প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

লোকসানের ঝিনাইদহের পাট চাষিরা

14
লোকসানের ঝিনাইদহের পাট চাষিরা
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে পাটের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। বৈরী আবহাওয়া আর অসময়ে বৃষ্টির কারণে ফলন বিপর্যয়ের এ আশঙ্কা করছেন তারা। জেলায় ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি জমির পাট কাটা শেষ হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার সামন্তা গ্রামের কৃষক সবুজ মিয়া জানান, এ বছর তিনি তিন বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছিলেন। বৃষ্টির কারণে একটি জমির পাট বড় না হওয়ায় শুরুর দিকে তা কেটে অন্য আবাদ করেছেন। দুই বিঘা জমিতে যে পাট ছিল তারও ফলন ভালো হয়নি। এ বছর পাট চাষে লোকসান গুনতে হতে পারে বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলার পবহাটি গ্রামের কৃষক আলিম উদ্দিন জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে এ বছর পাটের আবাদ করেছেন। পাট বীজ, চাষাবাদ, সার প্রয়োগ, নিড়ানি, পাট পরিচর্যা, শ্রমিক খরচ, পাট জমি থেকে কেটে পানিতে জাগ দেওয়া, আশ ছাড়ানো পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ৩৪ হাজার টাকা। ২২ কাঠা জমিতে তিনি পাট আশা করছেন ১৩ থেকে ১৪ মণ। যার বর্তমান বাজার মূল্যে ২৮ হাজার টাকা। পাটকাঠি বিক্রি হতে পারে আরও পাঁচ হাজার টাকার মতো। এক্ষেত্রে তাকে এক হাজার টাকার মতো লোকসান গুনতে হবে। তিনি বলেন, আমার জমিতে অন্যদের তুলনায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবু লোকসান হবে। তাহলে যাদের ফলন ভালো হয়নি, তাদের কী পরিমাণ লোকসান গুনতে হচ্ছে। জেলার শৈলকূপা উপজেলার ভাটই গ্রামের কৃষক রাশেদ মোল্লা বলেন, বর্তমানে বাজারে পাটের দাম ১৬শ’ থেকে দুই হাজার টাকা। তবে উৎপাদন কম হওয়ায় এবার লোকসান গুনতে হচ্ছে। জেলা কৃষি অধিদফতরের দেওয়া তথ্যমতে, এ বছর জেলার ছয় উপজেলায় ২২ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় পাঁচ হাজার ২২০ হেক্টর, কালীগঞ্জে এক হাজার ৬০০ হেক্টর, কোটচাঁদপুরে ৮২০ হেক্টর, মহেশপুরে তিন হাজার ২১০ হেক্টর, শৈলকূপায় সাত হাজার ৯৫০ হেক্টর ও হরিণাকু-ুতে তিন হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৪৯৬ মেট্রিক টন। পাটের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। কারণ হিসেবে কৃষকরা বলছেন, পাটের বাড়ন্ত সময় বৃষ্টির কারণে ফলন ভালো হয়নি। শৈলকূপা উপজেলার উত্তর মির্জাপুর গ্রামের পাটচাষি রুহুল আমিন জানান, পাটবীজ জমিতে রোপণ করার পর পাটের চারা ভালো গজিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে পাটের গোড়ায় শেকড় গজিয়ে যায়। যে কারণে বাড়ন্ত কমে যাওয়ায় এবার ফলন কম হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস বলেন, আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও পূরণ হচ্ছে না উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা। এক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন:  গোপালগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 8
    Shares