প্রচ্ছদ এডিটরস পিক

করোনাকালের প্রাকৃতিক পরিবেশ

19
করোনাকালের প্রাকৃতিক পরিবেশ
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ড. মো. হুমায়ুন কবীর

এমনিতে সারা দেশের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় করোনাকালে প্রাকৃতিক পরিবেশের উলেস্নখযোগ্য উন্নতি সাধিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণামতে সবকিছুরই একটি পজিটিভ এবং একটি নেগেটিভ দিক পরিলক্ষিত হয়। যেমন- বন্যা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও তার মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর উপরে ওঠানোর জন্য প্রতি বছর না হলেও ২-৫ বছর পর পর হালকা, মাঝারি ধরনের বন্যা হওয়ার প্রয়োজন পড়ে। ঠিক তেমনি এবারের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষতিকর মহামারি করোনাকালেও কোনো কোনো বিষয়ে পজিটিভ অনেক কিছু দেখতে পাচ্ছেন। তার মধ্যে মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন করা, মানুষে মানুষে মমত্ববোধ জাগ্রত হওয়া, আবার অনেক ধন-সম্পতি থাকলেও সেগুলোর আসলে কোনো মূল্য নেই, যদি না তা মানুষের কল্যাণে না আসে।

তাই এবারের করোনাকালে অন্যতম শিক্ষা হলো যার যা আছে তা থেকে কিছুটা হলেও মানবকল্যাণে ব্যয় করা। যাহোক, বলছিলাম করোনাকালের প্রাকৃতিক পরিবেশের কথা। এসময়ে বিশ্বময় সবচেয়ে বেশি স্বস্তিতে রয়েছে সেই প্রাকৃতিক পরিবেশ। বাংলাদেশের কথা ধরি তাহলে সেটি নিয়েই আজকের এ নিবন্ধ। আমরা জানি বাংলাদেশে এবছর ৮ মার্চ ২০২০ তারিখে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তখন থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৫ মাসাধিককাল ধরে দেশে মানুষের চলাচলকে সীমিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অনেকদিন বন্ধ ছিল কল-কারখানা, গাড়ি, যানবাহন, রেল, পেস্নন ইত্যাদি। এখন সীমিত আকারে সেগুলো চালু হলেও পুরোদমে তা শুরু করেনি। এর সুফল হিসেবেই আমরা এখন একটি নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখতে পাই চারদিকে।

আমরা জানি এবং সবসময় বলেও থাকি, বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশ খুব সুন্দর। আসলেও তাই। কারণ সেখানে নেই কোনো গাড়ি, নেই কোনো শব্দদূষণ, কল-কারখানা নেই, সেজন্য নেই কোনো বর্জ্য। আর তাই সেখানকার নির্মল আকাশ-বাতাস সবই আমাদের চিরচেনা। তেমনি একটি প্রাকৃতিক পরিবেশ এখন বিরাজ করছে। করছে বাংলাদেশের চিরচেনা জনপদ শহরাঞ্চলেও। কারণ প্রায় ৫ মাসাধিককাল সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ তেমনভাবে নষ্ট হয়নি সেজন্য শহরেই এখন গ্রামীণ আমেজ পাওয়া যাচ্ছে। আর এটি যে শুধু দেশের ছোট বা প্রান্তিক শহর তাই নয়- তা খোদ রাজধানী ঢাকা শহরের চিত্রও তাই।

আরও পড়ুন:  কৃষি ও শিল্প খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে

এখন তো আর করোনার জন্য আমরাও আগের মতো হরহামেশা্‌ বাইরেও বের হচ্ছি না। তাই শুধু টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও দেখে প্রাণ ও মনটা জুড়িয়ে যায়। এমনকি রাজধানীর রাজপথের ডিভাইডারে আগে যেসব পাতাবাহারি গাছ দেখে চেনার উপায় ছিল না যে সেটা জীবন্ত না মৃত। অথচ সে সব গাছ এখন দেখতে কত সতেজ কত সবুজ মনে হয়। এ যেন সত্যি সত্যিই অন্যরকম রাস্তা, অন্যরকম বাগান। আসলে শহরের ভিতর রাস্তা-ঘাটে এবং শহরের বাইরে রাস্তার ডিভাইডার কিংবা রাস্তার দুই ধারে এমন দৃষ্টিনন্দন গাছ লাগানোই হয় একদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবর্ধন করা এবং অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষা করা। অথচ যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং কল-কারখানার অপসারিত বর্জ্য এসব উদ্যোগকে একেবারে শেষ করে দেয়।

রাস্তার ধার, সড়ক-মহাসড়কের ডিভাইডার, পুকুরের পাড়, নদীর ধার, খেলার মাঠ, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খোলা ময়দান ও মাঠ, স্টেডিয়াম, ঈদগাহ মাঠ ইত্যাদি প্রত্যেকটি প্রাঙ্গণ এখন যেন প্রাকৃতিককে আলিঙ্গন করছে। সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে গাছের পাতা। সাদা যেমন আরও সাদা হলে ভালো লাগে, কালো যখন খুব কালোই ভালো, লাল যখন আরও লালেই ভালো তখন সবুজ তো সবুজেই ভালো লাগবে। কিন্তু এ করোনাকালে যেন আমাদের প্রকৃতির সবুজাভ বর্ণ যেন সবার মন মাটিতে তুলছে।.

আরও পড়ুন:  বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবসের গুরুত্ব

তবে এটি করোনাকালের একটি অন্যতম শিক্ষা। কারণ আজ হোক কাল হোক সৃষ্টিকর্তার কৃপায় অবশ্যই করোনাকাল কেটে যাবে কিন্তু এর মাধ্যমে আমরা চারদিকে যে সৌন্দর্যের প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখলাম। তা কি আর স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যাবে! কিন্তু আমরা এমন পরিবেশেই সব সময় দেখতে চাই। তাই করোনাকাল চলে গেলেও আমাদের এ প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার। যে সব কাজ করলে প্রাকৃতিক এসব পরিবেশ ঠিক থাকে আমাদের যে কোনো মূল্যে সে কাজগুলোই করতে হবে।

প্রাকৃতিক পরিবেশ বলতে শুধু গাছ-গাছড়াই বোঝানো হয় এমনটি নয়। আমাদের চারপাশে সামাজিক ও নোংরা দূষণ বন্ধ করতে পারলেও প্রাকৃতিক পরিবেশ সব সময় এভাবেই রাখা সম্ভব। আমরা যেন এ করোনাকালে সেই শিক্ষাই গ্রহণ করি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 5
    Shares