প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

“মিন্নি নয়, রিফাত হ’ত্যার নেপথ্যে চেয়ারম্যানের স্ত্রী-পুত্ররা?”

245
পড়া যাবে: 5 মিনিটে

বরগুনার আলোচিত রিফাত হ’ত্যাকাণ্ড নিয়ে একের পর এক বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। শুরুতে নি’হত রিফাতের স্ত্রী মিন্নি এই হ’ত্যা মা’মলার প্রধান সাক্ষী থাকলেও পরবর্তীতে তিনিই হয়ে যান আ’সামি। প’রকীয়াই এই হ’ত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে জানিয়েছিল পুলিশ। তবে এবার বেরিয়ে এসেছে আরেক তথ্য। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র বলছে, রিফাত হ’ত্যার নেপথ্যে থাকতে পারেন বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের স্ত্রী সামসুন্নাহার খুকি। তিনি রিফাত হ’ত্যার অন্যতম দুই আ’সামি রিফাত ফরাজি ও রিশান ফরাজির খালা।

গত ২৬ জুন সকালে বরগুনার কলেজ রোডে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে স্ত্রী মিন্নির সামনে যারা কু’পিয়ে হ’ত্যা করেন তাদের অগ্রভাগে ছিলেন রিফাত ফরাজী ও রি’শান ফ’রাজী। ওইদিনের ঘটনার প্রকাশিত ভিডিও-তে দেখা যায়, ছোট ভাই রি’শান পেছন দিক থেকে রিফাত শরীফকে জাপটে ধরে ছিলেন। আর বড় ভাই রিফাত ফরাজি দা’ দিয়ে কো’পাচ্ছিলে’ন। বড় ভাইয়ের সেই দা’য়ের আ’ঘাতে রি’শানের হাতও অনেকটা কে’টে গিয়েছিল। রিফাত হ’ত্যার প্রধান আ’সামি ছিলেন নয়ন। নয়ন-রিফাত দ্বন্দ্বের কারণ হিসেবে রিফাতের স্ত্রী মিন্নির সঙ্গে নয়নের প’রকীয়াকে দায়ী করা হচ্ছিলো। ভাবা হচ্ছিলো, মিন্নির কারণেই রিফাতের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন নয়ন। কিন্তু রিফাতকে কো’পানোর সময় ফরাজি ভাইরাই কেন সবচেয়ে বেশি নৃ’শং’স হয়ে উঠেছিলেন সেই প্রশ্ন উঠছেই। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ঘটনার পেছনে জড়িয়ে আছে আরেক কাহিনি।

রিফাত ফরাজি ও রি’শান ফ’রাজির বাসা শহরের ধানসিড়ি রোডে হলেও তারা থাকতেন শেখ রাসেল স্কয়ার লাগোয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসায়। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শামসুন্নাহার খুকী তাদের খালা হন। খুকীর একমাত্র প্র’তিবন্ধী ছেলে কয়েক বছর আগে পানিতে ডু’বে মা’রা যায়। তখন থেকেই দুই ভাই রিফাত ও রিশান তাদের খালা চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে মা বলে ডেকে আসছিলেন। তারা দুই ভাই ওই বাসায়ই থাকতেন। এমনকি চেয়ারম্যানের স্ত্রী তার ভাগ্নেদের সব অ’পকর্মেই প্রশ্রয় দিতেন বলেও জানা যায়। রিফাতের বিরুদ্ধে চারটি মা’মলা রয়েছে। তিনি একাধিকবার গ্রে’প্তারও হয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই তার খালা চেয়ারম্যানের স্ত্রী খুকি প্র’ভাব খাটিয়ে তাকে জা’মিনে ছাড়িয়ে আনেন।

দেলোয়ার হোসেনের বাসার সামনেই রয়েছে তার মালিকানাধীন দোকান। সেটি ভাড়া নিয়ে এক ব্যবসায়ী খাবারের হোটেল ‘মাটিয়াল ক্যাফে অ্যান্ড মিনি চায়নিজ’ করেছেন। রিফাতকে কু’পিয়ে হ’ত্যার ঘটনার আগে গত ৫ মে মিন্নি তার স্বামীকে নিয়ে ওই ক্যাফেতে গিয়েছিলেন। রিফাত শরীফ তার মোটরসাইকেল চেয়ারম্যানের বাসার একেবারে সামনে সড়কের পাশে রাখার চেষ্টা করেন। তখন সামসুন্নাহার খুকি বাধা দেন। এ নিয়ে খুকির সঙ্গে রিফাতের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। রিফাত তার সঙ্গে বা’জে ব্যবহার করেন। তখন রিফাতকে দেখে নেওয়ার হু’মকি দিয়েছিলেন খুকি। ধারণা করা হচ্ছে, এর জের ধরেই দুই ভাই রিফাত শরীফের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হ’ত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন রিফাত-রিশান।

মিন্নি তার সংবাদ সম্মেলনেও এ বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বরগুনা সরকারি কলেজ ফটকের সামনে তার স্বামীকে রিশান ফরাজি প্রথম পথ রোধ করেছিলেন। রিশান তখন দাবি করেছিলেন, রিফাত শরীফ তার মাকে (খুকি) অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন। কেন করেছেন সেটা জানতে চান রিশান। ঠিক একই সময় রিফাত ফরাজী বলেন, ‘তুই (রিফাত) আমার চোখের দিকে তাকাইয়া ক, মাকে কেন তুই গালি দিয়েছো।’ তখন রিফাত-রিশানের সঙ্গে থাকা অন্য আ’সামিরা রিফাতের কাছে অ’স্ত্র আছে বলে চিৎকার করে এবং ধর ধর বলে তাকে কি’লঘু’ষি মা’রতে শুরু করে।

রিফাত হ’ত্যার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তাকে বরগুনা সরকারি কলেজের ফটক থেকে ধরে আনার আগে থেকেই রিফাত ফরাজি কলেজ ফটকে অবস্থান করছিলেন এবং তার সহযোগীদের নানা নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।

পুরো বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি হ’ত্যার সঙ্গে নিজের এবং শামসন্নাহার খুকির জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। রফাতের সঙ্গে তার স্ত্রীর কোনো কথাকা’টাকা’টির ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান তিনি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

Loading...

আপনার মতামত লিখুন :

Loading Facebook Comments ...