেপিয়ার্ড বলেছেন, সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈ*ষম্য বাংলাদেশে চলছে, নি*র্যাতন চলছেই। সে কারণে নিরাপত্তার অভাবে হিন্দুরা দেশ ছাড়ছে। এটা মানুষ জানুক। হাসিনা এসেও যে সংখ্যাল*ঘুকে নিরাপত্তা দেননি, এটাও জানুক মানুষ।

আরও পড়ুন:  প্রিয়া সাহাকে মা'মলা বা গ্রে'ফতারের পরিকল্পনা নেই বরং সরকার তাকে নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত

মানুষ যে দেশ ছাড়ছে, তার প্রমাণ দেশেই। প্রিয়া সাহা যদি নির্ভুল পরিসংখান দিতেন –১৯৫১ সালে যে আদমশুমারি ছিল তাতে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ২২ শতাংশ। ১৯৭৪ সালের আদমশুমারিতে এটা নেমে আসলো ১৪ শতাংশে। আর সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারিতে এটা নেমে এসেছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশে। তাহলে কি খুব চমৎকার শোনাতো? মোটেও না।’

‘হিন্দুর কথা হিন্দু ভাবে, মুসলমানের কথা মুসলমানরা ভাবে, খ্রিস্টানদের কথা খ্রিস্টানরা ভাবে, ইহুদিদের কথা ইহুদিরা ভাবে — এটা ভুল কথা। সেই হিন্দুরাই দেশের এবং দেশের বাইরের হিন্দুরা ভালো আছে না কি মন্দ আছে, এ নিয়ে ভাবে, যারা হিন্দু নিয়ে রাজনীতি করে, বা সরাসরি রাজনীতি না করলেও সেই রাজনীতি দ্বারা যাদের ম*গজধো*লাই হয়েছে । একই রকম মুসলমানরাও, কোনও মুসলমানই মুসলমানের জন্য ভাবে না, যদি মুসলমান নিয়ে রাজনীতি না করে বা সেই রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত না হয়। একই রকম খ্রিস্টান ইহুদি বৌদ্ধ বাহাই রাও।

আরও পড়ুন:  প্রিয়া সাহার বি*রুদ্ধে ব্যারিস্টার সুমনের ‘রাষ্ট্রদ্রো*হ’ মা*মলার আবেদন খারিজ

মানুষ নিজেকে নিয়ে ভাবে, নিজের স্বার্থ নিয়ে। ভালো থাকতে হলে, আরামে আহলাদে স্বছন্দে বা প্রাচুর্যে থাকতে হলে, যাদের সংগে সম্পর্কটা ভালো রাখতে হয়, তাদের সংগে রাখে, যাদেরকে খাতির করতে হয়, তাদের করে, তারা অন্য ধর্মের হলেও, অন্য জাতের হলেও, অন্য বর্ণের হলেও, অন্য বিশ্বাসের হলেও।

আমি হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, ইহুদি অনেককেই জিজ্ঞেস করে দেখেছি, তাদের সম্প্রদায় দেশে বা দেশের বাইরে দুঃখে ক*ষ্টে আছে এ নিয়ে তাদের কোনও দুর্ভাবনা নেই। খুব অল্প সংখ্যক মানুষই সব মানুষকে নিয়ে ভাবে, সব মানুষের দুর্দশা ঘোচাতে চায়। সেই অল্প সংখ্যক মানুষের আসলে কোনও ধর্ম, বর্ণ, জাত থাকে না, তারা এসবের উর্ধে উঠে যায় বলেই উদার হতে পারে, নিঃস্বার্থ হতে পারে।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট