প্রচ্ছদ বাংলাদেশ

সংখ্যাল’ঘুদের ওপর নি’র্যাতনের ধারাটা অব্যাহত আছে

23
পড়া যাবে: 8 মিনিটে

সংখ্যাল’ঘুদের সমস্যা নিরূপণ ও তা থেকে উত্তরণে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সংসদীয় কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশ গুপ্ত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, পৈতৃক ভিটায় অ’গ্নিসংযো’গের ঘটনায় প্রিয়া সাহা মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেও বিচার পাননি।

তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দেয়া বক্তব্যের জন্য নয়, তার ভুল সাংগঠনিক পরিচয়ের কারণে প্রিয়া সাহাকে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রিয়া সাহার সাক্ষাৎ ও সাক্ষাৎকার’ বিষয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রানা দাশগুপ্ত।

তিনি বলেন, প্রিয়া সাহার পৈতৃক বাড়িটি অ’গ্নিসংযো’গে ধ্বংস করা হয়েছে চলতি বছরের মার্চ মাসের দিকে। এটি সত্য। এ ঘটনার বিচার পেতে প্রিয়া সাহা আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দারস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বি’চার পাননি। এ কারণে তার মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি বলেন, প্রিয়া সাহার পৈতৃক বাড়ি যে জ্বা’লিয়ে দেয়া হয়েছিল, এটি সত্য। বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এ সংবাদ যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়।

রানা দাশগুপ্ত অভিযোগ করেন, প্রিয়া সাহা সরকারের বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন। আমার সামনেই শহীদ মিনারে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম কাছে বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু রেজাউল করিম সাহেব সম্মানজনকভাবে তার সঙ্গে কোনো কথা বলতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এগুলো আমার চোখের সামনে হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যক্তির যদি ঘর-বাড়ি জ্ব’লে থাকে, তাও আবার মানবাধিকার কর্মী প্রিয়া সাহার পৈতৃক বাড়ি, সাধারণ হিন্দু বৌদ্ধ-খ্রিস্টানদের কথা বাদ দেন। আপনারা নিজেদের কথা বিবেচনা করেন, আপনাদের বাড়ি-ঘর যদি জ্বা’লিয়ে দেয়া হতো? বিচার চাওয়ার পরও কোথাও বিচারের মুখোমুখি না হতেন, আপনাদের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ হতো কি- না?

রানা দাশগুপ্ত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার সাক্ষাতের বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে তর্ক-বিতর্কের ঝড় উঠেছে। গত ১৯ জুলাই গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়, বাংলাদেশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়ে প্রিয়া সাহা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতে দেশে সংখ্যাল’ঘু নি’র্যাত’নের ব্যাপারে অভিযোগ করে তার সাহায্য কামনা করেছেন। তিনি তার বাড়ি জ্বা’লিয়ে দেয়ার ও জমি কেড়ে নেয়ার কথাও বলেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ (৩৭ মিলিয়ন) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ডি’জএপে’য়ার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

রানা দাশগুপ্ত এ প্রসঙ্গে বলেন, আজকের সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে চাই, প্রিয়া সাহা সংগঠনের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক, এটি সত্য। তবে সাংগঠনিক কোনো সিদ্ধান্ত বা দায়িত্ব নিয়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাননি বা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। তার সঙ্গে সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিডম হাউসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দেখেছি, প্রিয়া সাহাকে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোনো কোনো মার্কিন গণমাধ্যমে আমাকে সংগঠনের সভাপতি পরিচয় করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমি রানা দাশগুপ্ত সংগঠনের সভাপতি নই। আমি সাধারণ সম্পাদক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে এহেন সাংগঠনিক পরিচিতি নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তির পরিপ্রেক্ষিতে এটিকে সংগঠন-বিরোধী কর্মকাণ্ড বিবেচনায় গত ২৩ জুলাই সংগঠনের কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি সভায় প্রিয়া সাহাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তিনি ঢাকায় ফিরে এলে তার বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, প্রিয়া সাহা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোক ডি’জএপি’য়ার হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন। ডি’জএপি’য়ার বলতে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন তা তিনিই ভাল বলতে পারবেন। এটি যদি স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যাল’ঘুদের গু’ম বা নি’খোঁজ অর্থে বলে থাকেন তবে তা অসত্য এবং আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তবে এক গবেষণাগ্রন্থে আছে শুধু কালাকানুন শত্রু (অর্পিত) সম্পত্তি আইনের ছো’বলে ১৯৬৪-২০১৩ সময়ে ১ কোটি ১৩ লাখ হিন্দু জনগোষ্ঠী হা’রিয়ে গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে রানা দাশগুপ্ত বলেন, আজ পর্যন্ত প্রিয়া সাহার সাথে আমার কোনও কথা হয়নি। প্রিয়া সাহা কবে বাংলাদেশে ফিরবেন এ সম্পর্কে সাংগঠনিকভাবে আমাদের কিছু জানা নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে সংখ্যাল’ঘু সমস্যাবলীকে পাশ না কাটিয়ে সমস্যাগুলোকে ইতিবাচকভাবে মোকাবিলা করারই সঠিক হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আজকের এ সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রদত্ত অঙ্গীকার পূরণের পাশাপাশি অনতিবিলম্বে সংখ্যাল’ঘু সমস্যাবলী নিরূপণে ও তা থেকে উত্তরণের সুপারিশ প্রণয়নের জন্যে সংসদীয় কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছি।

রানা দাশগুপ্ত আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া কি বলেছেন এটা আমাদের বিচার্য নয়। ক্ষোভ থেকে বলেছেন কি- না সেটাও আমরা জানি না। তবে এ কথা ঠিক ব্যক্তিত্বে ক্ষোভ হতেই পারে। আমি ক্ষতিগ্রস্ত হলাম, বিচার চাইলাম, মা’মলা করলাম। কিন্ত কেউ নাই। বরং উল্টো কথা, প্রিয়া সাহা নাকি নিজের বাড়ি জ্বা’লিয়ে দিয়েছেন। এটা হয়?

এ সময় লিখিত বক্তব্যে রানা দাশগুপ্ত আরও বলেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শি’কারের যে অপপ্রয়াস আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, ব্যক্তির বক্তব্যকে পুঁজি করে সম্প্রদায়বিশেষকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর যে ঘৃণ্য অভিসন্ধি আমরা লক্ষ্য করেছি তা দুঃখ্য ও দুর্ভাগ্যজনক। এর মধ্যে গত ২১ জুলাই প্রিয়া সাহার কাছ থেকে ব্যাখ্যা জানার আগে তার বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা না নেয়ার পাশাপাশি তার পরিবারের জীবন ও সম্পদ রক্ষার ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা গোটা জাতিকে আশ্বস্ত করেছে।

সংখ্যাল’ঘুদের ওপর নি’র্যতন বন্ধ হয়েছে কি- না, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা বলেন, নি’র্যাতন বন্ধ আছে কি- না সেটা তো বলেছিই। আগে যে রেঞ্জে ছিল তার থেকে কমতি ঠিকই আছে। কিন্তু আমরা তো বলেছি নি’র্যাতনের ধারাটা অব্যাহত আছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য নিমচন্দ্র ভৌমিক, বাসুদেব ধর, নির্মল রোজারিও, জোসেফ মণ্ডল, অ্যাডভোকেট পরিমল গুহ, জয়ন্তী রায়সহ আরও অনেকে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

Loading...

আপনার মতামত লিখুন :

Loading Facebook Comments ...