প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

অর্ধ-ডজন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি লিটনকে খুঁজছে পুলিশ

32
অর্ধ-ডজন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি লিটনকে খুঁজছে পুলিশ
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

অর্ধ-ডজনের বেশি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সিকদার লিটন নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করতে পারছে না পুলিশ। দীর্ঘদিন আগে থানায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টগুলোর কাগজ পৌঁছালেও সব সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে গেছেন তিনি। এতে করে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এই প্রতারক। 

স্থানীয়রা জানায়, এমন কোনো অপরাধ নেই, যার সঙ্গে জড়িত নয় সিকদার লিটন। বিশেষ করে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকি, সাইবার অপরাধসহ প্রায় ডজনখানেক অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তাছাড়া নানান অভিযোগে লিটনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় দুই ডজনের বেশি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিকদার লিটনের বাড়ি আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চর আজমপুর গ্রামে। ওই গ্রামের সিদ্দিক শিকদারের ছেলে সিকদার লিটন। স্থানীয়দের কাছে তিনি প্রতারক ও ছদ্মবেশী অপরাধী বলেই বেশি পরিচিত। এলাকার মানুষকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন লিটন। একবার তার হাতে টাকা গেলে সেই টাকা কেউ ফেরত পেয়েছেন এমন নজির বিরল। চাকরি তো দূরের কথা, টাকা চাইতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। 

আরও পড়ুন:  বিশ্বসেরা ১০ চিন্তাবিদের তালিকায় বাংলাদেশের স্থপতি মেরিনা

এসব অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলাও আছে তার বিরুদ্ধে। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর লিটন ভুক্তভোগীর ফোন ধরা বন্ধ করে দেন। এসব কারণে আলফাডাঙ্গা ও  টগরবন্দ থেকে তাকে বিতারিত করা হয়। গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন সময় আস্তানা গেড়েছেন। বেশি দিন মোবাইলের এক নম্বর ব্যবহার করেন না।

একটি সূত্র বলছে, এলাকা থেকে বিতারিত হবার পর রাজধানী ছাড়াও খুলনার সীমান্ত এলাকা, পাবনাসহ বিভিন্ন জায়গা অবস্থায় নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। বর্তমানে ভাঙ্গা এবং গোপালগঞ্জে তার অবস্থান বলে জানা গেছে।

এদিকে, সম্প্রতি তার প্রতারণার বিভিন্ন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে সিকদার লিটন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে গুজব ছড়াতে থাকেন। মাঝে মাঝে ফেসবুক লাইভে এসে নেতাদের বিরুদ্ধে বাজে মন্তব্য করেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক এমপি মো. আব্দুর রহমান, আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম আকরাম হোসেন, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আরিফুর রহমান দোলন, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সাইফারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটাচ্ছেন। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানায় সাইবার অপরাধে মামলা হয়েছে। যা আদালতের নির্দেশে তদন্তাধীন।

আরও পড়ুন:  ওসি প্রদীপসহ তিনজনকে আদালতে হাজির করা হবে সোমবার

প্রতারণার অভিযোগে সিকদার লিটনের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানায় ৭/৮টি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়া একাধিক সাইবার মামলার তদন্ত করছে থানা পুলিশ। পুলিশ বলছে, খুবই চালাক এই প্রতারক প্রতিনিয়ত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন। যেখানেই অবস্থান করেন সেখানেই মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে সরে পড়েন। বহুরূপী এই প্রতারক বিভিন্ন সময় ডজনখানেক সিম নিজের নামে কিনেছেন।

এ বিষয়ে মধুখালী সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, আসামিকে আমার অফিসে ডেকেছিলাম কিন্তু সে হাজির হয়নি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম তার নামে ওয়ারেন্ট আছে থানায়। তবে সে এলাকায় নেই। এলাকায় থাকলে ইতোমধ্যে গ্রেফতার হতো।

তিনি বলেন, সিকদার লিটনের বিরুদ্ধে ৭/৮টি ওয়ারেন্ট রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 106
    Shares