প্রচ্ছদ Featured News নুসরাতের ঘটনা প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পুলিশের গায়েবি মা*মলা ও চার্জশিট প্রদান

নুসরাতের ঘটনা প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পুলিশের গায়েবি মা*মলা ও চার্জশিট প্রদান

62
পড়া যাবে: 4 মিনিটে

ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌ*ন নি*পীড়নের পর শ*রীরে আ*গুন দিয়ে হ*ত্যার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় চার সাংবাদিকের বি*রুদ্ধে একাধিক ‘গায়েবি’ মা*মলার অভিযোগ জমা দিয়েছে পুলিশ। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ফেনীর চারটি থা*নায় বিভিন্ন সময় করা নয় মা*মলায় চার সাংবাদিকের নাম দিয়ে চা*র্জশিট প্রদান করে পুলিশ।

সদ্য প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার মা*মলাগুলো*তে ওই চারজনের নাম দিয়ে আ*দালতে অ*ভিযোগপ*ত্র দিতে ত*দন্ত কর্মকর্তাদের বাধ্য করেছেন বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন।

জেলা পুলিশের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নুসরাত হ*ত্যার ঘটনায় সংবাদ প্রকাশে ক্ষিপ্ত হয়ে এসপি জাহাঙ্গীর আলম সরকার ফেনী ছাড়ার আগেই কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এ সময় এসপি তাকে নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি কয়েকজন সাংবাদিকের নামের তালিকা সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের ধরিয়ে দিয়ে বিভিন্ন ত*দন্তাধী*ন মা*মলায় তাদের নাম চা*র্জশি*টে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

কয়েকজন ওসি কৌশলে এড়িয়ে গেলেও অন্যরা চাকরিতে উন্নতির ভ*য়ে আদালতে চা*র্জশিট দাখিলে বাধ্য হন। ১২ মে সন্ধ্যায় তার বদলি আদেশ আসার পর তিনি ওই রাতেই জরুরি ভিত্তিতে ওসিদের ডেকে চাপ প্রয়োগ করে কয়েকটি চা*র্জশিট তৈরি করান। পরদিন তা দাখিলে বা*ধ্য করেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ওসি জানান। এমনকি বিষয়টি গোপন রাখতেও কোর্ট পরিদর্শকসহ অন্যদের নির্দেশ দেন তিনি।

সূত্র আরো জানায়, এখন পর্যন্ত সাংবাদিকদের বি*রুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় ৩, সোনাগাজী মডেল থানায় ২, দাগনভূঞা থানায় ২ ও ছাগলনাইয়া থানায় ২টি মা*মলার চা*র্জশিট আ*দালতে জমা হয়েছে।

সব কটি মা*মলায় স্থানীয় দৈনিক ফেনীর সময় ও সাপ্তাহিক আলোকিত ফেনীর সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, বাংলানিউজের স্টাফ রিপোর্টার ও সাপ্তাহিক হকার্স’র বার্তা সম্পাদক সোলায়মান হাজারী ডালিম, দৈনিক অধিকারের প্রতিনিধি ও অনলাইন পোর্টাল ফেনী রিপোর্ট’র সম্পাদক এসএম ইউসুফ আলী এবং দৈনিক সময়ের আলোর প্রতিনিধি ও দৈনিক স্টার লাইনের স্টাফ রিপোর্টার মাঈন উদ্দিন পাটোয়ারীর নাম রয়েছে।

এর মধ্যে ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর ছাগলনাইয়া থানায় বিশেষ ক্ষ*মতা আ*ইনে একটি মা*মলা দা*য়ের করেন এসআই আলমগীর হোসেন। ওই মা*মলার এই চার সাংবাদিকসহ ৩৮ জনকে অ*ভিযুক্ত করে চলতি বছরের ৯ মে আদালতে চা*র্জশিট দাখিল করেন থানার ওসি (তদন্ত) সুদীপ রায়।

আরও পড়ুন:  নুসরাত হ’ত্যায় অধ্যক্ষ সিরাজসহ সব আ’সামিকে ফাঁ’সির দ’ণ্ড দিল আদালত

২০১৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানার এসআই মাসুদ সিকদার বা*দী হয়ে ২৫ জনকে আ*সামি করে একটি মা*মলা দা*য়ের করেন। ২২ মে দুই সাংবাদিকসহ ২২ জনকে অ*ভিযুক্ত করে আদালতে চা*র্জশি*ট প্রদান করেন ত*দন্তকা*রী কর্মকর্তা। ২০১৮ সালের ২৭ অক্টোবর জনৈক ওমর ফারুক ১৭ জনকে আ*সামি করে দাগনভূঞা থানায় মা*মলা দা*য়ের করেন। মা*মলার বা*দী ওমর ফারুকের দাবি, তাকে না জানিয়ে ১০ মে ৩৭ জনের নামে চা*র্জশিট প্রদান করেন মা*মলার ত*দন্ত কর্মকর্তা।

এছাড়াও ছাগলনাইয়ায় কর্মরত দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১৭ মার্চ আ*ইসিটি আ*ইনে দা*য়েরকৃত মা*মলার বা*দী মজিবুল হকের সঙ্গে একই বছরের ৮ জুলাই সমঝোতা হয়। বা*দীর সঙ্গে সমঝোতা হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তাদের বি*রুদ্ধে চলতি বছরের ২৭ মে আদালতে চা*র্জশিট প্রদান করেন।

দৈনিক যুগান্তর ছাগলনাইয়া প্রতিনিধি নুরুজ্জামান সুমন ও অনলাইন পোর্টাল ছাগলনাইয়া ডটকম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির লিটন জানান, প্র*তিহিং*সায় এসপি জাহাঙ্গীর আলম সরকারের নির্দেশে ওসি (তদন্ত) সুদীপ রায় তাদের বিরুদ্ধে চা*র্জশিট দাখিল করেন।

কর্মরত একাধিক গণমাধ্যমকর্মী জানান, ‘গায়েবি’ এসব মা*মলায় যেসব সাংবাদিকের নামে চার্জশিট দেয়া হয়েছে তাদের নামে ফেনীর কোনো থা*নায় ইতিপূর্বে সাধারণ ডা*য়েরি*ও ছিল না। বিতর্কিত এসপি জাহাঙ্গীর সরকারের রো*ষান*লে পড়ে এক সপ্তাহের মধ্যে তারা প্রায় ১০টি মা*মলার চা*র্জশি*টে আ*সামি হন।

সাংবাদিক এস এম ইউসুফ আলী জানান, দৈনিক অধিকার পত্রিকায় বেশ কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ‘গায়েবি’ মা*মলায় জ*ড়িয়ে দেওয়ার হু*মকি দেন। পরে জানতে পারেন তাকে ত*দন্তাধী*ন ৮-১০টি মা*মলা*য় চা*র্জশি*টে জ*ড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানান, নুসরাত হ*ত্যাকা*ণ্ড নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আঞ্চলিক পত্রিকাগুলোতেও সংবাদ পরিবেশিত হয়। নৃ*শং*স এ হ*ত্যাকা*ণ্ডে এসপি-ওসির কর্তব্যে অ*বহেলার নিয়ে সংবাদ পরিবেশিত হলে ক্ষু*ব্ধ হয়েই পুলিশ সুপার তাকে মা*মলায় জড়িয়ে দেন।

সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক ফেনী জেলা শাখা সভাপতি অ্যাডভোকেট লক্ষণ বণিক বলেন, যেখানে এসপি-ওসি এ বী*ভৎস ঘটনাটিকে আ*ত্মহ*ত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অ*পচেষ্টা করেছিল সেখানে সাংবাদিকদের আপ্রা*ণ চেষ্টায় প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসে। এমনকি পুলিশের ত*দন্তেও পুলিশ সুপার ও ওসির কর্তব্যে অ*বহেলা ও বি*তর্কিত ভূমিকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। এরপরও প্র*তিহিং*সাবশত সাংবাদিকদের ত*দন্তাধী*ন মা*মলায় চা*র্জশি*টে জড়িয়ে হ*য়রানি করা খুবই ন্য*ক্কারজ*নক ঘটনা। তিনি এসব মা*মলায় সাংবাদিকদের অব্যাহতির দাবি জানান।

আরও পড়ুন:  যৌ*ন নি*পীড়ন মা*মলা তুলে না নেওয়ায় নুসরাতকে হ*ত্যা,সিরাজের বি*চার শুরু

গত ৬ এপ্রিল মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুন দিয়ে হ*ত্যার ঘটনাকে সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন আ*ত্মহ*ত্যা বলে প্রচার করেন। তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রতিবেদন দেন পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার। ব*র্বরো*চিত এ ঘটনায় দা*য়েরকৃত মা*মলা*তেও অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ কয়েকজনকে আ*সামি না করতে চেষ্টা করেন এসপি-ওসি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশনার পর এবং সাংবাদিকদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে ক্রমেই ঘটনার জট খুলতে থাকে। একপর্যায়ে মা*মলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হলে ঘটনায় জ*ড়িত*রা গ্রে*প্তার হয়।

অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের তদ*ন্তে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বরখাস্ত হন ওসি মোয়াজ্জেম। কর্তব্যে অবহেলার দা*য়ে প্রত্যাহার হয়ে সদর দপ্তরে সংযুক্ত হন এসপি জাহাঙ্গীর সরকার। আরও দুই পুলিশ সদস্যকেও প্রত্যাহার করে পার্বত্য অঞ্চলে সংযুক্ত করা হয়।

অন্যদিকে ১৫ এপ্রিল উচ্চ আদালতের সা*ইবার ক্রা*ইম ডিভিশনে বে*আইনিভাবে নুসরাত রাফির জ*বানব*ন্দি ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে আ*ইসিটি আ*ইনে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মা*মলা দা*য়ের করেন ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। ওই মা*মলায় কা*রাগা*রে রয়েছেন ওসি মোয়াজ্জেম।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌ*ন নি*পীড়*নের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রে*প্তার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সা*ইক্লো*ন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শ*রীরে আ*গুন ধ*রিয়ে দেয়। টানা পাঁচ দিন মৃ*ত্যুর সঙ্গে ল*ড়ে মা*রা যান নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বা*দী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মা*মলা করেন। মা*মলার ত*দন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলম আদালতে মোট ১৬ জনকে আ*সামি করে অ*ভিযোগপত্র জমা দেন। গত ২৭ জুন মা*মলার বা*দী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাত রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ইতিমধ্যে ৫১ জনের সাক্ষ্য ও জে*রা এ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে। সুত্র:বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট: