প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকের একাউন্ট ব্যবহার : ম্যানেজারের কোটি টাকা লেনদেন চিত্র ফাঁস

34
সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকের একাউন্ট ব্যবহার : ম্যানেজারের কোটি টাকা লেনদেন চিত্র ফাঁস
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

ঠিকাদারদের ঋন দিয়ে হয়ে যান ব্যবসায়ীক পার্টনার

স্টাফ রিপোর্টার

সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক খুলনার ডুমুরিয়া শাখার এসএভিপি ও ম্যানেজার মো. মোতালেব হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যাংকের ওই শাখায় বসে তিনি এমন কোন অনিয়ম নেই যে করেননি। গ্রাহকদের মোটা অংকের ঋন দিয়ে তাদের সাথে ব্যবসায়ীক পার্টনার হন তিনি। এছাড়া ব্যাংকে চাকুরীর আড়ালে নিজের ঠিকাদারী ব্যবসার কোটি কোটি টাকা লেন দেন করেন গ্রাহকদের একাউন্টে। তার এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে টের পেয়ে অনেক গ্রাহক তাদের একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন। অনুসন্ধানে এধরনের চিত্রই ফুটে উঠেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক খুলনার ডুমুরিয়া শাখার এসএভিপি ও ম্যানেজার মো. মোতালেব হোসেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে সখ্যতা তৈরি করেছেন। বিশেষ করে একশ্রেণির ঠিকাদার ও সরকারি চাকরিজীবীরা এরমধ্যে সংখ্যায় বেশি। খুলনা ও বাগেরহাট জেলার অনেক ঠিকাদারের সাথে তার খুব বন্ধুত্বপুর্ন সম্পর্ক রয়েছে। এদের মধ্যে আবার কেউ কেউ তার ব্যবসায়ীক পার্টনার। তাদের অনেককেই তিনি ব্যাংকের ওই শাখা থেকে মোটা অংকের ঋন দিয়ে অঘোষিতভাবে সেই ব্যবসায় পার্টনার হিসেবে রয়েছেন। তাছাড়া অনেককে ঋন দিয়ে টাকার একটি অংশ ধার হিসেবে রেখে দেন। পরবর্তিতে সেই টাকা নিয়ে অনেক গ্রহকের সাথে বিবাদেও জড়িয়ে পড়েন এ ব্যাংক কর্মকর্তা। এমনই কয়েকজন গ্রাহকের সাথে কথা বলে এসকল তথ্য বেড়িয়ে আসে।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, ব্যাংকের গ্রাহক মেসার্স শাওন ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক খুলনার ডুমুরিয়া শাখায় এই প্রতিষ্ঠানের একাউন্ট নম্বর ১১৩১৩৩০০০০৮৭৮। ২০১৬ সালের ২২ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের ওই শাখায় একাউন্টটি খোলা হয়। ব্যাংক ম্যানেজার মো. মোতালেব হোসেন মেসার্স শাওন ট্রেডার্স’র মালিক মো. জলিল শিকদারের সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তাকে মোটা অংকের টাকা ঋন নেয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির মালিক তার কাছ থেকে ঋন নিবেন না বলে জানান। এরপর ওই ব্যবসায়ীর সাথে পার্টনারে ঠিকাদারী ব্যবসা শুরু করেন ব্যাংক ম্যানেজার মোতালেব হোসেন। তিনি মেসার্স শাওন ট্রেডার্স’র মালিকের কাছ থেকে বন্ধুত্ব ও ব্যবসায়ীক পার্টনারের সুযোগ নিয়ে ওই একাউন্টের বেশ কিছু চেকের পাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নিজের কাছে রাখেন।

আরও পড়ুন:  যুবদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বক্তারা: অবৈধ সরকারকে আর সময় দেয়া যায় না

ব্যাংক ম্যানেজার তাকে বলেন, ব্যবসার টাকা পয়সা লেন দেনে আমার একাউন্ট ব্যবহার করলে সমস্যা হবে। এরপর মসার্স শাওন ট্রেডার্স’র মালিকের মুঠোফোনে তার প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ওই একাউন্টের লেন দেনের ম্যাসেজ আসতে শুরু করে। তিনি তার একাউন্টে বড় বড় অংকের টাকার লেন দেনে একটু বিব্রত হতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি তার একাউন্টের এস্টেটমেন্ট তুলতে গেলে তাকে দেয়া হয়না। পরে তিনি মাত্র ১৩মাসের একটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিতে সক্ষম হন। তাতে দেখা যায় মাত্র ১৩মাসেই সোস্যাাল ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার মো. মেতালেব হোসেন ওই একাউন্টে প্রায় ৪কোটি টাকা লেন দেন করেছেন। চলতি বছরের গত ৫মার্চ তিনি এ চিত্র দেখে দ্রুত তার একাউন্টটি বন্ধ করার জন্য ব্যাংকে আবেদন করেন। এরপর তিনি অনেক চেষ্টা করেও তার একাউন্টের এস্টেটমেন্ট নিতে পারেননি। মেসার্স শাওন ট্রেডার্স’র মালিক ব্যবসায়ী  মো. জলিল এসকল অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

ব্যাংকের ওই শাখার গ্রাহক খুলনা মহানগরের সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধিন বাইপাস সড়কের বাসিন্দা (ব্যবসায়ী) মো. বাদল হোসেন জানান, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ডুমুরিয়া শাখার এসএভিপি ও ম্যানেজার মো. মোতালেব হোসেন তাকে ব্যাংক থেকে ১৫লাখ টাকা ঋন দিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি ৩লাখ টাকা রেখে দেন। তিনি ওই টাকা গ্রাহক মো. বাদলের কাছ থেকে ধার হিসেবে রেখে দেন। পরবর্তিতে নির্দিষ্ট সময়ে গ্রাহকের ওই তিনলাখ টাকা না দিয়ে নানা তালবাহানা শুরু করেন ব্যাংক ম্যানেজার মোতালেব হোসেন। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে অপর একজন ব্যবসায়ীর মধ্যস্ততায় মিট মিমাংসা করা হয়।

আরও পড়ুন:  কয়রায় লবণাক্ততা মোকাবেলায় সুপেয় পানির জন্য আরও ও সবজির জন্য ডেমো স্থাপন

বটিয়াঘাটা এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম নামে একজন গ্রাহক নিজের জমির দলিল ব্যাংকের ওই শাখায় জামানত রেখে ৫লাখ টাকা ঋন নেন। সিরাজুল ইসলাম ঋনের ওই ৫লাখ টাকা তার বন্ধু ওই ব্যাংকেরই অপর গ্রাহক মো. বাদলকে সাথে নিয়ে ব্যাংক ম্যানেজার মোতালেব’র নিকট দিয়ে আসেন। কিন্তু গ্রাহক সিরাজুল ইসলামের সেই জমির দলিল ফেরত দিতে ব্যাংক ম্যানেজার মোতালেব হোসেন কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানান। এরমধ্যেই গত জুলাই মাসে করোনা আক্রান্ত হয়ে গ্রাহক সিরাজুল ইসলাম মারা যান। তার স্ত্রী এ প্রসঙ্গে ব্যাংক ম্যানেজারের কাছে গেলে তিনি জানান তার স্বামীর ঋনের টাকা পরিশোধ হয়নি। এনিয়ে অনেক শালশী বৈঠকের পর ব্যাংক ম্যানেজার মোতালেব হোসেন স্বীকার করেন মৃত গ্রাহক সিরাজুল ইসলাম তার কাছে ১লাখ টাকা পাবেন।

ওই ঘটনার স্বাক্ষী ব্যাংকেরই অপর গ্রাহক মো. বাদল জানান, আমি সাথে থেকে ৫লাখ টাকা দিয়ে এসেছি। পরে কি হয়েছে তা আর জানিনা।

এসকল অভিযোগের বিষয়ে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক খুলনার ডুমুরিয়া শাখার এসএভিপি ও ম্যানেজার মো. মোতালেব হোসেনের মুঠোফোনে কয়েকদফা কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares