প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

কী ‘বিশেষ বার্তা’ দিলেন শ্রিংলা!

16
কী ‘বিশেষ বার্তা’ দিলেন শ্রিংলা!
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

লাদাখে চীনে সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কিছুটা অবনতি দেখা দেয়। ভুটান-নেপালের পর তাই চোখ ছিল বাংলাদেশের দিকে। তবে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার খোরাক যোগান দেয় ভারতীয় কয়েকটি মিডিয়া।

ভারতীয় হাইকমিশনারকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার মাস ধরে দেখা দিচ্ছেন না বলে সম্প্রতি একটি খবর প্রকাশিত হয় দেশটির গণমাধ্যমে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগের বিষয়টিও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পায়।

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় চীনে পরামর্শ, পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ফোন, তিস্তায় চীনের বিনিয়োগ নিয়ে যখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির খবর প্রকাশ পায় তখনই হঠাৎ করে বাংলাদেশ সফরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

মঙ্গলবার ও বুধবারের এই দুইদিনের আকস্মিক ঢাকা সফর গতকাল বুধবার শেষ হয়েছে। হোটেল সোনারগাঁওয়ে দেড় ঘণ্টাব্যাপী দু’দেশের সচিব পর্যায়ে বৈঠক শেষে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভারতের কাছে বাংলাদেশ সব সময়ই অগ্রাধিকারে রয়েছে। দু’দেশের মধ্যে চলমান সম্পর্ককে সোনালি অধ্যায় উল্লেখ করে ভারতের এই কূটনীতিক বলেন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা ভারতে উৎপাদিত হলে তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে।

দুই দেশের পরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের এই বৈঠকে গণমাধ্যমে ফোকাস পায় করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনই। এছাড়াও সীমান্ত হত্যা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবার্সনটি বৈঠকের টেবিলে তোলে বাংলাদেশ। তবে দু’পক্ষই দৃশ্যত ভ্যাকসিন কূটনীতিকে প্রকাশ্যে আনলেও অন্তরালে দক্ষিণ এশিয়ার জটিল রাজনীতির মারপ্যাঁচ নিয়ে কী প্রস্তাব ও আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে দু’দেশের মিডিয়ায় জল্পনা চলছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি বার্তা পৌঁছে দেন বলে বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  মানুষ তার পুরনো জীবনে ফিরতে পারবে না : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বিশ্বজুড়ে যেকটি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার এগিয়ে এবং আলোচিত তা হলে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার আবিষ্কৃত টিকা। এই টিকার পরীক্ষা ও উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত হয়েছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এসআইই)। দ্বিতীয় ধাপ থেকেই এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে যাচ্ছে দেশটির সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী এই প্রতিষ্ঠান। 

তবে বাংলাদেশের বাজারে নিজেদের টিকার বিস্তার ঘটাতে চীনও আগ্রহী। ভ্যাকসিন কূটনীতির মধ্যবর্তী অবস্থানে ভারতের আগ্রহেই দু’দিনের এই পররাষ্ট্র সচিবপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো বলে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বিশ্বের ৬০ ভাগ টিকা ভারত উৎপাদন করে জানিয়ে বলেন, যখন টিকা আবিষ্কার হবে, আমাদের বন্ধু, সহযোগী এবং প্রতিবেশী দেশগুলো এর অংশীদার হবে।

মূলত আমাদের মৃত্যুহার কম এবং সুস্থতার হার বেশি। কী ‘বিশেষ বার্তা’ তিনি এনেছেন, এমন প্রশ্নে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘বিশেষ বার্তা হচ্ছে, কোভিডের কারণে যেহেতু বিভিন্ন দেশের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক নেই কোনো দেশেরই। সেটার একটা ব্রেকথ্রু হিসেবে আমরা দেখছি এই সফরটাকে। তিনি স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এখানে এসেছেন এবং এটা উনারও প্রথম সফর এই কোভিডের সময়ে।’

তিনি আরো বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রসচিব আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দিল্লিতে যাওয়ার জন্য। জয়েন্ট কনসাল্টিং কমিটির মিটিং হবে, তার আগেই হয়তো আমি একবার যাব। দুই দেশের মধ্যে এই ধরনের মিটিং নরমাল সময়ে অনেক হতো, কোভিডের কারণে হয়তো সম্ভব হয়নি।’

আরও পড়ুন:  ইউএনও ওয়াহিদা যথেষ্ট বিপজ্জনক অবস্থায় আছেন: মেডিকেল টিম

বাংলাদেশ ও ভারতের সাথে সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর সম্পর্কে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল বা অন্যান্য মাধ্যম বা সোস্যাল মিডিয়াতে যে সব খবর আমরা ইদানীংকালে দেখতে পেয়েছি, সে ব্যাপারে আমরা পরস্পরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।

তবে প্রকৃতপক্ষে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আগের চেয়ে আরো ভালো হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক প্রস্তর-কঠিন এবং গত কয়েকটি বছর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সোনালী অধ্যায়।

ভারতীয় কূটনীতিকরাও বলেন যে দুই দেশ হলো ঘনিষ্ঠ দুই ভাই। মহামারী শুরু হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার অন্তত তিনবার অনলাইনে বিনিময় ও আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কিছু সমস্যা আছে, সে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। যেমন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন এবং তারা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নকে সবসময় সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে। প্রতি বছরই সীমান্তে বিএসএফের একপেশি হত্যাকাণ্ড চলছে। যা আশ্বাসের পরও সমাধান হচ্ছে না। এছাড়াও ভারত যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন করেছে তা উত্তর-পূর্ব ভারতের বিপুল সংখ্যক কথিত ‘বাংলাদেশি মুসলমানকে’ আঘাত করেছে। এতে বাংলাদেশের জনগণ উদ্বিগ্ন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares