প্রচ্ছদ প্রবাস

ছুটিতে থাকা প্রবাসী কর্মীদের নিতে চাচ্ছে না আবুধাবি

29
ছুটিতে থাকা প্রবাসী কর্মীদের নিতে চাচ্ছে না আবুধাবি
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

করোনাভাইরাসের সংক্রমনের মধ্যেই ছুটিতে থাকা বিদেশি কর্মী নেয়ার অনুমতি দিয়ে আবার বন্ধ করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি কর্তৃপক্ষ। জানাগেছে আপাতত ছুটিতে থাকা বিদেশি কর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দিবে না আবুধাবি। তবে অন্য ভিসাধারীরা প্রবেশের সুযোগ পাবেন।  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে আবুধাবির সরকার বাংলাদেশকে এখনো কিছুই জানায়নি। মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন প্রবাস বার্তাকে জানান, আবুধাবি সরকারের সাথে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করছেন তারা।

করোনাভাইরাস এর প্রভাবের মধ্যেই অভিবাসী কর্মীদের নেয়া শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আমিরাতই বিশ্বে প্রথম কোন দেশ যারা ছুটিতে থাকা বিদেশি কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার অনুমতি দেয়। শুরুতে দুবাই এবং আবুধাবি বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন করে আগাম অনুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক ছিল। ১১ আগস্ট থেকে দুবাই বাদে অন্য প্রদেশের ভিসাধারীদের আবুধাবি বিমানবন্দর দিয়ে পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রবেশের অনুমতি দেয়। সে ক্ষেত্রে আবুধাবিগামিদের অনলাইনে ভিসা স্ট্যাটাস যাচাই করার একটি পদ্ধতি চালু করা হয়। ভিসা স্ট্যাটাস যাচাই কালে গ্রিন সিগন্যাল বা সবুজ লেখা এসএমএস আসলে কর্মীরা যাওয়ার অনুমতি পায়। কিন্তু নতুন নিয়ম মানার পরও আবুধাবি ইমিগ্রেশন বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি কর্মীদের দের আটকে দেয়।

১৫ আগস্ট দিবাগত রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ার এরাবিয়ার দুটি ফ্লাইটে ১৩২ যাত্রীকে আটকে দেয় ইমিগ্রেশন।এয়ার আরেবিয়া ফ্লাইটের ৫১ জন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৮১ জনসহ মোট ১৩২ জন আটকে দেয়া হয়। স্থানীয় স্পন্সসর ৫ জনকে নিয়ে যায়। আর বাকি ১২৭ জনকে ১৬ ও ১৭ আগস্ট দুটি আলাদা ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরত পাঠায় আবুধাবি ইমিগ্রেশন।

আরও পড়ুন:  সৌদিতে বানিজ্যিক ফ্লাইটের অনুমতি পেলেও অবতরণের পায়নি বিমান

গত মঙ্গলবার ( ১৮ আগস্ট ) রাত ৩টায় আবুধাবি বিমানবন্দরে ৪১ জন যাত্রী নিয়ে অবতরণ করেছিলো বিমানের একটি ফ্লাইট। সে সময় ১২ জন যাত্রী আবুধাবি প্রবেশের সুযোগ পেলেও আটকা পড়েন ২৯ জন। আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় পরদিন রাতে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি পায় আটকে থাকা প্রবাসীরা।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার ( ১৮ আগস্ট ) বিমানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে  জানানো হয়, আবুধাবি কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করছেন না বিধায় আপাতত আবুধাবিগামী কর্মীভিসাধারীদের বহন করা হবে না ।  এজন্য ৩১ শে আগস্ট পর্যন্ত  সপ্তাহে ছয়টির পরিবর্তে দুইটি ফ্লাইট পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেয় বিমান।

এতে করে চরম বিপাকে পড়েন দেশটিতে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীরা। অনেকেই টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন, অনেকেই ফ্লাইটের জন্য গ্রাম থেকে ঢাকায় অবস্থানও করছেন। কিন্তু এই প্রবাসীরা সঠিক কোন তথ্য পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্ররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোন তথ্য জানানো হচ্ছে না প্রবাসীদের। কোন পদ্ধতিতে তারা যেতে পারবেন বা যেতে পারবেন না- সঠিক কোন তথ্য নেই তাদের কাছে। আবার আবুধাবি কর্তৃপক্ষ থেকেও কোন ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে না। সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তায় প্রবাসীরা।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোকাব্বির হোসেন প্রবাস বার্তাকে বলেন, ” আমরা কর্মীদের নিতে প্রস্তুত। তবে আবুধাবি ইমিগ্রেশন যখন ফিরেয়ে দিচ্ছে, তখন প্রবাসী যাত্রীরা যেমনি ভোগান্তিতে পরছেন, আমারও লোকশান হচ্ছে। ৪০-৫০ যাত্রী নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করেও যদি আবার তাদের ফিরিয়ে আনতে হয়- এটা তো বিব্রতকরও। এখন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রবাসী কর্মীদের কিভাবে পাঠাবে সেই সিদ্ধান্ত তাদের। সবুজ সংকেত পেলেই আমরা প্রস্তুত রয়েছি।”

আরও পড়ুন:  ‘সৌদি আকামা ও ভিসার মেয়াদ নির্ভর করছে কফিলের ওপর’

এমন বাস্তবতায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন জানান, ” আমরা সব ধরণের যোগাযেোগ করে চলছি। প্রবাসী কর্মীদের কিভাবে ঝামেলামুক্তভাবে পাঠানো যায় সেই চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্কার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আবুধাবিতে দূতাবাসও দেশটির কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছে।”

এদিকে, মন্ত্রণালয়ের নির্ভযোগ্য সূত্রে জানাগেছে, আপাতত প্রবাসী কর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দেবে না আবুধাবি। অন্য ভিসাধারীরা যেত পারবেন। করোনা পরিস্থিতি আরও  উন্নতি না হলে, ছুটিতে থাকা বিদেশি কর্মীদের নেবে না। আবুধাবি সরকারের পরবর্তি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগ পর্যন্ত প্রবাসী কর্মীদের অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন ঐ কর্মকর্তা।

আমিরাতে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব ইউএই’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম প্রবাস বার্তাকে বলেন, ১৮ আগস্ট আমিরাতে প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম খালিজ টাইমস-এ নতুন এক পদ্ধতির কথা জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই নিয়ম অনুসর করে প্রবাসী কর্মীদের আসার সুযোগ দেয়া। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আবুধাবি বিমানবন্দরে আটকে থাকার পরও যারা প্রবেশ করতে পরেছেন তারা ঐ পদ্ধতি অনুসরণ করেই টিকিট সংগ্রহ করেছিল। আর আমিরাত আইসিএ এপ্রুভাল উঠিয়ে দিলেও হয়তো তাদের সিস্টেমে আপডেট দিতে সময় লাগতে পারে। এজন্য প্রথম দিনের ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের ফেরত পাঠানো হয়। তবে ১৮ আগস্টের যাত্রীরা প্রবেশ করতে পেরেছেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares