প্রচ্ছদ বাংলাদেশ শিক্ষাঙ্গন

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কম্পিউটার চোর’ ধরার কমিটিতে দ্বন্দ্ব

11
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কম্পিউটার চোর’ ধরার কমিটিতে দ্বন্দ্ব
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি  :   বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে ৪৯টি কম্পিউটার চুরির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে হুমকি দিয়েছেন এক সহকারী রেজিস্ট্রার।

তদন্ত কমিটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, গত ১৮ আগস্ট কমিটির সকল সদস্যের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক আদেশের মাধ্যমে সহকারী রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলামকে তদন্ত কমিটি থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ১৯ আগস্ট নজরুল ইসলাম তার অব্যাহতিপত্র গ্রহণ করে তদন্ত কমিটির প্রধানকে লিখিতভাবে তাকে অব্যাহতি দেয়ার কারণ জানাতে বলেন। এসময় তদন্ত কমিটির প্রধান জানান তিনি লিখিতভাবে কারণ জানাতে বাধ্য নন।

এর প্রেক্ষিতে মো. নজরুল ইসলাম তদন্ত কমিটির সভাপতিসহ তদন্ত কমিটিকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করেন। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির পাঁচ সদস্য মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বশেমুরবিপ্রবির রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।

তবে হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি তদন্ত কমিটির কাউকে কখনোই হুমকি দেইনি। বরং কম্পিউটার চোর ধরার ক্ষেত্রে আমি সবচেয়ে সক্রিয় থাকার পরও এবং পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার পরও আমাকে তদন্ত কমিটি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে৷ হতে পারে চোর ধরাকে বিঘ্নিত করতেই এমনটি করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:  ধর্ষণের প্রতিবাদে উদীচী জবি সংসদের সাংস্কৃতিক সমাবেশ

এদিকে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির ব্যক্তিদের মধ্যকার আলোচনার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যার একটিতে দেখা যায় সহকারী রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলাম হিরা তদন্ত কমিটির প্রধান মো. আব্দুল কুদ্দুস মিয়া, বশেমুরবিপ্রবির রেজিস্ট্রার ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. নূরউদ্দিন আহমেদ, বশেমুরবিপ্রবির প্রক্টর এবং তদন্ত কমিটির সদস্য ড. রাজিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলছেন। সেখানে নজরুল ইসলাম তাকে অব্যাহতি দেয়া প্রসঙ্গে তাদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলাসহ ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছেন।

অপর ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদ, প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান এবং তদন্ত কমিটি প্রধান মো. আব্দুল কুদ্দুস মিয়া কথা বলছেন। যেখানে চিঠির একটা বিষয় নিয়ে প্রক্টর কথা বলাকালীন রেজিস্ট্রার বিষয়টি নিয়ে অন্যভাবে কথা বলা শুরু করেন। এর প্রেক্ষিতে প্রক্টর রেজিস্ট্রারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘স্যার আপনি বেশি কথা বলেন।’

ইতোমধ্যে এই ভিডিওটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদকে হুমকি দিয়েছেন এবং রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদ ঘটনার বিচার চেয়ে উপাচার্যের নিকট আবেদন করেছেন।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার ড. নূরউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রক্টর আমাকে হুমকি প্রদান করেননি তবে প্রক্টরের একটি আচরণ আমার খারাপ লেগেছে এবং উপাচার্যকে শুধুমাত্র খারাপ লাগার বিষয়টি অবহিত করেছি।

আরও পড়ুন:  ২ বছর পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর

এ সময় তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে উপাচার্য বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ড. রাজিউর রহমান বলেন, রেজিস্ট্রার স্যার আমার পিতৃতুল্য, আমি তাকে অত্যন্ত সম্মান করি এবং তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে কোনো কথা বলিনি। আমাদের তদন্ত কমিটির মিটংয়ের প্রয়োজন ছিল কিন্তু একটি বিষয় নিয়ে আলাপকালে স্যার আলোচনা দীর্ঘায়িত করছিলেন এ কারণে কথাটি বলেছিলাম।

এ সময় তিনি আরও বলেন, তদন্ত কাজকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি মহল বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ঈদুল আজহার ছুটিতে বশেমুরবিপ্রবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি থেকে ৪৯টি কম্পিউটার চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থী মাসরুল ইসলাম পনিসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে।

জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই মো. নজরুল ইসলাম অভিযুক্ত পনিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করেছেন এবং পনিকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন মো. নজরুল ইসলাম পনির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 8
    Shares