প্রচ্ছদ বাংলাদেশ শিক্ষাঙ্গন

রুমের ভেতরে উইপোকা, বাইরে চোর

13
রুমের ভেতরে উইপোকা, বাইরে চোর
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি  :   হলের রুমে উইপোকায় কেটেছে মূল সনদ, মার্কশিট। তার ওপর বন্ধ হলের বারান্দা থেকে সাইকেল চুরির অভিযোগ। আর পাশের মেসগুলোতে অব্যাহত চুরি। এ রকম ঘটনার পর দুশ্চিন্তায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় পার্শ্ববর্তী অতিথি ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীরা এসে দেখেন তাদের রুমে চুরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তছনছ করা হয়েছে পুরো মেস।

এর আগে গত শনিবার আবাসিক হলের রুমে সনদপত্র পোকায় কাটার ঘটনা জানান ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান বাবু। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের এই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যলয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ১৩৪ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

আক্ষেপের সঙ্গে বাবু জানান, সব কেটে ফেলেছে। রুমের চাবি আর আইডি কার্ড দিয়ে অন্যজনের মাধ্যমে এগুলো আনতে চেয়েছিলাম। অনেকে বলেছে এভাবে নিতে দেবে না। তারপর লকডাউন শুরু হওয়ায় আর যাওয়া হয়নি। এরই মধ্যে যা হওয়ার হয়ে গেছে। পোকায় কেটে ফেলেছে বইপত্র,তোষকসহ সবকিছু।

আরও পড়ুন:  প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইন বদলির কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষা

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের ১১৯ নম্বর রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী নুর ফয়েস ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন তার তোষক উইপোকায় কেটেছে।

শুধু উইপোকা কাটা নয়। বন্ধ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হল থেকে এক শিক্ষার্থীর সাইকেল চুরি গেছে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগী এম এইচ আর হাবীব খান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

ক্যাম্পাস ছাড়ার আগে মসজিদের সামনে সাইকেল রেখেছিলেন বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে গত ১৩ আগস্ট রাজশাহীতে আসলে তিনি হলে যান। হল প্রাধ্যক্ষের অনুমতিক্রমে তিনি হলে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় কাগজ ও জিনিসপত্র কাপড়চোপড় নিয়ে সাইকেল নিতে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও পাননি বলে অভিযোগ করেন।

একের পর এক এসব ঘটনার পর দুশ্চিন্তার কথা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আবু হুরায়রা রাইহান ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, তিনি হলের ২১৬ নম্বর রুমে থাকেন। বইয়ে ময়লা জমার ভয়ে তোশক দিয়ে ঢেকে রেখে এসেছেন। তবুও কী হবে সেই দুশ্চিন্তা বাড়ছে তার।

আরও পড়ুন:  ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ : ৪ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিল

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, হলের রুমগুলো তালাবদ্ধ। শিক্ষার্থীরা যাওয়ার আগে তালা মেরে গেছে তাই ভেতরে কী হচ্ছে সে বিষয়ে আমরা জানতে পারব না। তবুও রুমের বাইরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য প্রভোস্টদেরকে অনুরোধ জানিয়েছি৷

এছাড়া পাশের মেসগুলোতে চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেসগুলোতে চুরির দায় মেস মালিকদের। মেসগুলোতে শিক্ষার্থীদের ঢুকতে দেয়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করছে তারা। অন্যদিকে মেসের নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারছে না। এসবের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মেস মালিককে নিতে হবে বলে জানান তিনি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।