প্রচ্ছদ কৃষি, প্রাণী ও পরিবেশ

বন্যার পানি ধেয়ে আসছে ঢাকার দিকে

46
পড়া যাবে: 5 মিনিটে

বন্যার পানি ধেয়ে আসছে দেশের মধ্যাঞ্চলে। রাজধানী ঢাকার আশপাশের নদীগুলো ভরে যেতে শুরু করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের নদীসমুহের পানি বিভক্ত হয়ে ঢাকার দিকে আসবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড আগাম সতর্কতা জারি করেছে। এদিকে সংসদীয় কমিটিতে বাংলাদেশের উজানে চীনের বন্যা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চীনের পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুজ্জামান রোববার রাতে নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, চীন বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে। এই কারণে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতিতে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। চীনের পানি বাংলাদেশের নদীতে আসার আগেই এর প্রভাব শেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ বন্যা সৃষ্টির মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড অবশ্য আগামী ২৪ ঘন্টায় পদ্মা এবং ঢাকার চারপাশের নদীসমুহ ব্যতিত অন্যান্য সকল প্রধান নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে বলে জানিয়েছে। ঢাকার আশপাশের নদীসমুহে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের উজানে ভারতের প্রদেশসমুহে আগামী ২৪ ঘন্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং সুরমা নদীসমুহের পানি হ্রাস পাবে।

আরও পড়ুন:  ‘বাবা কি করছো? আমি তোমার মেয়ে’!

অপরদিকে গঙ্গা-পদ্মা ও কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে। অপরদিকে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বগুড়া, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও সিলেট জেলায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে এবং আগামী ২৪ ঘন্টায় একই রকম থাকতে পারে।

আগামী ১০ দিনের পূর্বাভাসে বন্যার সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত কমতে পারে। পরবর্তিতে সামান্য বেড়ে স্থিতিশীল হতে পারে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর অববাহিকায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে আগামী সাত দিন বন্যা পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এসব এলাকায় নদীর পানি কমে আবার সামান্য বাড়তে পারে।

কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রথমে স্থিতিশীল হতে পারে এবং পরে কমতে পারে। আপাতত গঙ্গা নদীর অববাহিকায় গোলালন্দ অববাহিকায় বিপদসীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা নেই। পদ্মা নদীর পানি গোয়ালন্দ, আরিচা, ভাগ্যকূলে পানি আগাশী পাঁচ দিনে বিপদসীমার নিচে নেমে যেতে পারে। তবে ঢাকার আশে-পাশে নদীসমুহের পানি এর মধ্যে বৃদ্ধি পেতে পারে। ঢাকার চারপাশের নদীসমুহের অববাহিকায় পানি বিপদসীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা নেই।

আরও পড়ুন:  ঢাকায় যারা আছেন সাবধান

পানি বিশেষজ্ঞ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ইএনএসও এপ্লিকেশন ক্লাইমেট সেন্টারের প্রধান বিজ্ঞানী রাশেদ চৌধুরী বন্যা বিষয়ে বলেন, ‘বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে আরো বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তি ২০ বছর পূর্ববর্তী ২০ বছরের চেয়ে খারাপই যেতে পারে। এই শতাব্দীর শেষ ভাগে পরিস্থিতি আরো অবনতি ঘটবে যদি এখন আমরা যা করছি তা অব্যাহত রাখি।’

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ জানিয়েছে, কয়েক দিনের ব্যাপক বৃষ্টিতে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ৪০ লাখের বেশি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও পানি বাহিত রোগের ঝুঁকিতে পড়েছে।

বন্যা ও ভূমিধ্বসে সড়ক ও গুরুত্বপুর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। ৬৬ হাজারের বেশি বাড়ি-ঘর ধ্বংষ হয়ে গেছে। বিস্তির্ণ অঞ্চলে বন্যায় খাদ্য শস্য নষ্ট হওয়ার ঝূঁকিতে দেখা দিয়েছে। এতে করে খাদ্য সংকটের হু*মকী তৈরি হয়েছে। শিশু, প্রসূতি, গর্ভবতি ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট