প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত

যে কারনে ব্যারিস্টার সুমন নিজেই রাষ্ট্রদ্রো*হিতার পর্যায়ে পড়ে যাচ্ছেন

মীর মোনাজ হক

232
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

Who is Barrister Shumon? Why he has been involved in State’s Affairs? ব্যারিস্টার সুমন যে কাজগুলো করছেন নিজেই রাষ্ট্রদ্রো*হিতার পর্যায়ে পড়ে যাচ্ছেন, কেনো জানেন?

তিনি নিজেকে শোভিনিজমের গুরু মনে করছেন, আর কেউ করে না, তিনিই একমাত্র বাংলাদেশের উদ্ধারকর্তা? আমি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশটা স্বাধীন করেছি, সেই অধিকার বলেই, রাষ্ট্র সমাজ ও জনগণ এই আঙ্গিকে আজকের এই প্রতিবেদন।

যে কাজগুলো রাষ্ট্রের কারার কথা সেগুলোতে ঢুকে পড়ে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছেন তিনি, ১৮/২০টা কাঠের ব্রিজ তৈরি করে সস্তা পপুলারিটি অর্জন করার চেষ্টা করছে।

এভাবেই হিটলার শুরু করেছিলো প্রথম মহাযুদ্ধের পরে জনদরদী সেজে সরকারকে পাশকাটিয়ে জনসেবা করে, তারপর ১৯৩৩ সালে ক্ষমতায় আসে। আমার কথা হলো, ব্যারিস্টার সুমন তিনি কে?

তিনি কি সরকারের অংশ? রাষ্ট্রের সরকার আছে, মন্ত্রণালয় আছে, প্রশাসন আছে, রাষ্ট্রের যেটা দায়িত্ব সেটা তিনি নিজের হাতে নেওয়ার কি অধিকার আছে তাঁর? খুব বেশি হলে আলোচনা করতে পারেন, ভুল থাকলে শুধরে দিতে পারে, সরকারকে পরামর্শ দিতে পারেন, অথবা ত্রাণতহবিলে সাহায্য করতে পারে তার কোটি কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:  এই দেশে আমরা আর কতদিন এভাবে দানবের জন্ম দিতে থাকব?

প্রায় ২ কোটি বাঙালি দেশের বাইরে থাকে- তাদের কি টাকা পয়সা কম আছে? আর তারা যা অনুদান দেয় সেটা কি লাইভ শোর মাধ্যমে পপুলারিটি খুঁজবে সকলেই? অনেকেই বিদেশ থেকে বিনিয়োগ করে জনকল্যাণমূলক কাজও করছেন, যেমন মাত্র ১০ টাকায় দুপুরের লাঞ্চ প্যাকেট বিতরণ, কৈ তারা তো নিজের ঢোল নিজে বাজায় না, মাঝেমধ্যে সাংবাদিকরা প্রতিবেদন দেখায়।

ব্যারিস্টার সুমন কেনো লাইভ করে পপুলারিটি নিতে হবে? এটাই কি সমাজ সেবার এথিক্স? কিন্তু তার যদি রাষ্ট্রের উন্নতির জন্যে কিছু দিতে হয়, তাহলে দেশে ৬০ জন মন্ত্রী আছে মন্ত্রণালয় আছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে তিনি কোটি টাকা দান করুক, (আমি নিজেও অনেক সমাজকল্যাণমূলক প্রজেক্টে দান করেছি), তাই বলে কি আমি লাইভ শো করে সস্তা পপুলারিটি নেবো?

ব্যারিস্টার সুমন আজকেও একটা প্রতিষ্ঠনে প্রতিবন্ধীদের জন্যে কয়েকটি হুইল চেয়ার দান করে এক লাইভ শো করেছেন, যেখানে বাচ্চাদেরকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে তাদের ভিডিও করে একটা বিব্রতকর অবস্থায় শিশুদেরকে দেখানো হয়োছে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে, শিশুরাও পছন্দ করেনি, দারুন মানবতা বোধের অভাব মনে হলো লোকটার।

যারা তাকে না’জেনে বাহবা দিচ্ছেন, তারা ব্যপারটা তলিয়ে দেখছেন কি? তাঁর যদি রাষ্ট্রের কল্যাণে আরো ইনভবমেন্ট হওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে একটা বড় কোওপারেটিভ ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করে (মুনাফা না নেওয়ার শর্তে) ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করুন।

আরও পড়ুন:  আওয়ামী লীগ সরকার এখন নির্বাচনকে ভূতের মতো ভয় করছে

আর প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে যেসব কথা উচ্চারণ করেছে ব্যরিস্টার সুমন তাতে আমার মনে হলো তার নিজেরি রাষ্ট্রবিরো*ধী আচরণ হয়েছে। প্রিয়া সাহা বাংলাদেশের “বুরো অফ স্ট্যাটিস্টিক্স”-এর ডাটাবেজ থেকে নেওয়া সেই তথ্য (যদিই সেটা উল্লেখ করেননি) ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু, বৌদ্ধ খৃষ্টানদের ১৯৪৭ এর পরে বি*লুপ্তির কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে কোনো আ*ইনি পদক্ষেপ না নিয়ে, কিন্তু এই ব্যারিস্টার সুমন কি আ*ইনের এথিক্স জানেন না? ঢাকার আদালত তার দেওয়া মা*মলা খারিজ করে দিয়ে বিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন।

আমি আগামীতে এই ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে একটি দীর্ঘ নিবন্ধে তুলে ধরতে চাই, রাষ্ট্রের কাজের মাঝে এই ধরনের ইনভলভমেন্ট কতটা বি*পদজন*ক হতে পারে, আমাদের রাষ্ট্র গরীব হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের একটা সরকার আছে সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ একজন বাইরের সাধারণ মানুষের কতটা বি*পদজন*ক!

মীর মোনাজ হক: লেখক, বীর মুক্তিযোদ্ধা।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি